অভিষেক কবিতায় রাবণের চরিত্র আলোচনা করো।
![]() |
প্রশ্ন : 'অভিষেক' কাব্যাংশে রাবণ চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর > মধুসুদনের রাবণ এক ভাগ্যবিড়ম্বিত নায়ক। পাঠ্যাংশে আমরা তাঁকে পাই একজন স্নেহশীল পিতা, দৈবাহত রাজা, দায়িত্ববান শাসক, ভ্রাতৃপ্রেমী অগ্রজ, সমরবিশেষজ্ঞ এবং ধর্মভীরু হিসেবে।
◆ স্নেহশীল পিতা : বীরবাহুর মৃত্যুতে শোক এবং ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধে পাঠাতে না-চাওয়া লঙ্কেশ্বর রাবণের অকৃত্রিম পুত্রস্নেহের পরিচায়ক।
◆ ভ্রাতৃপ্রেমী অগ্রজ : দেশের সুরক্ষার স্বার্থে রাবণ কুম্ভকর্ণকে অকালে জাগিয়ে যুদ্ধে পাঠান এবং যুদ্ধে কুম্ভকর্ণের মৃত্যু হয়। এজন্য তিনি শুধু শোকগ্রস্তই হন না বরং নিজেকে দায়ীও মনে করেন।
◆ সমর বিশেষজ্ঞ : লঙ্কেশ্বর দেশের স্বার্থে যোগ্য বীর ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করে নেন। তবে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ইন্দ্রজিৎকে রাতে যুদ্ধে যেতে নিষেধ করেন।
◆ ধর্মভীরু : ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করার সময় রাবণ শাস্ত্রবিধি মেনেই তা করেন। এমনকি যুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি ইন্দ্রজিৎকে ইস্টদেবতার পূজা করার উপদেশ দেন। এ তাঁর ধর্মভীরুতারই প্রকাশ।
◆ দৈবাহত রাজা : রাবণের রণসজ্জার মধ্যে তাঁর তেজোদৃপ্ত রাজসিক ভাব যথেষ্ট প্রকাশিত হলেও এই রাজাকেই আমরা নিয়তির কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করতে দেখি। তিনি 'বিধি বাম' বলে ইন্দ্রজিতের কাছে অসহায়তা প্রকাশ করেন।
◆ দায়িত্ববান শাসক : কুম্ভকর্ণ ও বীরবাহুর মৃত্যুতে লঙ্কাপুরী যখন বীরশূন্য তখন দেশকে বাঁচাতে রাজা রাবণ স্বয়ং যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নেয়। তাঁর এই উদ্যোগ রাজা হিসেবে তাঁর দায়িত্বকেই প্রকট করে।
