পথের দাবী গল্পের বড় প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণি - school book solver

Thursday, 16 July 2026

পথের দাবী গল্পের বড় প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণি



পথের দাবী গল্পের বড় প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন > পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।- 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

উত্তর > আলোচ্য অংশটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' রচনাংশ থেকে গৃহীত। পাঠ্যাংশটি থেকে জানা যায়, পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অসাধারণ পারদর্শী, ডাক্তারিতে বিলাতি ডিগ্রিধারী এক রাজদ্রোহী।

|| সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে যাকে নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হল সে নিজের পরিচয় দিল গিরীশ মহাপাত্র বলে। রুগ্ণ চেহারার বছর ত্রিশ-বত্রিশের লোকটির সাজপোশাক ভারী অদ্ভুত। কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল অন্তর্ভেদী। সে তেলের খনিতেই কাজ করত। বর্মা থেকেই সে রেঙ্গুনে এসেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল লোহার কম্পাস, কাঠের ফুটবুল, একটা টাকা, কিছু বিড়ি, একটা দেশলাই আর একটা গাঁজার কলকে। নিমাইবাবু তাকে গাঁজার কলকে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে সে। জানায়, কলকেটা সে পথে কুড়িয়ে পেয়ে রেখে দিয়েছে। সে নিজে গাঁজা খায় না বটে, তবে প্রয়োজনে অন্যকে বানিয়ে দেয়। কিন্তু তার কথায় কেউই বিশ্বাস করে না। বরং গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা, সাজপোশাক আচার-আচরণ ও কথাবার্তা থেকে থানায় উপস্থিত সকলেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয় যে, এই ব্যক্তি কোনোভাবেই সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে না। তাই তাকে নিয়ে খানিক হাসিতামাশার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


প্রশ্ন > 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে- বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও ।

অথবা, 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে— বাবুটি কে? তাঁর স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ অধীনস্থ এক বাঙালি পুলিশকর্তা নিমাইবাবু। তিনি পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট হিসেবে চিহ্নিত ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন।

। বছর ত্রিশ-বত্রিশের ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্রের ফরসা রং রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে। রোগা চেহারার মানুষটি যখন কাশতে কাশতে থানায় প্রবেশ করল তখন তার দেহের সামগ্রিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সেটি দ্রুত বেগে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কিন্তু তার রোগা মুখের দুটি চোখের দৃষ্টি ভারী অদ্ভুত। জলাশয়ের মতো গভীর সে চোখের সঙ্গে খেলা চলবে না। দূরে থাকতে হবে। সেই ক্ষীণ চোখের অতলে কোথাও যেন প্রাণশক্তি লুকিয়ে আছে, আর সেজন্যই সে বেঁচে আছে।

গিরীশ মহাপাত্র যে অত্যন্ত শৌখিন মানুষ তা তার বেশভূষাতেই প্রমাণিত চুলে বাহারি ছাঁট। তাতে সুগন্ধি নেবু তেল। গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পরনে বিলাতি মখমল পাড়ের কালো শাড়ি। হাঁটু পর্যন্ত মোজা লাল রিবন দিয়ে বাঁধা এবং পায়ে নাল লাগানো বার্নিশ করা পাম্প শু । হাতে হরিণের শিং দিয়ে বাঁধানো বেতের শৌখিন ছড়ি। এসব দেখেই নিমাইবাবু রসিকতার ছলে কথাগুলি বলেছিলেন।



প্রশ্ন >  গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা লেখো।

উত্তর > গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে ছিল ভাঙা টিনের তোরা, চাটাই জড়ানো ময়লা বিছানার বান্ডিল। নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে তল্লাশির সময় তার পকেটে গাঁজার কলকে পান। তার ট্যাক থেকে পাওয়া যায় একটি টাকা ও গন্ডা হরেক পরসা। পকেট থেকে পাওয়া যায় একটা লোহার কম্পাস ও ফুটবুল। এ ছাড়া বিড়ি-দেশলাইও পাওয়া যায়।


 প্ৰশ্ন >  ‘যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।—কাকে খোঁজার কথা বলা হয়েছে ? যাকে থানায় আনা হয়েছিল তার কালচারের পরিচয় দাও ।

উত্তর >  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী' উপন্যাসের আমাদের পাঠ্য অংশে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের কালচারের কথা বলা হয়েছে।

।। পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেপ্তার করা।  তিনি ছিলেন চিকিৎসাবিদ্যায় সুপণ্ডিত বহুভাষাবিদ ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব; তাই সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে আটক গিরীশ মহাপাত্রের কোনো মিল থাকাই সম্ভব নয়। গিরীশ মহাপাত্রের মাথার বাহারি ছাঁট, চুলে সুগন্ধি তেল, পরনে রামধনু রঙের জাপানি সিল্কের পাঞ্জাবি ও বিলাতি মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম কালো শাড়ি, পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল, পায়ে হাঁটু পর্যন্ত লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা সবুজ মোজা ও বার্নিশ করা পাম্প শু, হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি। খানাতল্লাশির সময় তার ট্যাক ও পকেট থেকে বিভিন্ন মামুলি সামগ্রীর সঙ্গে একটি গাঁজার কলকেও পাওয়া যায়। গিরীশ গাঁজা খাওয়ার কথা বারবার অস্বীকার করলেও, গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণই তার মধ্যে বিদ্যমান। তাই তার পোশাক-পরিচ্ছদ দেখেই থানায় উপস্থিত অপূর্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, যে-ব্যক্তিকে তারা খুঁজছে তার কালচারের কথাটা ভেবে দেখতে। কারণ গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা, আচার-আচরণ ও কালচার -এসব কোনো কিছুই সব্যসাচীর সঙ্গে মেলে না।


প্রশ্ন > 'কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু।' -'জানোয়ারটা' বলতে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? তাকে ওয়াচ করার দরকার নেই কেন ?

উত্তর > ওর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী' রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত উক্তিটিতে ‘জানোয়ারটা' বলতে পুলিশস্টেশনে আটক গিরীশ মহাপাত্রকে বলা হয়েছে। বক্তা পুলিশের কর্মচারী জগদীশবাবু।

॥ বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে পুলিশ গিরীশ মহাপাত্রকে আটক করে। কিন্তু তার রোদে পোড়া তামাটে রং, হাঁফ ধরা কাশির দমক ও অকাল বার্ধক্যের ভগ্নস্বাস্থ্য দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। বিশেষত তার বেশভূষার বাহার আর পরিপাট্য দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় এই ব্যক্তিটি সব্যসাচী নয়। কারণ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সঙ্গে সন্দেহভাজন; কারখানার মিস্ত্রি গিরীশের কোনো মিল থাকাই সম্ভব নয়। খানাতল্লাশির সময় তার ট্যাক ও পকেট থেকে বিভিন্ন মামুলি সামগ্রীর সঙ্গে একটি গাঁজার কলকেও পাওয়া যায়। গিরীশ গাঁজা খাওয়ার কথা বারবার অস্বীকার করলেও, গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণই বিদ্যমান দেখে পুলিশ নিঃসংশয় হয়। নিমাইবাবু মহাপাত্রকে ছেড়ে দিলেও, এ শহরে নজর রাখার কথা বলেন। কারণ বর্মায় সব্যসাচী এসেছে। এ খবর নির্ভুল। এ কথায় জগদীশবাবু বলেন, তবে গিরীশ মহাপাত্রকে রাবার কোনো প্রয়োজন নেই।


প্রশ্ন > ‘পথের দাবী' উপন্যাস থেকে গৃহীত পাঠ্য অংশে অপূর্বর রেলযাত্রার যে-বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী'-র অন্যতম চরিত্র অপূর্ব বড়োসাহেবের নির্দেশে অফিসের কাজে ও রেঙ্গুনে ভালো না-লাগার কারণে এক বিকেলে আর্দালি ও হিন্দুস্থানি ব্রাহ্মণ পেয়াদা নিয়ে ভামোগামী ট্রেনে চড়ে বসে। তাকে স্টেশনে ছাড়তে আসে তার সহকর্মী রামদাস। গাড়ি ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে হঠাৎ সেখানে উদয় হয় পুলিশস্টেশনে দেখা গিরীশ মহাপাত্র। মহাপাত্রের সঙ্গে আলাপচারিতা শেষ হতে-না-হতেই অপূর্বর ট্রেন ছেড়ে দেয়। প্রথম অপূর্বর রেলযাত্রা শ্রেণির যাত্রী বলে তার কামরায় কেউ ছিল না। অপূর্ব সন্ধ্যাহিক সম্পন্ন করে স্পর্শদোষহীন খাবার খেয়ে শোয়ার উদ্যোগ নেয়। সে ব্যাঘাতহীন ঘুমের কথা ভাবলেও কয়েকটা স্টেশনের পরই তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। সারারাত্রিতে অন্তত তিনবার পুলিশের লোক এসে তার নাম-ঠিকানা লিখে নিয়ে যায়। অবশেষে অপূর্ব বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করায় বর্মার সাব-ইনস্পেক্টর রূঢ়ভাবে বলে, যেহেতু সে ইউরোপীয় নয় তাই তারা ইচ্ছে করলেই তাকে ট্রেন থেকে টেনে নামিয়ে দিতে পারে। প্রথম শ্রেণির যাত্রীর পরিচয় দিয়ে নিজের অধিকার রক্ষার কথা বলেও কোনো লাভ হয়নি।

পরাধীন দেশের মানুষের দুর্দশা ও লাঞ্ছনার ছবি এভাবেই অপূর্বর রেলযাত্রার ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


প্রশ্ন:  'পথের দাবী' রচনাংশ অবলম্বনে অপূর্ব চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' রচনাংশের মুখ্য চরিত্র অপূর্ব একজন সৎ শিক্ষিত, আদর্শবাদী ও সংবেদনশীল যুবক। চাকরির সন্ধানে তার বর্মায় আসা।

পাঠ্যাংশে অপূর্বর চরিত্রের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়—

> দেশপ্রেমিক : অপূর্ব পরাধীন ভারতের এক তরুণ দেশপ্রেমিক। সব্যসাচীর প্রতি সে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধাশীল। গিরীশ মহাপাত্রকে প্রথম দেখে সে হাসি সামলাতে না-পারলেও বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের বর্মায় আগমন ও পুলিশি সতর্কতা সত্ত্বেও তার ধরা না পড়া অপূর্বকে বিচলিত করে তোলে। গিরীশ মহাপাত্রের প্রতি অপূর্বর সন্দেহ যত বেড়েছে সব্যসাচীর প্রতি শ্রদ্ধা তত প্রগাঢ় হয়েছে। সহকর্মী রামদাসের কাছে তার সরল স্বীকারোক্তি ইংরেজ ভৃত্য আত্মীয়ের চেয়ে অনাত্মীয় দেশপ্রেমিক সব্যসাচী তার বেশি আপনার। দেশের অপমান ভুক্তভোগী অপূর্বর বুকে বেঁধে। শরৎচন্দ্র সেই বাঙালি বিপ্লবী তরুণদের আদর্শে অপূর্বকে গড়ে তুলেছেন যাদের ধমনিতে পরাধীনতার ও দাসত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা শোণিতের মতো প্রবাহিত। তাই সব্যসাচীর মতো রাজদ্রোহীরা অপূর্বদের আদর্শ নায়ক। এদের মধ্যেই তরুণ বিপ্লবীরা নিজেদের খুঁজে পেতেন।


> গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল : বিপ্লবী সব্যসাচীর দৃঢ়তা ও তাঁর ব্যক্তিত্বকে অপূর্ব শ্রদ্ধা করলেও প্রকাশ্যে রাজদ্রোহিতার সাহস তার ছিল না। সেই কারণে ইংরেজ বিদ্বেষী অপূর্ব তার পিতার বন্ধু নিমাইবাবু ইংরেজ কর্মচারী জেনেও তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল।

এভাবেই ‘পথের দাবী' উপন্যাসের কথক অপূর্ব পরাধীন ভারতের শিক্ষিত তরুণদের এক সার্থক প্রতীক চরিত্ররূপে প্রতিভাত হয়েছে।


প্রশ্ন: পথের দাবী গল্পে নিমাইবাবুর চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তর >  অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা কালজয়ী রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী' থেকে গৃহীত 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে নিমাইবাবু সম্পর্কে যা জানা যায়, তা হল-নিমাইবাবু হলেন কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্বর পিতৃবন্ধু, সেই সূত্রে তার আত্মীয়। অপূর্বর পিতা কোনো এক সময়ে তাঁকে চাকরিতে ঢুকিয়েছিলেন। এই সূত্রে যে- সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছে, তা দু-পক্ষই বহন করে নিয়ে চলেছে। রেঙ্গুনের পুলিশস্টেশনে বাংলা পুলিশের দারোগা নিমাইবাবুকে ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী ওরফে গিরীশ মহাপাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। তবে অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নিমাইবাবুও সব্যসাচীকে চিনতে ভুল করে ফেলেন। তাকে সাধারণ গঞ্জিকা সেবক বলে ছেড়েও দেন। তবে তাঁর স্নেহপ্রবণ মন বোঝা যায়, যখন গিরীশ মহাপাত্ররূপী সব্যসাচীর রুগ্‌ণ দেহ দেখে তিনি কোমল স্বরে তাকে গাঁজা না-খাওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন 'বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।' এক্ষেত্রে এক প্রৌঢ় স্নেহশীল পিতার প্রতিচ্ছবি নিমাইবাবুর মধ্যে ফুটে ওঠে।

প্রশ্ন: পথের দাবী গল্পে রামদাস তলওয়ারকর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' উপন্যাসের একটি পার্শ্বচরিত্র হল রামদাস তলওয়ারকর। অপূর্বর সহকর্মী তলওয়ার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র না হয়েও যথেষ্ট গুরুদায়িত্ব পালন করেছে। সেটা অবলম্বন করেই পাঠ্য অংশে অপূর্ব নিজের ভাবনাচিন্তা বা তলওয়ারকর সহকর্মীর চেয়েও অনেক বেশি সব্যসাচীকে দেখে আনমনা অপূর্বর বাড়ির পরিস্থিতি কুশল কিনা, তা সে জানার চেষ্টা করেছে। তার স্ত্রী প্রতিদিন অপূর্বর জলযোগ সরবরাহ করেছে। তলওয়ারকর অপূর্বর সমস্ত কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছে—তা সে অপূর্বর ঘরে চুরি ও উপরতলার ক্রিশ্চান মেয়ের দ্বারা সম্পদ রক্ষার গল্পই হোক বা ইংরেজ কর্তৃক অপূর্বর অপমানের কাহিনিই হোক। রেঙ্গুন পুলিশস্টেশনে দেখা অদ্ভুত দর্শন গিরীশ মহাপাত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রচণ্ড হাসিতে ফেটে পড়েছে অপূর্ব। কিন্তু সঙ্গ দিতে গিয়ে তলওয়ারকর কখনোই অপূর্বর ছায়াতে পরিণত হয়নি। অপূর্বকে ট্রেনে তুলতে গিয়ে গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে তার মনে সন্দেহ জেগেছে। প্রখর বুদ্ধিমান ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচীও তার মন থেকে সন্দেহ দূর করতে পারেনি। রামদাস মনে মনে গিরীশের প্রকৃত পরিচয় হাতড়ে বেড়িয়েছে। এভাবেই বুদ্ধিতে, বন্ধুত্বে, সাহচর্যে এবং সমবেদনায় রামদাস স্বল্প পরিসরেও তার স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে।