আশা কর্মীদের নিয়ে সোশ্যাল সাইটে এত খবর কেন - school book solver

Saturday, 18 July 2026

আশা কর্মীদের নিয়ে সোশ্যাল সাইটে এত খবর কেন

 



আশা কর্মীদের নিয়ে এত খবর কেন

এখন সোশ্যাল সাইট খুললেই দেখা যাচ্ছে আশাদের সম্পর্কে অনেক বাজে বাজে কথা বলতে।  আয়ুষ্মানের কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে এক আশা দিদির মৃত্যু হলো তার কোনো খবর নেই। কোথায় সিভিক ভলেন্টিয়ার নয়তো অঙ্গন ওয়ারী । নয় তো আশা কর্মী দের নিয়ে যত খবর। এরা বেতন পায় না। এরা  ভাতা পায়  তাদের নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন? যারা দুমুঠো খাবারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছে তাদের পিছনে লাগতে একটু লজ্জা বোধ করে না। এরা সারাদিন কাজ করে ২০০ টাকা রোজও পায় না ।  যারা আশা, অঙ্গনারীদের  পেটের ভাত কেড়ে নেওয়ার জন্য যারা ওদের সম্পর্কে ভিডিও বানিয়ে বাহাদুরি নিচ্ছে। আমার মনে হয় তাদের কোনো যোগ্যতা নেই। থাকলে তারা সরকারকে তাদের যোগ্যতা দেখিয়ে  বলতো এইসব ভিডিও করে পয়সা ইনকাম করতে ভালো লাগেনা একটা কাজ দিন।  ঘটনাটা আয়ুষ্মানের কাজকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। অনেকের বক্তব্য মাইনে বেড়েছে কাজ করতে হবে। আর না হলে কাজ ছেড়ে দিন।  তাতে তাদের শারীরিক অবস্থা ভেঙ্গে পরুক আর সংসার অচল হোক। আর মৃত্যুর মুখে এগিয়ে যাক। কাজ এদের করতেই হবে।  আজকাল কি নিয়ম বদলে গেল ফেসবুক আর ইউটিউবরা  পরামর্শ দেবে আশা দিদিরা কেমন কাজ করবে? আমার মনে হয় এরা এক একটা সমাজের কুলাঙ্গার। কারণ এরা জানে না 'আশা' একটা প্রকল্প। আর এই প্রকল্পে যারা কাজ করে তারা 'আশাদিদি'। তারা সকলেই দিদি। তারা এদের গায়ে একটু কালি আঁচড় দিতে পারবে না। সকলেই কাছে এরা আশা দিদি সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চায় । আশাদিদিরা আয়ুষ্মানের কাজ করবো না বলে নাই। এরা বলতে চাইছে এই কাজের পরিধি অনেক বেশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তার জন্য এদেরকে হেল্প করা প্রয়োজন। এই বাস্তব সত্যটা অনেকে না জেনে অনেক কটু কথা বলছে। 

কোন কোন বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কাজের সঙ্গে টাকার তুলনা করছে। 

টাকা দিয়ে কাজের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই বাস্তব সত‍্যটা মূর্খ লোকেরা জানে না। আশা দিদিরা কোভিডের সময় (করোনা) সময় যে কাজ করেছিলে সেটা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না। জীবন মৃত্যুকে হাতে নিয়ে এরা মানুষের কাছে পরিষেবা দিয়েছিল। বিনিময়ে পেয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর বুকভরা আশ্বাস।  টাকা পাবো এই আশায় ওরা কাজ করেনি । তখন এদেরকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কি যেন একটা বড় কিছু উপাধি ও দিয়ে ছিলেন। আমার ঠিক মনে নেই তবে বীরঙ্গনা টাইপের কিছু হবে। মুখ্যমন্ত্রী টাকা না দিলেও দিয়েছিলেন, কাজ  করবার শক্তি প্রেরণা। আর আপনারা দিচ্ছেন তার উল্টোটা। 

এটা বন্ধ করুন। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। কারণ আপনাদের মত কুলাঙ্গাররা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন সমাজে বিষ ছড়াবে।  কারণ আপনাদের নিঃশ্বাসের মধ্যে বিষ আছে  ওই নিঃশ্বাসের বাতাস যতটা যাবে বাতাস ততটা দূষিত হয়ে পড়বে। এর শিকার আপনার ফ্যামিলি ও হবে। 

সমগ্র অংশটা দেখুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন। কেন আমি এ কথা বলছি

 কোভিডের সময় যে কাজ এরা করেছিল করার জন্য তারা কোন পয়সা পায়নি। আর পয়সার জন্য তারা আন্দোলন করেনি। তারা জানে মানুষের কাছে পরিসেবা দিতে তাদের শুধু কাজ করতে হবে । যদি আজ কবি সুকান্ত বেঁচে থাকতেন তাহলে নিশ্চয়ই এদের নিয়ে একটা কবিতা লেখার চেষ্টা করতেন। কবি সুকান্তের একটা "রানার" কবিতা আছে। পারলে সেটা পড়ে নেবেন আর না হলে ইউটিউবে সার্চ করবেন। পেয়ে যাবেন। তারপর রানার এর জীবনের সঙ্গে এদের জীবনের একটু মিল খোঁজার চেষ্টা করবেন। তারপর কমেন্ট করবেন। বা ভিডিও করবেন।

আমি আশা দিদিদের নিয়ে ভালো কিছু লিখছি না। আর এ নিয়ে লেখা আমার পেশা নয়।  তবে আপনারা যদি এইভাবে চালিয়ে যান আমি ও ইতিহাস খুলে খুলে আপনাদের দেখিয়ে দেব এদের ভূমিকা কি ছিল, আর এখন কি আছে।

(১) আমি দেখেছি বন্যার সময় এক আশাদিদিকে একগলা জলে দাঁড়িয়ে নৌকার উপর কোন বাচ্চাকে পোলিও খাওয়াতে। যে মানুষটা এতটা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছিল সেটা কত টাকা হিসাব করবেন?  ঘটনাটা না দেখলে গুগলে সার্চ করে দেখে নেবেন।

(২) আমি দেখেছি  ঝড় জলের রাত্রে প্রসব বেদনা উঠা মাকে  সঠিক পরিষেবা দিতে, একটা ভাঙ্গা টোটো করে হাসপাতালের দিকে যেতে। তিনি জলে ভিজে গেলেও প্রসুতি মাকে জলে ভিজতে দেননি। এগুলো দেখলে খারাপ কমেন্ট লেখার জন্য আঙ্গুলটা ব্যবহার করতেন না।

(৩) আমি দেখেছি এক গরিব মানুষের বাচ্ছা  ভ্যাকসিন নেওয়ার পর জ্বর এসেছিল। আশা দিদি নিজে থেকে খরচা করে ডাক্তারি নিয়ে যায় বাড়িতে। সারারাত সেখানে থেকে পরিষেবা দিয়েছিল। 

এই সব দেখে আমার বুকটা গর্ব ভরে যায়। এই ঘটনাগুলো আপনাদের কাছে একটা লাইক পর্যন্ত পায় না। 

আপনার বাড়িটা যদি রাস্তার ধারে হয় তাহলে গভীর রাতে যদি কোন টোটো বা গাড়ির শব্দ শুনতে পান,তখন একটু বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখবেন ওটা কোনো আশা কর্মীকে দেখতে পাবেন। কারণ এদের দিনরাত কাজ করে যেতে হয়।

তাই বলছি নাবালকের মতো না থেকে একটু সাবালক হয়ে সংযত হন । আর এদের ঝাড়াই- বাছাইয়ের কথা না ভেবে নিজেদের স্বভাবের একটু ঝাড়াই -বাছাইয়ের কথা ভাবুন। আর না হলে আপনাদের মত কুলাঙ্গার সমাজের বুকে বিষ ছড়াবে। কারণ আপনাদের নিঃশ্বাসের মধ্যেও বিষ আছে।


 তাই এদের বিরুদ্ধে কোন বাজে কথা না বলে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। যাতে এরা সমাজের  সঠিক পরিচয়টা দিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।।

 সবশেষে বলি, নিশ্চয়ই একুশে জানুয়ারি এদের যে আন্দোলনটা দেখেছিলেন এটা শুধু বাংলার মানুষ দেখেনি। গোটা পৃথিবীর মানুষ দেখেছিল। সমগ্র মিডিয়া চ্যানেল ৮ ঘন্টা কভারেজ করেছিল। এরা যেমন লড়াই করতে জানে, এরা জানে কোন কাজটা কখন করতে হবে। আর কিভাবে করতে হবে। তার জন্য আশা করি যারা কমেন্ট করছেন বা কোন ভিডিও করে জ্ঞান দিতে হবে না।

 নোংরা স্বভাবটা একটু বদলান। কারণ আপনাদের ভাষা জ্ঞান নেই। 'আমি ভাত খাই" বানানটা লেখেন , 'আমি ভাত খায়'। অবশ্য তোমাদের দোষ দিতে চাইছি না। কারণ পাশ ফেলতে উঠে গেছে। সাদা খাতা দিয়ে মাধ্যমিক পাস হয়ে যাচ্ছে। 

যারা কমেন্ট করছে তাদের উদ্দেশ্যে বলি- আমি দেখেছি লাইভ চ্যানেলে কমেন্ট করে অনেক ছেলে মেয়ে বিবাহ হয়ে গেছে। যদি এ ধরনের মানসিকতা কথা থাকে তাহলে চালিয়ে যাও। কিছু না হোক তোমাদের বাবা-মা হয়তো একটা বৌমার মুখ দেখতে পাবে।


আশা দিদিদের উদ্দেশ্যে বলি- আজ না হোক কাল আপনারা অবশ্যই সকলেই অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন। আমার আমার দৃঢ় বিশ্বাস , সরকার তার নিজের কর্মচারীদের না দিয়ে থাকতে পাবেন না।  কারণ আপনারা সরকারের বড় সৈনিক। আগের মুখ্যমন্ত্রী ভাষায় বলি বীরঙ্গনা। কি ঠিক বললাম তো? আর কারন আমি তো কিছু দিতে পারবো না। শুধুমাত্র বীরঙ্গনাটা বললাম‍। বড়দের প্রণাম জানিয়ে ছোটদের ভালোবাসা জানিয়ে আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া তোমাদের এক সঙ্গীর আত্মার শুভকামনা জানিয়ে শেষ করছি।