পঞ্চতন্ত্রের দুটি গল্প দামামা ও শিয়াল এবং গোঁজ উপড়ানো বন্দর - school book solver

Monday, 18 May 2026

পঞ্চতন্ত্রের দুটি গল্প দামামা ও শিয়াল এবং গোঁজ উপড়ানো বন্দর

 


পঞ্চতন্ত্রের দুটি গল্প :- দামামা ও শিয়াল এবং গোঁজ উপড়ানো বান



গোঁজ উপড়ানো বানর

 গাছপালা ঘেরা সুন্দর একটি বাগানবাড়িতে মন্দির তৈরির কাজ চলছিল। বহু কারিগর আর ছুতোর মিস্ত্রিরা সারাদিন ধরে সেই কাজে ব্যস্ত থাকত। দুপুরের দিকে কাজ বন্ধ রেখে তারা শহরে যেত খাবার খেতে।

একদিন দুপুরবেলা যথারীতি কারিগররা কাজ বন্ধ রেখে গেছে শহরে খাবার খেতে।

একদল বানর সেই সময় বন-জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে গাছপালা ঘেরা সেই বাগানবাড়িতে উপস্থিত হল। সুন্দর পরিবেশে মনের আনন্দে তারা বাগানের গাছের ওপর দাপাদাপি করতে লাগল।

একটি কাঠের থামের মধ্যে এক কারিগর একটি কাঠের গোঁজ গুঁজে রেখেছিল। হুটোপুটি করতে করতে একটা বানর এসে সেখানে উপস্থিত হল। থামের ওপর নজর পড়তেই সে তার ওপর লাফিয়ে চড়ে বসল। চেরা মুখটার ওপর বসে সে গোঁজটা ধরে টানাটানি শুরু করল।

এদিকে হয়েছে কী, বহু চেষ্টা করেও সে চেরা কাঠের ফাঁক থেকে গোঁজটাকে নাড়াতে পারল না। রাগে অস্থির হয়ে দু-হাতে গোঁজটাকে শক্ত করে চেপে ধরে জোরে মারল এক টান। গোঁজটা খুলে আসার সঙ্গে সঙ্গে বানর ত্রাহি ত্রাহি রবে শুরু করল চিৎকার।

বানরের লেজ ছিল চেরা থামের ফাঁকে ঢোকানো। গোঁজটা সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাঠের ফাঁকে গেল বানরের লেজ আটকে। বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও বানর কিছুতেই পারল না তার লেজ বার করতে। চিৎকার করে হাত-পা ছুঁড়ে বানর আকাশ বাতাস ভরিয়ে দিল। বানরের সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হল। চেরা থামের ফাঁকে বানরের রক্তাক্ত লেজ রইল আর্টকে। বানরের সর্বাঙ্গ রক্তে ভরে গিয়ে তার অবস্থা হল মৃতপ্রায়। রাগে দুঃখে সে চোখের জল ফেলতে লাগল।

বিপদের সময় আরো বিপদ ঘনিয়ে আসে



     দামামা ও শিয়াল

খিদেয় কাতর হয়ে একদিন একটা শিয়াল বনে বনে ঘুরছিল। হঠাৎ বনের মধ্যে এক জায়গায় সে একটা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেল। এরকম বিকট শব্দ যে জীবনে কোনোদিনও শোনেনি। ভয়ংকর শব্দ শুনে ভয়ে কাঠ হয়ে গেল শিয়াল।

শিয়াল ভাবল— আরে বাবা, এ যে সে শব্দ নয়, নিশ্চয় কোনো ভয়ঙ্কর প্রাণী

এদিক ওদিক আছে। মানে মানে পালিয়ে গেলে প্রাণটা এ যাত্রায় বেঁচে যাবে।

অনেক কিছু ভাবলেও চালাক শিয়াল তখুনি না পালিয়ে ভাবল- যাই তো দেখি, কী সেই প্রাণী যে এরকম অদ্ভুত শব্দ করছে। কোনো কিছু না দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার থেকে সবকিছু দেখেশুনে বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। খুব ধীরে ধীরে শব্দের উৎস সন্ধানে শিয়াল শব্দটার দিকে এগিয়ে গেল। বনের যে অঞ্চল থেকে শব্দ আসছিল সেখানে কিছুদিন আগে দুই দল সেনা খুব যুদ্ধ করেছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেই জায়গা ছেড়ে যাওয়ার সময় তারা রেখে গিয়েছিল একটি দামামা। হাওয়ায় গাছের ডালের ঘা লেগে দমাদম শব্দ হচ্ছিল দামামায়। শিয়াল এই মজার ব্যাপারটা দেখে খুব খুশি হয়ে এগিয়ে গেল দামামার দিকে।

মনের আনন্দে দামামায় কয়েক ঘা দিয়ে শিয়াল বাজাল দমাদম দমাদন।

‘দামামা” নামে অদ্ভুত জিনিস সম্পর্কে শিয়ালের কোনো ধারণাই ছিল না। সে ভাবল দামামা নিশ্চয় কোনো অদ্ভুত প্রাণী যা রক্ত মাংস চর্বিতে ভরা। যাই হোক শিয়ালমামার খুব আনন্দ— আজ আমার বিশাল ভোজ হবে। কী মজা, কী মজা বলে শিয়াল নাচতে লাগল। অনেক কষ্ট করে দাঁত দিয়ে শিয়াল ছিঁড়তে শুরু করল দামামার চামড়া। হায় কপাল— কোথায় মাংস, কোথায় চর্বি- দামামার ভেতর তো গড়ের মাঠ মহাভোজ তো হলই না, বেচারা শিয়ালের দুর্ভোগের সীমা রইল না। দামামার শক্ত চামড়া ছিঁড়তে গিয়ে শিয়ালের দাঁত ভেঙে একাকার। শিয়ালের মুখ রক্তাক্ত হল। রাগে দুঃখে জল ঝরতে লাগল শিয়ালের চোখ থেকে। নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতে শিয়াল বলল— কী বোকামিই না করলাম। শব্দের পিছনে ছুটে ছুটে নিজের শরীরটাকেই

ক্ষতবিক্ষত করলাম। লাভের মুখ তো দেখলামই না। উল্টে ভাগীদার হলাম কষ্টের।