রাশিয়ার ভূমিদাস কথার অবসানে কারণ গুলি আলোচনা করো দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে মুক্তিদাতা যার বলা হয় কেন নবম শ্রেণী ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় - school book solver

Saturday, 18 April 2026

রাশিয়ার ভূমিদাস কথার অবসানে কারণ গুলি আলোচনা করো দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে মুক্তিদাতা যার বলা হয় কেন নবম শ্রেণী ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায়





 প্রশ্ন :  রাশিয়ার ভূমিদাসপ্রথার অবসানের কারণগুলি আলোচনা করো। দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে মুক্তিদাতা জার বলা হয় কেন ?

উত্তর সংকেত : প্রথম অংশ : ভূমিদাসপ্রথার অবসানের কারণ : (১) অদক্ষতা, (২) ভূস্বামীদের অনিচ্ছা,

(৩) কৃষিক্ষেত্রে ব্যর্থতা, (৪) কর্তৃত্ব হ্রাস, (৫) ভূমিদাসদের ক্ষোভ, (৬) ক্রিমিয়ার যুদ্ধে পরাজয়, (৭) বুদ্ধিজীবীদেরপ্রভাব, (৮) দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের ভূমিকা। দ্বিতীয় অংশ :পর্যালোচনা।


উত্তর» প্রথম অংশ : ভূমিদাস প্রথা ছিল রাশিয়ার একটি সুপ্রাচীন অমানবিক প্রথা। এই প্রথার সঙ্গে রাশিয়ার আর্থসামাজিক ব্যবস্থা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। ভূমিদাসদের জীবন—(১) অবর্ণনীয় দুঃখদুর্দশায় পরিপূর্ণ ছিল, (২) তারা জমিদারদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল এবং (৩) তাদের বিক্রি করা, বন্ধক রাখা, ভাড়া খাটানোর অধিকার জমিদারদের ছিল। রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে এক আদেশ জারি করে কয়েক যুগ ধরে চলে আসা ভূমিদাসদে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে ভূমিদাসপ্রথার অবসান করেন। এইজন্য তাঁকে মুক্তিদাতা জার বলা হয়।

ভূমিদাসপ্রথার অবসানের কারণ :

[১] অদক্ষতা : উনিশ শতকে রাশিয়ার ধীরে ধীরে শিল্পায়ন শুরু হলে ভূমিদাসদের দিয়ে আগের মতো অর্থনৈতিক প্রয়োজন সিদ্ধ হচ্ছিল না। শিল্পের জন্য অদক্ষ ভূমিদাস অপেক্ষা দক্ষ বেতনভুক শ্রমিক অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

[২] ভূস্বামীদের অনিচ্ছা : মুদ্রার অর্থনীতি ও বাজারের জন্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূমিদাসদের শ্রমের নিম্নমান স্পষ্ট হয়ে উঠে। ছোটোখাটো ভূস্বামীদের পক্ষে ভূমিদাসদের ভরণপোষণ কঠিন হয়ে পড়লে ভূমিদাসদের ব্যাপারে তাদের অনিচ্ছা প্রকট হয়ে উঠে।

[৩] কৃষিক্ষেত্রে ব্যর্থতা : সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার বিজ্ঞানসম্মত কৃষিপ্রযুক্তি অদক্ষ ভূমিদাসদের পক্ষে প্রয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়লে তাদেরও প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।


[৪] কর্তৃত্ব হ্রাস : ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর ভূমিদাসদের ওপর অভিজাত ও জমিদারদের কর্তৃত্ব হ্রাস পায়।

[৫] ভূমিদাসদের ক্ষোভ : জারের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে কৃষকরা উদারনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। প্রথম নিকোলাসের আমলে চারশোটি কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল যা  ভূমিদাসপ্রথার উচ্ছেদকে ত্বরান্বিত করেছিল।

[৬] ক্রিমিয়ার যুদ্ধে পরাজয় : ক্রিমিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল ভূমিদাসদের নিয়ে গড়ে ওঠা রাশিয়ার সেনাদল। এদের অদক্ষতা, নির্বুদ্ধিতা রাশিয়ায় এদের অপ্রয়োজনীয় করে তোলে।

[৭] বুদ্ধিজীবীদের প্রভাব : রাশিয়ার বহু কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ভূমিদাসপ্রথার অবসানের উদ্দেশ্য কলম ধরেন। পুসকিন, টলস্টয়, গোগোল, তুর্গেনিভ প্রমুখ ছিলেন এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

[৮] দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের ভূমিকা : উদারনৈতিক শাসক জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভূমিদাসপ্রথা যুগোপযোগী নয়, তাই এর উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। রাশিয়ায় এভাবেই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভূমিদাসপ্রথার উচ্ছেদ ঘটে।

দ্বিতীয় অংশ :

রাশিয়ার ইতিহাসে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারক ‘মুক্তিদাতা জার' বলা হয়।

জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার অভিজাতদের বাধা তুচ্ছ করে দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি অমানবিক ভূমিদাসপ্রথা বিলোপ করে ভূমিদাসদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তাই তাঁক ‘মুক্তিদাতা জার' বলা হয়।

মুক্তির ঘোষণাপত্রে বলা হয়- 

(১) ভূমিদাসপ্রথার অবসান হবে, 

(২) ভূমিদাসরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন নাগরিকদের মর্যাদা পাবে, 

(৩) ভূমিদাসরা পূর্বের প্রভুর যে-জমি চাষ করত তার  অর্ধেক তাকে দেওয়া হবে এবং (৪) জমিদাররা ক্ষতিপূরণ পাবে।


পর্যালোচনা : ভূমিদাসপ্রথার উচ্ছেদের ফলে প্রথমত, ভূমিদাসরা স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদা লাভ করে এবং ভূমিদাসদের বেচাকেনা, ভাড়া খাটানো বন্ধ হয়। দ্বিতীয়ত, কৃষি-শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতি ঘটে রাশিয়া আধুনিকীকরণের দিকে এগিয়ে যায়। তবে ভূমিদাস উচ্ছেদের ঘটনা ত্রুটিমুক্ত ছিল না, কারণ

(১) ভূমিদাসপ্রথা উচ্ছেদ আইন অনুসারে জমির ওপর কৃষকদের অধিকার স্বীকৃত হয়নি, (২) মুক্তিলাভের পর ভূমিদাসরা জমিদারদের পরিবর্তে 'মির'-এর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে, (৩) অনেকের মতে, ভূমিদাস মুক্তির ঘোষণাপত্র ছিল “নিষ্ঠুর পরিহাস’। তবুও দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের শুভ প্রচেষ্টার কথা ইতিহাস মনে রেখে তাঁকে মুক্তিদাতা জার হিসেবে স্মরণীয় করে রেখেছে।