নমিপুত্র পিতার চরণে করো জোরে কহিলা পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও - school book solver

Monday, 1 June 2026

নমিপুত্র পিতার চরণে করো জোরে কহিলা পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও




 প্ৰশ্ন  ‘নমি পুত্র পিতার চরণে, করজোড়ে কহিলা;-পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও। পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো ।


উত্তর >  মধুসূদনের 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত পাঠ্য ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের উদ্ধৃত অংশটিতে পিতা হলেন লঙ্কাধিপতি রাবণ এবং পুত্র হল রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎ।

||| পিতা রাবণকে প্রণাম জানিয়ে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চান। তাঁর হাতে নিশারণে নিহত রাম পুনর্জীবন লাভ করেছেন শুনে তিনি রাঘবকে অগ্নি অস্ত্রে ভস্ম করার কিংবা রাজপদে বেঁধে আনার সংকল্প করেন। পুত্রের কথায় পুত্রবৎসল এক পিতার হৃদয়ের প্রকৃত স্বরূপটি ফুটে ওঠে। সেখানে ধ্বনিত হয় স্নেহ-হাহাকার ও অসহায়তা। রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ সম্পদটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে তাঁর মন চায় না। তিনি চান না স্বর্ণলঙ্কার শেষ কুলপ্রদীপটি নির্বাপিত হোক। কারণ স্বয়ং বিধাতা রাবণের প্রতি বিরূপ; না-হলে শিলা যেমন জলে ভাসে না, তেমনই মৃত কখনও পুনর্জীবন পায় না। অথচ এক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। কিন্তু পৌরুষ ও সৎসাহসে উদ্দীপ্ত ইন্দ্রজিৎ অগ্নিদেবকে রুষ্ট করতে কিংবা পরাজিত ইন্দ্রদেবের হাসির পাত্র হতে পারেন না। তাই তিনি দ্বিতীয়বার রাঘবক পরাজিত করার জন্য পিতার আজ্ঞা চান। রাবণের অন্তর ক্ষতবিক্ষত, মানসিক টানাপোড়েনে তিনি আকুল-অস্থির। তাঁর দৃষ্টির সামনে ভূপতিত পর্বতসম কুম্ভকর্ণ। তিনি প্রাণাধিক প্রিয় ‘বীরমণি’-কে প্রথমে ইষ্টদেবের পূজা ও তারপর নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে পরদিন সকালে যুদ্ধযাত্রা করতে বলেন। কিন্তু দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রশমিত করে যথাবিধি মেনে সেনাপতি পদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক ঘটান। এখানে এক ভাগ্যবিড়ম্বিত-শোকাহত ও নিঃসঙ্গ পিতার পাশে, সাহস-অহংকার আর বীরধর্মে উজ্জীবিত পুত্রের আশ্চর্য ছবি তুলে ধরেছেন কবি মধুসুদন।


প্রশ্ন: 'হায়, বিধি বাম মম প্রতি-বক্তা কে? তার এরূপ বক্তব্যের কারণ কী ?

উত্তর >  মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' নামাঙ্কিত পদ্যাংশের অন্তর্গত প্রশ্নোদ্ধৃত অংশের উক্তির বক্তা হলেন রাবণ স্বয়ং।

| প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ক্রুদ্ধ ইন্দ্ৰজিৎ লঙ্কায় উপস্থিত হয়ে পিতা রাবণের কাছে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। পুত্র বীরবাহুর শোক কাটতে না কাটতে রামের বিরুদ্ধে এই ভয়ানক যুদ্ধে রাবণ তাঁর আর এক প্রিয় পুত্রকে পাঠাতে চান না। নিয়তির নিষ্ঠুরতাকে রাবণ তাঁর জীবনে বারবার উপলব্ধি করেছেন। ইন্দ্রজিতের সঙ্গে যুদ্ধে পরাস্ত ও নিহত রাম পুনর্জীবন

লাভ করে বীরবাহুকে হত্যা করেছে—এই সংবাদে তিনি একদিকে যেমন হতাশ হয়েছেন, অন্যদিকে নিয়তির নিষ্ঠুর খেলাকেও মানতে বাধ্য হয়েছেন। ভ্রাতা কুম্ভকর্ণের মতো বীরকেও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে তিনি দেখেছেন। তাই তিনি রাক্ষসকুল শেখর ইন্দ্রজিৎকে বলেন- 'এ কাল সমরে, /নাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা/বারম্বার।' কিন্তু ভাগ্য তাঁর প্রতি এতটাই বিরূপ যে, শেষপর্যন্ত লঙ্কার শ্রেষ্ঠ সন্তান তথা প্রিয় পুত্র ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

প্রশ্ন:  'কি ছার সে নয়, তারে ডরাও আপনি,/ রাজেন্দ্র ? থাকিতে দাস, যদি যাও রণে- রাজেন্দ্র' কে? তাঁর প্রতি বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ আলোচনা করো।

উত্তর > আমাদের পাঠ্য মধুসূদনের ‘অভিষেক' নামক কাব্যাংশে ‘রাজেন্দ্র’ বলতে লঙ্কাধিপতি রাবণকে বোঝানো হয়েছে। অসুরারি রিপু ইন্দ্রজিৎ তাঁর পিতাকে এ নামে অভিহিত করেছেন।

| প্রভাষার ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর মুখে রামের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু এবং লঙ্কার এই ঘোর দুর্দিনে শোকাহত রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে, নিজেকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে প্রমোদকানন ত্যাগ করে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় আসেন। রামের মায়া না-বুঝলেও ইন্দ্রজিৎ তাঁকে ভস্ম করার কিংবা বেঁধে আনার অঙ্গীকার করে পিতার কাছে যুদ্ধের অনুমতি চান। বিধাতার কাছে পরাজিত পুত্রবৎসল পিতা রাবণ লঙ্কার রাজবংশের শেষ প্রদীপকে নির্বাপিত করতে চান না। তাই তিনি ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধের অনুমতি দিতে নারাজ। কিন্তু পৌরুষের মাহাত্ম্যে উজ্জ্বল দেবরাজ ইন্দ্রকে যিনি পরাস্ত করেছেন তিনি যুদ্ধে না-গিয়ে পিতাকে পাঠালে ইন্দ্র হাসবেন এবং অগ্নি রাগ করবেন। তাই পিতার ভেঙে পড়া মানসিক নিজের বীরদর্পকে উজ্জীবিত করার জন্য গভীর আত্মপ্রত্যয়ের ইন্দ্রজিতের এমন মন্তব্য।

প্রশ্ন: 'তারে ডরাও আপনি, বক্তা ও শ্রোতা কারা ? বক্তার মন্তব্যের কারণ কী? শ্রোতাকে বক্তা কী বলে আশ্বস্ত করেন?

উত্তর >  মাইকেল মধুসুদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশ থেকে আে

প্রশ্নোদৃত অংশটি গৃহীত। উক্ত অংশে বক্তা হলেন। রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎ এবং শ্রোতা হলেন রক্ষোরাজ রাবণ।

| প্রভাষার ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে ইন্দ্রজিৎ স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর

দুর্দিনের সংবাদ সহ আর একটি অবিশ্বাস্য সংবাদ পেলেন, পরাজিত ও মরণোন্মুখ রামচন্দ্র পুনরায় বেঁচে উঠে ভাই বীরবাহুকে হত্যা করেছেন। কোবে প্রমোদকানন ত্যাগ করে ইন্দ্রজিৎ স্বর্ণলঙ্কায় এসে উপস্থিত হন এবং পিতাকে আশ্বস্ত করে স্বয়ং শত্রুনিধনের উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রার বাসনা প্রকাশ করেন। পুত্রবৎসল‍্য পিতা রাবণের পুত্রকে যুদ্ধে পাঠাতে মন সায় দেয় না।

|| ইন্দ্রজিৎ রাবণকে আশ্বস্ত করে বলেন—রামচন্দ্র একজন সামান্য মানুষ । তাই তাকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেন না। ইন্দ্রজিতের মতো সেবক থাকতে পিতা যদি যুদ্ধে যান তবে তা কলঙ্গের সমান। এই ঘটনায় মেঘবাহন ইন্দ্র হাসবেন, আর অগ্নিদেবও ক্রোধান্বিত হবেন। পরপর দু-বার শত্রুকুলকে

মৃতপ্রায় করে যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হয়েছেন ইন্দ্রজিৎ। এবার তিনি দেখতে চান কোন ওষুধের বলে রাঘব পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। এই বিশ্বাস নিয়ে তিনি রাবণরাজাকে আশ্বস্ত করে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চাইলেন।