জিজ্ঞাসিলা মহাবাবু বিস্ময় মানিয়া।- মহাবাহুকে? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তার বিষয়ে কারণ উল্লেখ করো । অভিষেক কবিতা । দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন : ‘জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া: '-'মহাবাহু' কে? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁর বিস্ময়ের কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর > মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত আমাদের পাঠ্য 'অভিষেক' নামক কাব্যাংশে ‘মহাবাহু' বলতে রাবণ ও মন্দোদরী পুত্র ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে। প্রবল পরাক্রমী বীরত্বের জন্য তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে।
|| প্ৰমোদ উদ্যানে যখন ইন্দ্ৰজিৎ বিলাসমত্ত, ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশধারী।দেবী লক্ষ্মী তখন সেখানে আসেন। ধাত্রীকে দেখে ইন্দ্ৰজিৎ কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েন এবং সিংহাসন ত্যাগ করে বিনম্র চিত্তে তাঁর আগমনের কারণ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করলেন।
ছদ্মবেশী দেবী তাঁর শিরঃচুম্বন করে কনকলঙ্কার দুর্দশার ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও জানান, এক ভীষণ যুদ্ধে ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যু ঘটেছে এবং শোকাহত রাবণ সেইজন্য সসৈন্যে যুদ্ধযাত্রার আয়োজন করছেন। এসব শুনেই মহাবাহু ইন্দ্রজিতের এমন বিস্ময়ের উদ্রেক ঘটেছে।
| রামের হাতে প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু ঘটেছে এ কথা শুনে তাঁর মনে
বিস্ময় জেগেছে, কারণ ইন্দ্রজিৎ ইতিপূর্বে রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে তিরের আঘাতে টুকরো টুকরো করে কেটে হত্যা করেন। অথচ সেই রামের হাতেই বীরবাহুর মৃত্যু হয়েছে। ব্যাপারটা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাই ইন্দ্রজিৎ ভগবতীর কাছে অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে এর বাস্তবতা জানতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন: "রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী/উত্তরিলা' - 'ইন্দিরা সুন্দরী' কে? তাঁর উত্তরটি কী ছিল। উত্তরে মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ?
উত্তর > মধুসূদনের 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত
আমাদের পাঠ্য 'অভিষেক' নামক কাব্যাংশে 'ইন্দিরা সুন্দরী' বলতে বিষ্ণুপত্নী লক্ষ্মীদেবীকে বোঝানো হয়েছে।
॥ ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মীর মুখে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্রজিৎ বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ তার দ্বারা পরাস্ত ও নিহত রামের হাতে বীরবাহুর কীভাবে মৃত্যু হতে পারে! ইন্দ্রজিতের কাছে এই বার্তা অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে এবং বার্তার উৎস জানতে চাইলে লক্ষ্মীদেবী সীতাপতি রাঘবকে মায়াবী মানব বলে অভিহিত করেন ও ইন্দ্রজিৎকে এই কালসমরে লঙ্কাকে রক্ষার আহ্বান জানান।
| ইন্দিরা সুন্দরীর মুখে ইন্দ্ৰজিৎ মায়াবী মানব সীতাপতির পুনরুজ্জীবনের কথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তিনি গলার ফুলের মালা ছিঁড়ে, হাতেরসোনার বালা ও কানের অলংকার সমস্ত ছুড়ে ফেললেন। অশোক গাছের তলায় অশোক ফুল যেভাবে পড়ে থাকে সেভাবেই ইন্দ্রজিতের সমস্ত অলংকার
তাঁর পদতলে শোভা পাচ্ছিল। তীব্র আত্মধিক্কারে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন—যখন শত্রুদল স্বর্ণলঙ্কা ঘিরে ফেলেছে তখন তাঁর মতো বীরের পক্ষে কি নারীদের মাঝে বিলাসমত্ত থাকা শোভা পায়? তীব্র ক্রোধ ও আত্মগ্লানির বশবর্তী হয়ে ইন্দ্রজিৎ অনুচরদের যুদ্ধযাত্রার জন্য রথ প্রস্তুত করতে বলেন এবং শত্রুপক্ষকে বধ করে অপবাদ ঘোচানোর অঙ্গীকার করেন
প্রশ্ন : 'ঘুচাব এ অপবাদ, বধি রিপুকুলে—‘এ অপবাদ” বলতে বক্তা কোন্ অপবাদের কথা বলেছেন? সেই অপবাদ ঘোচাতে বক্তা কী করেছিলেন?
উত্তর > মাইকেল মধুসুদনের ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ইন্দ্রজিৎ। তিনি প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে মগ্ন অবস্থায় প্রভাষারূপী লক্ষ্মীর কাছে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এবং পিতা রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির কথা শোনেন। লঙ্কার এমন ঘোর দুর্দিনে নিজের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট ইন্দ্ৰজিৎ আত্মধিক্কার দেন। সেইসঙ্গে যুদ্ধে শত্রুকুলের আমূল বিনাশ।ঘটিয়ে সমস্ত অপবাদ মুছে ফেলার সংকল্প করেন।
|| ইন্দ্রজিতের নির্দেশে দ্রুত গগনচারী রথ এসে উপস্থিত হয়। তিনি রণসাজে সজ্জিত হন। তাঁর যোদ্ধা রূপ শুধু দেবসেনাপতি কার্তিক এবং বৃহন্নলারূপী অর্জুনের সঙ্গে তুলনীয়। এসময় স্ত্রী প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করেদাঁড়ালে ইন্দ্রজিতের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসের উপর বাণী। তারপর প্রাণাধিক প্রিয় ‘বিধুমুখী'-র কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি আকাশপথে লঙ্কাপুরীতে এসে পৌঁছোন। তাঁর ধনুকের ছিলার টংকারে সমগ্র
জলধিসহ লঙ্কা কেঁপে ওঠে। ইন্দ্রজিৎকে দেখে সমস্ত রাক্ষস সৈন্যদল সাহস ও অহংকারে রণহুংকার দিয়ে ওঠে। মধুসুদানের ইন্দ্রজিতের মধ্যে সাহস, সততা এবং বিনয়ের এক আশ্চর্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। এই সমস্ত গুণের সাহায্যেই তিনি অসহায় পিতাকে আশ্বস্ত করেন। আর দ্বিতীয়বার রাঘবকে বধ করার জন্য রাবণের কাছে অনুমতি চান। পিতা রাবণ প্রথমে ইস্টদেবতার পূজা সাঙ্গ করে পরদিন সকালে তাঁকে যুদ্ধযাত্রার পরামর্শ দেন এবং যথানিয়মে ইন্দ্রজিতকে সেনাপতি পদে বরণ করে নেন।
