দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যে পতনের কারণসমূহ আলোচনা করো।
![]() |
দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের পতনের কারণসমূহ উল্লেখ করো।
উত্তর ঃ (১) দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবক। তাঁর পরবর্তী সুলতানি শাসকগণ ছিলেন প্রত্যেকেই
সমরকুশলী। প্রকৃতপক্ষে সুলতানি শাসন ছিল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। এর পিছনে তেমন জনসমর্থন ছিল না।
শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে কোনো সাম্রাজ্য বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়। (২) সুলতানি সাম্রাজ্যের বিশালতা এই সাম্রাজ্যের পতনের এক সুবৃহৎ কারণ। ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার জন্য একজন শাসকের পক্ষে বিরাট সাম্রাজ্য সঠিক ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। (৩) দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্য ছিল সুলতানের ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। ফিরোজ তুঘলকের পর দুর্বল সুলতানরা তাই সুলতানি সাম্রাজ্যকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।
(৪) ফিরোজ তুঘলক অভিজাত-পদ বংশানুক্রমিক করে দেওয়ায় প্রশাসনে অকর্মণ্য ও অযোগ্য ব্যক্তির আধিক্য ঘটে, যা সুলতানি সাম্রাজ্যকে নড়বড়ে করে দেয়। (৫) সুলতানি সাম্রাজ্যের ত্রুটিপূর্ণ রাজস্ব নীতি রাজকোষ ও জনসাধারণের ওপর বোঝার সৃষ্টি করেছিল। ফলে রাষ্ট্র কাঠামো ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। (৬) সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন,
ফিরোজ শাহ তুঘলক হিন্দুদের ওপর নানা বৈষম্যমূলক কর চাপিয়ে হিন্দুদের বিরাগভাজন হন। হিন্দুদের অসহযোগিতা সুলতানি সাম্রাজ্যের শক্তিহানি ঘটায়। (৭) মোহম্মদ-বিন-তুঘলকের বিভিন্ন ব্যর্থ পরিকল্পনা সুলতানি সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে
দিয়েছিল। তা ছাড়া তিনি মুসলমান সম্প্রদায়কে তুষ্ট করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দান করেন। ফলে হিন্দুরা বেশ অসন্তুষ্ট হয়। (৮) ফিরোজ তুঘলকের ধর্মীয় অনুদান নীতি সাম্রাজ্যের দুর্বলতার কারণ। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার দিল্লি সুলতানি পতনের জন্য ফিরোজ তুঘলকের নীতি ও শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থাগুলিকে দায়ী করেছেন। (৯) অভ্যন্তরীণ দিক
থেকে যখন সুলতানি সাম্রাজ্য দুর্বল তখন তৈমুর লঙের দিল্লি আক্রমণে দেশের অবস্থা করুণ হতে শুরু করে। তার প্রায় একশো বছর পরে বাবরের দিল্লি আক্রমণ সুলতানি সাম্রাজ্যের চিরতরে অবসান ঘটায়।
দিল্লি সুলতানির শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদি। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম লোদি পানিপতের প্রথম যুদ্ধে বাবরের কাছে পরাজিত হন। শুরু হয় মোগল সাম্রাজ্য।
