পথের দাবী গল্পে সকল প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণী বাংলা - school book solver

Tuesday, 14 July 2026

পথের দাবী গল্পে সকল প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণী বাংলা

 


পথের দাবী গল্পে 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর


প্রশ্ন 'কেবল আশ্চর্য সেই রোগা মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের দৃষ্টি /--- কার চোখের কথা বলা হয়েছে। চোখ দুটির বর্ণনা দাও।

অথবা, 'কেবল আশ্চর্য সেই রোগা মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের দৃষ্টি / -কার কথা বলা হয়েছে? দৃষ্টির বর্ণনা দাও

উত্তর >  উদ্ধৃতাংশে শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী ওরফে গিরীশ মহাপাত্রের চোখের কথা বলা হয়েছে।

চোখ দুটির বর্ণনা: 

অদ্ভুত বেশভূষাধারী ও রুগ্ণ গিরীশ মহাপাত্রের চেহারার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল তার চোখ দুটি। সে-চোখ ছোটো কী বড়ো, টানা কী গোল, দীপ্ত কী প্রভাহীন সে-বিচার করতে যাওয়া বৃথা। অত্যন্ত গভীর জলাশয়ের মতো চোখ দুটিতে এমন কিছু আছে যেখানে কোনো খেলা চলবে না, যেখান থেকে সাবধানে দুরে দাঁড়ানোই শ্রেয়। আসলে গিরীশ মহাপাত্রের চোখ ছদ্মবেশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অসাধারণ সব্যসাচী মল্লিককেই প্রকাশ করে।


 প্রশ্ন: 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে তা স্বীকার করতে হবে।- 'বাবুটি' কে? তার বেশভূসার পরিচয় দাও।

অথবা, 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে তা স্বীকার করতে হবে।–কার সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করা হয়েছে? তার শখের পরিচয দাও।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী'-র আলোচ্য অংশে নিমাইবাবুর কথায় "বাবুটি হল ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র।

| গিরীশ মহাপাত্রের মাথার বাহারি ছাঁট, চুলে সুগন্ধি তেল, পরনে রামধনু রঙের জাপানি সিল্কের পাঞ্জাবি ও বিলাতি মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম কালো শাড়ি, পকেটে বাঘ আঁকা রুমাল, পায়ে হাঁটু পর্যন্ত লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা সবুজ মোজা ও বার্নিশ করা পাম্প শু হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি তার ‘শখ’ বজায়ের

পরিচয় দেয়।




 প্রশ্ন: 'এ লোকটিকে আপনি কোনো কথা জিজ্ঞেস না করেই ছেড়ে দিন,-'লোকটি কে? তাকে কোনো কথা জিজ্ঞেস না করেই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কেন?

উত্তর। >  'পথের দাবী'-র উদ্ধৃত উক্তিটিতে 'লোকটি হল পুলিশস্টেশনে আটক সন্দেহভাজন গিরীশ মহাপাত্র ওরফে রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিক।

| 'পথের দাবী'-র অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্ব যে সব্যসাচী মল্লিককে জানতেন তিনি ছিলেন বহু ভাষা ও বিষয়ে সুপণ্ডিত।

বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী এবং বিদেশি ডিগ্রিপ্রাপ্ত এক ডাক্তার। কিন্তু সেই সব্যসাচী মল্লিক হিসেবে পুলিশ যাকে আটক করেছিল তার আচার-আচরণ কোনো কিছুই সব্যসাচীর সঙ্গে মেলে না। তাই অপূর্ব অনেকটা নিশ্চিত হয়েই এমন মন্তব্য করেছেন।


 প্ৰশ্ন: ‘নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন / নিমাইবাবু কে? তার চুপ করে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর >  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী' রচনাংশে নিমাইবাবু হলেন পুলিশের বড়োকর্তা বা দারোগাবাবু।


|| পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেপ্তার করা।

চিকিৎসাবিদ্যায় সুপণ্ডিত, বহুভাষাবিদ ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত সব্যসাচী মল্লিক এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে আটক या গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা, আচার-আচরণ ও কালচার—এসব কোনো কিছুই সব্যসাচীর সঙ্গে মেলে না। তা দেখে থানায় উপস্থিত অপূর্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে; এই ব্যক্তি যে সব্যসাচী মল্লিক নয় তার সে জামিন হতে পারে। অপূর্বর এ কথায় খানিক দ্বিধাগ্রস্ত নিমাইবাবু চুপ করেছিলেন।


প্রশ্ন : ‘তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন ? —কোন্ বস্তুর কথা বলা হয়েছে? তা পকেটে থাকার সপক্ষে যে-যুক্তিটি দেওয়া হয়েছিল, তা কতখানি সন্তোষজনক?


উত্তর >  শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী' উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে যে-বস্তুর কথা বলা হয়েছে তা হল একটি গাঁজার কলকে।

সপক্ষে যুক্তি : পুলিশস্টেশনে তল্লাশির সময় গিরীশ মহাপাত্রের পকেটে গাঁজার কলকেটি পাওয়া যায়। দারোগা নিমাইবাবু কলকেটির সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাপাত্র জানায় সে গাঁজা খায় না, কিন্তু পথে কুড়িয়ে পেয়ে সেটি বন্ধুদের প্রয়োজনাথেই পকেটে রেখেছে।

অভিজ্ঞ দারোগা নিমাইবাবুর কাছে এই বক্তব্য যুক্তিগ্রাহ্য লাগেনি। কেন-না গিরীশ মহাপাত্রের চেহারার মধ্যে গাঁজা সেবনের লক্ষণ স্পষ্ট ছিল।


প্রশ্ন: 'বুড়োমানুষের কথাটা শুনো। এখানে বুড়োমানুষটি কে? তিনি কাকে, কোন্ কথা শুনতে বলেছেন ?

উত্তর > 'পথের দাবী' রচনাংশ থেকে গৃহীত প্রশ্নের বাক্যটির 'বুড়োমানুষ' বলতে দারোগা নিমাইবাবু নিজেকে বুঝিয়েছেন।

> গিরিশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে বিপ্লবী সব্যসাচী বর্মায় আসেন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তল্লাশিতে গাঁজা খাওয়ার কলকে পাওয়া গেলেও সে গাঁজা খাওয়ার কথা অস্বীকার করে। দারোগা নিমাইবাবু তাঁর অভিজ্ঞতার জোরে মহাপাত্রের চেহারার মধ্যে  গাঁজা খাওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ প্রত্যক্ষ করেন। তাই ভগ্ন স্বাস্থ্যের মহাপাত্রকে নিমাইবাবু গাঁজা না-খাওয়ার পরামর্শ দেন।


প্রশ্ন: 'আজ্ঞে না মাইরি খাইনে /- কার উক্তি? কী কারণে এমন উক্তি করেছেন?


উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে পুলিশস্টেশনে আটক গিরীশ মহাপাত্র।

॥ খানাতল্লাশির সময় অন্যান্য আরও কয়েকটি জিনিসের সঙ্গে গিরীশের কাছ থেকে একটি গাঁজার কলকে পাওয়া যায়। থানার দারোগা নিমাইবাবুর প্রশ্নের উত্তরে সে গাঁজা খাওয়ার কথা অস্বীকার করে। কিন্তু নিমাইবাবুর অভিজ্ঞ চোখে মহাপাত্রের শরীরে গাঁজা খাওয়ার বিভিন্ন লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই ভগ্নস্বাস্থ্যের গিরীশকে তিনি গাঁজা খেতে নিষেধ করেন। বয়স্ক নিমাইবাবুর এমন অনুরোধে মহাপাত্র পুনরায় গাঁজা খাওয়ার কথা অস্বীকার করে প্রশ্নোকৃত মন্তব্যটি করেছিল।


প্রশ্ন: ‘দয়ার সাগর। পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে। মিথ্যেবাদী কোথাকার।- কার উদ্দেশ্যে এই উক্তি? তাকে ‘দয়ার সাগর' ও 'মিথ্যেবাদী’ বলার কারণ কী?


উত্তর>  আমাদের পাঠ্য শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের অংশবিশেষে এর উদ্দেশ্যে উক্তি পুলিশকর্মী জগদীশবাবু থানায় আটক সন্দেহভাজন গিরীশ মহাপাত্রের উদ্দেশ্যে উক্তিটি করেছেন।

|| থানায় গিরীশ মহাপাত্রের পকেট তল্লাশি করে গাঁজার কলকে পেয়ে নিমাইবাবু তাকে গাঁজা খাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

উত্তরে সে জানায় সে খায় না তবে বন্ধুদের তৈরি করে দেয়। এ কথা শুনে সেখানে উপস্থিত জগদীশবাবু তাকে দয়ার সাগর' বলে ব্যঙ্গ করেন এবং তার শরীরের মধ্যে গাঁজা খাওয়ার সব লক্ষণ প্রকট থাকায় তাকে মিথ্যেবাদী বলেন।


প্রশ্ন: সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য।–‘সে' বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার আসার খবরে পুলিশকর্মীরা কী কী করেছিলেন?


উত্তর:  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী'-র উদ্ধৃতাংশে ‘সে' বলতে পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলা হয়েছে।

|| সরকারি পুলিশবাহিনীর কাছে রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিকের বর্মায় আসার খবর পৌঁছোনো মাত্রই তারা তল্লাশির মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। তারা বর্মা পুলিশের তৎপরতা এবং রেঙ্গুনে কর্মরত ও কাজের সন্ধানে আসা বাঙালিদের আটক করে তল্লাশি চালায়। এমনকি রাতের মেলট্রেনগুলির ওপরও বিশেষভাবে নজর দেওয়ার কথা বলা হয় ।


প্রশ্ন:  ‘অপূর্ব রাজি হইয়াছিল'—অপূর্ব কীসে রাজি হয়েছিল?


উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী' পাঠ্যাংশে কর্মসূত্রে যখন রেঙ্গুনে ছিল তখন তার সহকর্মী তলওয়ারকরের স্ত্রীর অনুরোধ ছিল অপূর্বর বাড়ির কেউ না-আসা পর্যন্ত অপূর্বকে তার হাতে তৈরি মিস্টান্ন জলযোগ সম্পন্ন করতে হবে। সে কথায় অপূর্ব রাজি হয়েছিল।

প্রশ্ন:  'বাস্তবিক, এমন তৎপর, এত বড়ো কাৰ্যকুশলা মেয়ে আর যে কেহ আছে মনে হয় না হে তলওয়ারকর। মেয়েটি কে? তাকে ‘কার্যকুশলা' বলার কারণ কী?

উত্তর>  আলোচ্য অংশে ‘মেয়ে' বলতে অপূর্বর বাড়ির উপরতলায় বসবাসকারী একজন খ্রিস্টান মেয়েকে বোঝানো হয়েছে।


| যেদিন অপূর্বের ঘরে চোর ঢুকেছিল, সেদিন এই মেয়েটির জন্যই তার টাকাপয়সা ছাড়া বাকি সব জিনিসপত্র চুরি থেকে রক্ষা পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, মেয়েটি অপূর্বর সব ছড়ানো জিনিসপত্র গুছিয়ে দিয়ে, ফর্দ করে কী আছে আর কী কী চুরি গেছে তার নিখুঁত হিসাব পর্যন্ত তৈরি করে রাখে। মেয়েটির তৎপরতায় অপূর্ব মুগ্ধ হয়ে তাকে 'কার্যকুশলা' বিশেষণে ভূষিত করে।


প্রশ্ন:  ‘তাহার উৎকট হাসির বেগ কোনোমতে আর একবার সংবরণ করিয়া শেষে কহিল, তার হাসির উদ্রেকের কারণ কী? সে শেষে কী বলল ?


উত্তর > পাঠ্য 'পথের দাবী' রচনাতে ‘তাহার' বলতে অপূর্বর কথা বলা হাসির উদ্রেকের হয়েছে। সহকর্মী ও বন্ধু রামদাসের কাছে পুলিশস্টেশনে দেখা গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত আচার-আচরণ ও বেশভূষার বিবরণ দিতে গিয়ে তার হাসির উদ্রেক হয়েছিল।

|| অপূর্ব কোনোমতে তার হাসির বেগকে সংবরণ করে বন্ধু রামদাসকে জানায়, প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত পুলিশকে যেভাবে সে বোকা বনতে দেখেছে তা আর কেউ দেখেনি। অথচ এরাই সরকারের বহু টাকা অপব্যয় করে অসম্ভবের আশায় ছুটে মরছে।







প্রশ্ন:   ‘বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন।- বক্তা কে? তাঁর বাবা কাকে, কী চাকরি করে দিয়েছিলেন? 

উত্তর  >  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর ‘পথের দাবী' রচনাংশের অন্তর্গত আলোচ্য উদ্ধৃতাংশের বক্তা হলেন অপূর্ব।

| নিমাইবাবু ছিলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু। অপূর্বর বাবা এই নিমাইবাবুকে ইংরেজশাসিত ভারতবর্ষে পুলিশের চাকরি করে দিয়েছেন। এখন ব্রিটিশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা নিমাইবাবু দেশপ্রেমিকদের আটক করে ব্রিটিশের দাসত্ব করেন।


প্রশ্ন > ‘কিন্তু বুনো হাঁস ধরাই যে এদের কাজ; '—বক্তা কে? তার এই বক্তব্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর >  ‘পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা অপূর্বর সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকর।

| অপূর্ব সহকর্মী ও বন্ধু রামদাসের কাছে পুলিশস্টেশনে ঘটা গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা, আচার-আচরণের আদ্যোপান্ত বিবরণ তুলে ধরে। এ প্রসঙ্গে তথাকথিত বুদ্ধিদীপ্ত পুলিশকে যেভাবে সে বোকা বনতে দেখেছে; তাও জানায়। অথচ এরাই সরকারের বহু টাকা এভাবেই ‘বুনো হাঁস' তথা বিপ্লবীদের ধরার পিছনে ছুটোছুটি করে অপব্যয় করছে। অপূর্বর এ কথায় রামদাস হেসে জানায়, চোর ধরার বদলে আসলে 'বুনো হাঁস' ধরাই এখন পুলিশের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


প্রশ্ন >  তিনি ঢর বেশি আমার আপনার / -কে অপূর্বর বেশি আপনার জন? উক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন পরিচয় ফুটে উঠেছে?

উত্তর > শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাসের অন্তর্গত আমাদের পাঠ্যাংশে অপূর্বের আপনার জন বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক।

!! অপূর্ব পরাধীন ভারতের এক তরুণ দেশপ্রেমিক। সব্যসাচীর প্রতি সে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধাশীল। দেশের অপমান ভুক্তভোগী অপূর্বর বুকে বেঁধে। শরৎচন্দ্র সেই বাঙালি বিপ্লবী তরুণদের আদর্শে অপূর্বকে গড়ে তুলেছেন, যাদের ধমনিতে পরাধীনতার ও দাসত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা শোণিতের মতো প্রবাহিত। তাই সব্যসাচীর মতো রাজদ্রোহীরা অপূর্বদের আদর্শ নায়ক। অপূর্ব প্রকৃতই একজন দেশপ্রেমিক।


প্রশ্ন > আমি ভীরু, কিন্তু তাই বলে অবিচারে দণ্ডভোগ করার অপমান আমাকে কম বাজে না -বক্তা কাকে এ কথা বলেছিল? কোন্ অবিচারের দণ্ডভোগ তাকে ব্যথিত করেছিল? 

উত্তর > শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' রচনাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্ব তার সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকরকে এ কথা বলেছিল।

| ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা বিনাদোষে অপূর্বকে তার নিজের দেশে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিয়েছিল। অপূর্ব এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে ইংরেজ স্টেশনমাস্টার শুধুমাত্র ভারতীয় হওয়ার অপরাধে তাকে স্টেশন থেকে তাড়িয়ে দেয়। এই অকারণ লাঞ্ছনাই অপূর্বকে মনে মনে ব্যথিত করেছিল।

প্রশ্ন :; “তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না –বক্তা কে? তার কোন্ লাঞ্ছনার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর > ‘পথের দাবী' উপন্যাসে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হল অপূর্ব।

॥ ব্রিটিশ শাসিত ভারতের একটি রেলস্টেশনে অকারণে কয়েকজন ফিরিঙ্গি ছোঁড়া ট্রেন ধরতে যাওয়া অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বাইরে বের করে দেয়। অপূর্ব এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্টেশনমাস্টারও তাকে তাড়িয়ে দেয়। ভারতের একটি রেলস্টেশনে আর-এক ভারতীয়র এমন অপমানকর দৃশ্য দেখেও সেখানে উপস্থিত কোনো ভারতীয় প্রতিবাদ করেনি। এই ঘটনা দেখে দেখে সকল ভারতীয় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। অপূর্বর জীবনে ঘটে যাওয়া সেই লাঞ্ছনার কথাই এখানে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন >'এমন তো নিত্য-নিয়তই ঘটচে ।– কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর >  ‘পথের দাবী' রচনাংশ অনুসারে উদ্ধৃতাংশে অপূর্বর জীবনের এক অপমানজনক ঘটনার কথা বলা হয়েছে। অকারণে কয়েকজন ফিরিঙ্গি যুবক অপূর্বকে লাথি মেরে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে সাহেব স্টেশন মাস্টার অপূর্বকে স্টেশন থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও স্টেশনটি ছিল ভারতবর্ষেরই এবং সেখানে যদিও বহু ভারতীয় উপস্থিত ছিল, তবু অপমানিত হওয়া অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় তারা এর কোনো প্রতিবাদ করেনি। এই ঘটনা পরাধীন ভারতের অত্যাচার ও অপমানের দৈনন্দিন চিত্র।


প্রশ্ন: 'রামদাস চুপ করিয়া রহিল, কিন্তু তাহার দুই চোখ ছলছল করিয়া আসিল।--রামদাস কে? তার এমন অবস্থা হয়েছিল কেন?

উত্তর/ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পাঠ্য ‘পথের দাবী' রচনাংশ অনুসারে অপূর্বর রেঙ্গুনের অফিসের সহকর্মী ছিল রামদাস তলওয়ারকর।

| অপূর্ব তার জীবনের একটি বেদনাদায়ক ঘটনার কথা রামদাসকে বলে।

একদিন অকারণে কয়েকজন ফিরিঙ্গি ছোঁড়া অপূর্বকে লাথি মেরে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের বাইরে বের করে দেয়। অথচ এর প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় সাহেব স্টেশনমাস্টারও তাকে তাড়িয়ে অবস্থার পরিবর্তন দেয়। ভারতের একটি রেলস্টেশনে আর-এক ভারতীয়র

এমন অসহ্য অপমানে উপস্থিত কেউই এগিয়ে আসে না। এ ঘটনার কথা শুনে দুঃখে ও লজ্জায় এক অব্যক্ত অপমানে সহমর্মী রামদাসের দু-চোখ ছলছল করে

উঠেছিল।

প্রশ্ন > 'আমাকে কিন্তু বাবু ঝুটিমুট হয়রান করা।-কার উক্তি?

তাকে ঝুটমুট হয়রান করা হয়েছে বলার কারণ কী?

উত্তর > উদ্ধৃত উক্তিটি শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র ওরফে সব্যসাচী মল্লিকের।

|| সব্যসাচী মল্লিকের বর্মায় আসার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে পাকড়াও করার জন্য বর্মা ও রেঙ্গুনে কর্মরত ও কর্মপ্রার্থী বাঙালিদের ওপর নজর রাখে।

সেই কারণেই গিরীশ মহাপাত্রকে থানায় জেরা ও তল্লাশি করা হয়। কিন্তু তার কাছে সন্দেহজনক কিছু না-পেয়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। অপূর্ব সেই ঘটনার

সাক্ষী ছিল। পরবর্তীকালে অপূর্বর সঙ্গে তার দেখা হলে সে কথাগুলি বলেছিল।


প্রশ্ন >  ‘বাবুজি, ম্যয় নে আপকো তো জরুর কঁহা দেখা—কার উক্তি? উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ পরিস্ফুট করো

উত্তর >  উদ্ধৃত উক্তিটি ‘পথের দাবী' উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র অপূর্বর সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকরের।

|| হিন্দিভাষী রামদাস রেলস্টেশনে প্রথমবার ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে উক্তিটি করেছিল। উক্তিটির অর্থ হল, 'বাবুজি আমি আপনাকে অবশ্যই কোথাও দেখেছি'। ইতিপূর্বে রামদাস হয়তো ছদ্দবেশী সব্যসাচীকে অথবা তার ছবি কোথাও দেখেছিল কিন্তু সঠিকভাবে তা মনে করতে পারছিল না। তাই বারবার সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে গিরীশ মহাপাত্র বা সব্যসাচীকে দেখে, মনে করার একটা অসহায় চেষ্টা করছিল।


প্রশ্ন >  ‘ইচ্ছা করিলে আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি।– প্রসঙ্গ নির্দেশ করে উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাসে উদ্ধৃত উক্তিটি করেছে বর্মা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর। বাঙালি যুবক অপূর্ব তার অফিসের বড়োসাহেবের নির্দেশে প্রথম শ্রেণির যাত্রী হিসেবে ভামো যাচ্ছিল। তল্লাশির নাম করে পুলিশ যখন বারবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল, তখন প্রতিবাদ করায় পুলিশ তার প্রতি এমন উক্তি করেছিল। বর্মা পুলিশের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তিটি শুধু অপূর্বর উদ্দেশ্যে নয়, এ যেন সমগ্র ভারতীয়র উদ্দেশ্যে করা। এ থেকে ইংরেজশাসনে ভারতীয়দের সামাজিক অবস্থান ও নিজের দেশে পরবাসী হয়ে থাকার ছবি স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান।

★★★★★★★★ 

পথের দাবী গল্পের বড় প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন > পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।- 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায়? তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

উত্তর > আলোচ্য অংশটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' রচনাংশ থেকে গৃহীত। পাঠ্যাংশটি থেকে জানা যায়, পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অসাধারণ পারদর্শী, ডাক্তারিতে বিলাতি ডিগ্রিধারী এক রাজদ্রোহী।

|| সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে যাকে নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হল সে নিজের পরিচয় দিল গিরীশ মহাপাত্র বলে। রুগ্ণ চেহারার বছর ত্রিশ-বত্রিশের লোকটির সাজপোশাক ভারী অদ্ভুত। কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল অন্তর্ভেদী। সে তেলের খনিতেই কাজ করত। বর্মা থেকেই সে রেঙ্গুনে এসেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল লোহার কম্পাস, কাঠের ফুটবুল, একটা টাকা, কিছু বিড়ি, একটা দেশলাই আর একটা গাঁজার কলকে। নিমাইবাবু তাকে গাঁজার কলকে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে সে। জানায়, কলকেটা সে পথে কুড়িয়ে পেয়ে রেখে দিয়েছে। সে নিজে গাঁজা খায় না বটে, তবে প্রয়োজনে অন্যকে বানিয়ে দেয়। কিন্তু তার কথায় কেউই বিশ্বাস করে না। বরং গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা, সাজপোশাক আচার-আচরণ ও কথাবার্তা থেকে থানায় উপস্থিত সকলেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয় যে, এই ব্যক্তি কোনোভাবেই সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে না। তাই তাকে নিয়ে খানিক হাসিতামাশার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


প্রশ্ন > 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে- বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও ।

অথবা, 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে— বাবুটি কে? তাঁর স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ অধীনস্থ এক বাঙালি পুলিশকর্তা নিমাইবাবু। তিনি পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট হিসেবে চিহ্নিত ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন।

। বছর ত্রিশ-বত্রিশের ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্রের ফরসা রং রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে। রোগা চেহারার মানুষটি যখন কাশতে কাশতে থানায় প্রবেশ করল তখন তার দেহের সামগ্রিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সেটি দ্রুত বেগে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কিন্তু তার রোগা মুখের দুটি চোখের দৃষ্টি ভারী অদ্ভুত। জলাশয়ের মতো গভীর সে চোখের সঙ্গে খেলা চলবে না। দূরে থাকতে হবে। সেই ক্ষীণ চোখের অতলে কোথাও যেন প্রাণশক্তি লুকিয়ে আছে, আর সেজন্যই সে বেঁচে আছে।

গিরীশ মহাপাত্র যে অত্যন্ত শৌখিন মানুষ তা তার বেশভূষাতেই প্রমাণিত চুলে বাহারি ছাঁট। তাতে সুগন্ধি নেবু তেল। গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পরনে বিলাতি মখমল পাড়ের কালো শাড়ি। হাঁটু পর্যন্ত মোজা লাল রিবন দিয়ে বাঁধা এবং পায়ে নাল লাগানো বার্নিশ করা পাম্প শু । হাতে হরিণের শিং দিয়ে বাঁধানো বেতের শৌখিন ছড়ি। এসব দেখেই নিমাইবাবু রসিকতার ছলে কথাগুলি বলেছিলেন।



প্রশ্ন >  গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা লেখো।

উত্তর > গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে ছিল ভাঙা টিনের তোরা, চাটাই জড়ানো ময়লা বিছানার বান্ডিল। নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে তল্লাশির সময় তার পকেটে গাঁজার কলকে পান। তার ট্যাক থেকে পাওয়া যায় একটি টাকা ও গন্ডা হরেক পরসা। পকেট থেকে পাওয়া যায় একটা লোহার কম্পাস ও ফুটবুল। এ ছাড়া বিড়ি-দেশলাইও পাওয়া যায়।



 প্ৰশ্ন >  ‘যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।—কাকে খোঁজার কথা বলা হয়েছে ? যাকে থানায় আনা হয়েছিল তার কালচারের পরিচয় দাও

উত্তর >  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী' উপন্যাসের আমাদের  পাঠ্য অংশে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের কালচারের কথা বলা হয়েছে।

।। পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে গ্রেপ্তার করা। তিনি ছিলেন চিকিৎসাবিদ্যায় সুপণ্ডিত বহুভাষাবিদ ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব; তাই সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে আটক গিরীশ মহাপাত্রের কোনো মিল থাকাই সম্ভব নয়। গিরীশ মহাপাত্রের মাথার বাহারি ছাঁট, চুলে সুগন্ধি তেল, পরনে রামধনু রঙের জাপানি সিল্কের পাঞ্জাবি ও বিলাতি মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম কালো শাড়ি, পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল, পায়ে হাঁটু পর্যন্ত লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা সবুজ মোজা ও বার্নিশ করা পাম্প শু, হাতে হরিণের শিঙের

লে হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি। খানাতল্লাশির সময় তার ট্যাক ও পকেট থেকে বিভিন্ন মামুলি সামগ্রীর সঙ্গে একটি গাঁজার কলকেও পাওয়া যায়। গিরীশ গাঁজা খাওয়ার কথা বারবার অস্বীকার করলেও, গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণই তার মধ্যে বিদ্যমান। তাই তার পোশাক-পরিচ্ছদ দেখেই থানায় উপস্থিত অপূর্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, যে-ব্যক্তিকে তারা খুঁজছে তার কালচারের কথাটা ভেবে দেখতে। কারণ গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা, আচার-আচরণ ও কালচার -এসব কোনো কিছুই সব্যসাচীর সঙ্গে মেলে না।


প্রশ্ন > 'কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু।' -'জানোয়ারটা' বলতে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? তাকে ওয়াচ করার দরকার নেই কেন ?

উত্তর > ওর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী' রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত উক্তিটিতে ‘জানোয়ারটা' বলতে পুলিশস্টেশনে আটক গিরীশ মহাপাত্রকে বলা হয়েছে। বক্তা পুলিশের কর্মচারী জগদীশবাবু।

॥ বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে পুলিশ গিরীশ মহাপাত্রকে আটক করে। কিন্তু তার রোদে পোড়া তামাটে রং, হাঁফ ধরা কাশির দমক ও অকাল বার্ধক্যের ভগ্নস্বাস্থ্য দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। বিশেষত তার বেশভূষার বাহার আর পরিপাট্য দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় এই ব্যক্তিটি সব্যসাচী নয়। কারণ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সঙ্গে সন্দেহভাজন; কারখানার মিস্ত্রি গিরীশের কোনো মিল থাকাই সম্ভব নয়। খানাতল্লাশির সময় তার ট্যাক ও পকেট থেকে বিভিন্ন মামুলি সামগ্রীর সঙ্গে একটি গাঁজার কলকেও পাওয়া যায়। গিরীশ গাঁজা খাওয়ার কথা বারবার অস্বীকার করলেও, গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণই বিদ্যমান দেখে পুলিশ নিঃসংশয় হয়। নিমাইবাবু মহাপাত্রকে ছেড়ে দিলেও, এ শহরে নজর রাখার কথা বলেন। কারণ বর্মায় সব্যসাচী এসেছে। এ খবর নির্ভুল। এ কথায় জগদীশবাবু বলেন, তবে গিরীশ মহাপাত্রকে রাবার কোনো প্রয়োজন নেই।


প্রশ্ন > ‘পথের দাবী' উপন্যাস থেকে গৃহীত পাঠ্য অংশে অপূর্বর রেলযাত্রার যে-বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী'-র অন্যতম চরিত্র অপূর্ব বড়োসাহেবের নির্দেশে অফিসের কাজে ও রেঙ্গুনে ভালো না-লাগার কারণে এক বিকেলে আর্দালি ও হিন্দুস্থানি ব্রাহ্মণ পেয়াদা নিয়ে ভামোগামী ট্রেনে চড়ে বসে। তাকে স্টেশনে ছাড়তে আসে তার সহকর্মী রামদাস। গাড়ি ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে হঠাৎ সেখানে উদয় হয় পুলিশস্টেশনে দেখা গিরীশ মহাপাত্র। মহাপাত্রের সঙ্গে আলাপচারিতা শেষ হতে-না-হতেই অপূর্বর ট্রেন ছেড়ে দেয়। প্রথম অপূর্বর রেলযাত্রা শ্রেণির যাত্রী বলে তার কামরায় কেউ ছিল না। অপূর্ব সন্ধ্যাহিক সম্পন্ন করে স্পর্শদোষহীন খাবার খেয়ে শোয়ার উদ্যোগ নেয়। সে ব্যাঘাতহীন ঘুমের কথা ভাবলেও কয়েকটা স্টেশনের পরই তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। সারারাত্রিতে অন্তত তিনবার পুলিশের লোক এসে তার নাম-ঠিকানা লিখে নিয়ে যায়। অবশেষে অপূর্ব বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করায় বর্মার সাব-ইনস্পেক্টর রূঢ়ভাবে বলে, যেহেতু সে ইউরোপীয় নয় তাই তারা ইচ্ছে করলেই তাকে ট্রেন থেকে টেনে নামিয়ে দিতে পারে। প্রথম শ্রেণির যাত্রীর পরিচয় দিয়ে নিজের অধিকার রক্ষার কথা বলেও কোনো লাভ হয়নি। পরাধীন দেশের মানুষের দুর্দশা ও লাঞ্ছনার ছবি এভাবেই অপূর্বর রেলযাত্রার ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


প্রশ্ন:  'পথের দাবী' রচনাংশ অবলম্বনে অপূর্ব চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর >  শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' রচনাংশের মুখ্য চরিত্র অপূর্ব একজন সৎ শিক্ষিত, আদর্শবাদী ও সংবেদনশীল যুবক। চাকরির সন্ধানে তার বর্মায় আসা।

পাঠ্যাংশে অপূর্বর চরিত্রের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়—

> দেশপ্রেমিক : অপূর্ব পরাধীন ভারতের এক তরুণ দেশপ্রেমিক। সব্যসাচীর

প্রতি সে আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধাশীল। গিরীশ মহাপাত্রকে প্রথম দেখে সে হাসি সামলাতে না-পারলেও বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের বর্মায় আগমন ও পুলিশি সতর্কতা সত্ত্বেও তার ধরা না পড়া অপূর্বকে বিচলিত করে তোলে। গিরীশ মহাপাত্রের প্রতি অপূর্বর সন্দেহ যত বেড়েছে সব্যসাচীর প্রতি শ্রদ্ধা তত প্রগাঢ় হয়েছে। সহকর্মী রামদাসের কাছে তার সরল স্বীকারোক্তি ইংরেজ ভৃত্য আত্মীয়ের চেয়ে অনাত্মীয় দেশপ্রেমিক সব্যসাচী তার বেশি আপনার। দেশের অপমান ভুক্তভোগী অপূর্বর বুকে বেঁধে। শরৎচন্দ্র সেই বাঙালি বিপ্লবী তরুণদের আদর্শে অপূর্বকে গড়ে তুলেছেন যাদের ধমনিতে পরাধীনতার ও দাসত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা শোণিতের মতো প্রবাহিত। তাই সব্যসাচীর মতো রাজদ্রোহীরা অপূর্বদের আদর্শ নায়ক। এদের মধ্যেই তরুণ বিপ্লবীরা নিজেদের খুঁজে পেতেন।


> গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল : বিপ্লবী সব্যসাচীর দৃঢ়তা ও তাঁর ব্যক্তিত্বকে অপূর্ব শ্রদ্ধা করলেও প্রকাশ্যে রাজদ্রোহিতার সাহস তার ছিল না। সেই কারণে ইংরেজ বিদ্বেষী অপূর্ব তার পিতার বন্ধু নিমাইবাবু ইংরেজ কর্মচারী জেনেও তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল।

এভাবেই ‘পথের দাবী' উপন্যাসের কথক অপূর্ব পরাধীন ভারতের শিক্ষিত তরুণদের এক সার্থক প্রতীক চরিত্ররূপে প্রতিভাত হয়েছে।


প্রশ্ন: নিমাইবাবু চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তর >  অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা কালজয়ী রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী' থেকে গৃহীত 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে নিমাইবাবু সম্পর্কে যা জানা যায়, তা হল-নিমাইবাবু হলেন কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্বর পিতৃবন্ধু, সেই সূত্রে তার আত্মীয়। অপূর্বর পিতা কোনো এক সময়ে তাঁকে চাকরিতে ঢুকিয়েছিলেন। এই সূত্রে যে- সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছে, তা দু-পক্ষই বহন করে নিয়ে চলেছে। রেঙ্গুনের পুলিশস্টেশনে বাংলা পুলিশের দারোগা নিমাইবাবুকে ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী ওরফে গিরীশ মহাপাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। তবে অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নিমাইবাবুও সব্যসাচীকে চিনতে ভুল করে ফেলেন। তাকে সাধারণ গঞ্জিকা সেবক বলে ছেড়েও দেন। তবে তাঁর স্নেহপ্রবণ মন বোঝা যায়, যখন গিরীশ মহাপাত্ররূপী সব্যসাচীর রুগ্‌ণ দেহ দেখে তিনি কোমল স্বরে তাকে গাঁজা না-খাওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন 'বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।' এক্ষেত্রে এক প্রৌঢ় স্নেহশীল পিতার প্রতিচ্ছবি নিমাইবাবুর মধ্যে ফুটে ওঠে।

প্রশ্ন:  রামদাস তলওয়ারকর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো

উত্তর:  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' উপন্যাসের আংটি পার্শ্বচরিত্র হল রামদাস তলওয়ারকর। অপূর্বর সহকর্মী তলওয়ার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র না হয়েও যথেষ্ট গুরুদায়িত্ব পালন করেছে। সেটা অবলম্বন করেই পাঠ্য অংশে অপূর্ব নিজের ভাবনাচিন্তা বা তলওয়ারকর সহকর্মীর চেয়েও অনেক বেশি সব্যসাচীকে দেখে আনমনা অপূর্বর বাড়ির পরিস্থিতি কুশল কিনা, তা সে জানার চেষ্টা করেছে। তার স্ত্রী প্রতিদিন অপূর্বর জলযোগ সরবরাহ করেছে। তলওয়ারকর অপূর্বর সমস্ত কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছে—তা সে অপূর্বর ঘরে চুরি ও উপরতলার ক্রিশ্চান মেয়ের দ্বারা সম্পদ রক্ষার গল্পই হোক বা ইংরেজ কর্তৃক অপূর্বর অপমানের কাহিনিই হোক। রেঙ্গুন পুলিশস্টেশনে দেখা অদ্ভুত দর্শন গিরীশ মহাপাত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রচণ্ড হাসিতে ফেটে পড়েছে অপূর্ব। কিন্তু সঙ্গ দিতে গিয়ে তলওয়ারকর কখনোই অপূর্বর ছায়াতে পরিণত হয়নি। অপূর্বকে ট্রেনে তুলতে গিয়ে গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে তার মনে সন্দেহ জেগেছে। প্রখর বুদ্ধিমান ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচীও তার মন থেকে সন্দেহ দূর করতে পারেনি। রামদাস মনে মনে গিরীশের প্রকৃত পরিচয় হাতড়ে বেড়িয়েছে। এভাবেই বুদ্ধিতে, বন্ধুত্বে, সাহচর্যে এবং সমবেদনায় রামদাস স্বল্প পরিসরেও তার স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে।