পঞ্চতন্ত্রের দুটি গল্প মূর্খ বানরের কীর্তি এবং জীর্ণ ধন ও দাড়িপাল্লা - school book solver

Monday, 13 July 2026

পঞ্চতন্ত্রের দুটি গল্প মূর্খ বানরের কীর্তি এবং জীর্ণ ধন ও দাড়িপাল্লা

 


জীর্ণধন ও দাঁড়িপাল্লা

জীর্ণধন নামে এক বণিক বাস করত এক নগরে। একবার সে ঠিক করল বিদেশে যাবে বাণিজ্য করতে।

বিদেশ যাবার আগে তাঁর পূর্বপুরুষের সম্পত্তি একটি ভারী লোহার দাঁড়িপাল্লা গচ্ছিত রেখে গেল সে এক শ্রেষ্ঠী বন্ধুর বাড়িতে।

প্রচুর অর্থ উপার্জন করে দেশে ফিরল জীর্ণধন। বন্ধুর কাছে সে দু-একদিন পর তার দাঁড়িপাল্লা চাইতে গেল।

শ্রেষ্ঠী উত্তর দিল, সে দাঁড়িপাল্লা নেই, ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে। বিস্ময়ে হতবাক জীর্ণধন বুঝল শ্রেষ্ঠী তার দাঁড়িপাল্লা চুরি করেছে। সে ঠিক করল শ্রেষ্ঠী বন্ধুকে উচিত শিক্ষা দেবে।

নদীতে স্নান করতে যাবে জীর্ণধন। শ্রেষ্ঠী বন্ধুকে বলল, ছেলেকে একটু পাঠাও না ভাই আমার সঙ্গে, চানের জিনিসপত্তর বয়ে দেবে। শ্রেষ্ঠীর ছেলে গেল জীর্ণধনের সঙ্গে।।এই সুযোগে শ্রেষ্ঠীর ছেলেকে লুকিয়ে রাখল জীর্ণধন।

জীর্ণধন এসে বলল, নদীতে স্নান করছিলাম। নদীর পাড় থেকে তোমার ছেলেকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল বাজপাখি।

শ্রেষ্ঠী বলল, আমার ছেলেকে বাজপাখি কখনও ছোঁ মেরে নিতে পারে না।

জীর্ণধন উত্তর দিল, ইঁদুর যদি লোহার দাঁড়িপাল্লা খেতে পারে, তাহলে বাজপাখিও ছোঁ মেরে ছেলেকে তুলে নিয়ে যেতে পারে।

দুজনে গেল নগরের বিচারকের কাছে। বিচারক সব শুনে বললেন, সত্যি কথা বললে দুজনেই নিজের নিজের জিনিস ফেরত পাবে।

কোনো উপায় না দেখে শ্রেষ্ঠী জীর্ণধনকে ফিরিয়ে দিল তার লোহার দাঁড়িপাল্লা।

জীর্ণধনও শ্রেষ্ঠীকে তার আদরের পুত্রকে ফিরিয়ে দিল।



■■■■

মূর্খ বানরের কীর্তি

এক রাজার ছিল একটি পোষা বাঁদর। রাজা তাঁর এই প্রিয় বাঁদরটিকে খুব আদর করতেন। প্রতি মুহুর্তেই প্রিয় এই বাঁদরটির প্রতি ঝরে পড়ত তার ভালোবাসার বৃষ্টি।

রাজার যত্নে, আদরে ও ভালোভালো খাবার খেয়ে মনের আনন্দেই দিন কাটছিল বানরের। বনের পশু হলেও রাজার কাছে শিক্ষা পেয়ে বানর মানুষের মতো অনেক কাজ করত।

রাজার সবসময়ের সঙ্গী ছিল রাজার প্রিয় বানর। ছোটোখাটো বহু কাজ রাজার প্রয়োজনমতো বানর করে দিত। রাজা ও বানর উভয়েই একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করতেন।

গ্রীষ্মের দুপুর। রাজা খাটে শুয়ে

দিবানিদ্রা উপভোগ করছেন। খাটের পাশে রাজার প্রিয় সঙ্গী বানর। পাখা দিয়ে হাওয়া করে সে রাজাকে আরাম দিচ্ছে।

এমন সময় হয় এক কাণ্ড। হঠাৎ কোথা থেকে একটা মাছি এসে বসল। রাজার বুকের ওপর।

বানর তো রেগে লাল - কী রাজার

বুকের ওপরে মাছি! এই বলে বানর

পাখার হাওয়া দিয়ে তাড়াল মাছিকে। কিছুক্ষণ পর আবার রাজার বুকের ওপর এসে বসল মাছি। বানর বারবার মাছি তাড়ায় আর মাছি এমন বেয়াদব, বার বার এসে বসে রাজার বুকের ওপর।

রেগে লাল হয়ে বানর ভাবল- 'আজ মাছির দফারফা করব।' ছোট্ট একটা মাছি, তার এত সাহস। রাজার বুকের ওপর এসে বসে। এই বলে মাছিটাকে মেরে শেষ করে দেওয়ার জন্য রাজার তরোয়াল তুলে নিল বানর।

ঘুমন্ত রাজা এই সব কিছুই জানেন না। তরোয়াল নিয়ে ঘুমন্ত রাজার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে রইল মূর্খ বানর। মাছি এসে বসল রাজার গলার ওপর। আর যায় কোথা, বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে বানর দিল তরোয়ালের কোপ বসিয়ে।

মাছি তো মুহুর্তের মধ্যে পালাল উড়ে। ধারালো তরোয়ালের আঘাতে রাজার মুগু হল ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রিয় বানরের বোকামির জন্য ঘটল রাজার অকালমৃত্যু।

মি ত্ৰ প্ৰাপ্তি

পঞ্চতন্ত্রের হিতবচন

১। বিপদে যে হতবুদ্ধি হয় না, সে সহজেই বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারে।

২। ওষুধ, অর্থ, সুপরামর্শ ও মহৎজনের বুদ্ধি— এসব যার সহায় সে অসাধ্য সাধন করে।

৩। বিপদে যে কাছে থাকে সেই সত্যিকারের আপনজন।

৪। অর্থ কাজে না লাগলে সেই অর্থ মূল্যহীন।