অসুখী একজন কবিতার সকল প্রশ্নের উত্তর। দশম শ্রেণি বাংলা - school book solver

Sunday, 22 March 2026

অসুখী একজন কবিতার সকল প্রশ্নের উত্তর। দশম শ্রেণি বাংলা

 


অসুখী একজন কবিতার সকল প্রশ্নের উত্তর দশম শ্রেণী

বিষয়সংক্ষেপ

আমাদের পাঠ্য ‘অসুখী একজন' কবিতাটি আত্মকথনের আদলে কবিতাটি শুরু হয়। কথক তাঁর ভালোবাসার জনপ্রিয়তমাকে দুয়ারে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রেখে দূরে-বহুদূরে চলে গেলেন। প্রিয়তম ফিরে আসবে এই সরল বিশ্বাসে অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে কথকের প্রিয়তমা। সে জানেই না যে, তার প্রিয়তম আর কখনও ফিরে আসবে না। কুকুরের চলে যাওয়া, গির্জার নানের হেঁটে যাওয়ার উপমার কবি সময়ের বহমানতা প্রকাশ করেছেন। সপ্তাহ, মাস, বছর কেটে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে আসে কথকের স্মৃতি। কথকের পায়ের চিহ্ন ধুয়ে যার, সেখানে ঘাস জন্মায়।

এইভাবে প্রতিদিনকার অপেক্ষার মুহূর্তগুলো একটার-পর-একটা পাথরের মতো জমতে জমতে ভারী হয়ে নেমে আসে অপেক্ষতা মেয়েটির মাথার ওপর। তারপর আসে প্রাণঘাতী যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের বীভৎসতা রক্তস্নাত আগ্নেয়পাহাড়ের মতো, যার নিষ্ঠুরতার হাত থেকে বাদ যায়নি শিশুরাও। খুন হয় বাড়ির সকলে। সমস্ত স্মৃতি মুছে যায়। কিন্তু এতসবের মধ্যেও বেঁচে থাকে কবির প্রিয় সেই মেয়েটি। কারণ প্রেম শাশ্বত, তার মৃত্যু নেই। চিরন্তন প্রেম মানুষকে মরতে মরতে বাঁচতে শেখায়। যুদ্ধের আগুন থেকে বাদ যায় না দেবালয়ও। শান্ত, ধ্যানমগ্ন দেবতারা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে এই দুঃসময়ে দেবতারাও মানুষকে বাঁচাতে ও স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হয়। যুদ্ধের রোষানলে কবির ফেলে আসা বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি, জলতরঙ্গ সব কিছুই ধ্বংস হয়। শুধু শহরের জায়গায় ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের বীভৎস মাথা। ধ্বংসের তীব্রতাকে স্পষ্ট করে দেয় কালো রক্তের দাগ। আর এই ধ্বংসের মধ্যে জেগে থাকে মৃত্যুহীন ভালোবাসা; যে-ভালোবাসা নিয়ে কবির জন্য অপেক্ষা করে থাকে

তাঁর প্রিয়তমা।


 নামকরণের সার্থকতা

সাহিত্যে নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাঠক নামকরণের সাহায্যে

পাঠ্যবিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। নামকরণ কখনও চরিত্রকেন্দ্রিক, কখনও ঘটনাকেন্দ্রিক, আবার কখনও-বা ব্যঞ্জনাধর্মীও হয়ে থাকে। এখন অসুখী একজন’কবিতাটির নামকরণ কতটা সার্থক ও যুক্তিযুক্ত সেটাই আমাদের বিচার্য বিষয়।

এই কবিতায় কবি তাঁর ভালোবাসার জনকে অপেক্ষায় রেখে বহুদূরে

চলে যান। কবির সেই প্রিয়জনের অপেক্ষা অন্তহীন। সে জানেই না যে, তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না। প্রিয়তমের স্মৃতি বুকে নিয়ে অতৃপ্ত প্রিয়া অপেক্ষা করতে থাকে। অথচ দৈনন্দিন।জীবন থেমে থাকে না। ক্রমে দীর্ঘ অদর্শনজনিত বেদনার ফলে সময়গুলো তার মাথার ওপরে পাথরের মতো ভারী হয়ে চেপে বসে।

এরপর ভয়ংকর যুদ্ধে ঘরবাড়ি, জনপদ ধ্বংস হতে থাকে, এমনকি শিশুরাপর্যন্ত খুন হয়। কিন্তু সেই অপেক্ষায় থাকা মেয়েটির মৃত্যু হয় না। যুদ্ধের ফলে সমতলসহ দেবালয়, কবির স্বপ্নের বাড়ি, বারান্দা, গাছ, ঝুলন্ত বিছানা সব চূর্ণ হয়ে জ্বলে যায়। শহর জ্বলে পুড়ে বিনষ্ট হয়, চারদিকে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালো দাগ। অথচ এতসবের মধ্যেও মেয়েটি তার ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস রেখে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে যায়। কবি যেন বোঝাতে চান মানুষের অন্তরের।অপেক্ষা ও স্বপ্নের বিনাশ নেই। আর সেই অধরা স্বপ্নের অন্বেষণে দুখি হৃদয়ের আর্তি ও আকুতিতেই লুকিয়ে থাকে জীবনের গভীর অর্থবহতা।

এভাবেই ‘অসুখী একজন’ এই ব্যঞ্জনাধর্মী নামকরণটি তাৎপর্যবাহী ও যথাযথ হয়ে ওঠেছে।



শব্দার্থ

→ অসুখী : মনঃকষ্ট যুক্ত; মনে সুখ নেই এমন গির্জা : খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের

উপাসনার জায়গা – নান (স্ত্রীলিঙ্গ) : খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সন্ন্যাসিনী

→ আগ্নেয় পাহাড় : আগ্নেয়গিরি; যে-পাহাড় থেকে গলিত ধাতু, ছাই

প্রভৃতি নির্গত হয় । সমতল : উঁচুনীচু নয় এমন অর্থাৎ সমভূমি অঞ্চল

শান্ত হলুদ দেবতা : দেবতারা দীর্ঘকাল ধরে মন্দিরে একইভাবে পূজিত

হচ্ছেন, সেই প্রাচীনত্ব বোঝাতে হলুদ এবং দেবতার স্থবিরতা বোঝাতে

শান্ত শব্দবন্ধ ব্যবহার হয়েছে ধ্যান : মনের স্থিরতা লাভের উদ্দেশ্যে

ཟ গভীর চিন্তা → গোলাপি গাছ : গোলাপি রং স্নিগ্ধ ভালোবাসার স্বরূপ।

তাই কবিতায় ব্যবহৃত গোলাপি গাছ প্রকৃতির অনাবিল অহিংস সরলতার

■ } প্রতীকরূপে প্রকাশিত করতল : হাতের তালু চিমনি : কলকারখানা

ন } ইত্যাদি থেকে ধোঁয়া বেরোনোর নল → জলতরঙ্গ : সাতটি জল-ভরা

বাটিতে কাঠির আঘাতে সুর তোলা হয় এমন বাদ্যযন্ত্র-বিশেষ চূর্ণ : গুঁড়ো

হয়ে যাওয়া । কাঠকয়লা : পোড়া কাঠবিশেষ । দোমড়ানো : যথেচ্ছভাবে

বেঁকে যাওয়া → বীভৎস : ভয়ংকর মূর্তি : অবয়ব


প্রশ্ন: অসুখী একজন' কবিতাটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন?

উত্তর- ‘অসুখী একজন' কবিতাটি বাংলায় তরজমা করেছেন নবারু ভট্টাচার্য।


প্রশ্ন: ‘অসুখী একজন' কবিতাটি কোন্ কাব্যের অন্তর্গত?

উত্তর;  ‘অসুখী একজন' কবিতাটি চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার

‘Extravagaria’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। অন্যদিকে কবিতাটির অনুবাদক নবারুণ ভট্টাচার্যের অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ 'বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে' নামক গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।


প্রশ্ন: ‘অসুখী একজন’ কবিতার কবি পাবলো নেরুদার প্রকৃত নাম কী ?


উত্তর;  ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি পাবলো নেরুদার প্রকৃত নাম নেফতালি রিকার্দো রেয়েস বাসোয়ালতো।


প্রশ্ন: পাবলো নেরুদা কোথাকার কবি ছিলেন?

উত্তর > দক্ষিণ আমেরিকার 'চিলি' নামক দেশের কবি ছিলেন পাবলো নেরুদা।


প্রশ্ন > আমি তাকে ছেড়ে দিলাম – কবি কাকে ছেড়ে দিলেন?

উত্তর >  অসুখী একজন' কবিতায় কবি যেদিন নিজ বাসভূমি ছেড়ে চলে

যান সেদিন তাঁর প্রিয়তমাকে ছেড়ে দিলেন।


প্রশ্ন:  ‘অসুখী একজন' কবিতায় কথকের অপেক্ষায় কে দাঁড়িয়েছিল ?

উত্তর;  প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায়

কথকের অপেক্ষায় তাঁর প্রিয়তমা, প্রকৃত অর্থে মাতৃকল্প দেশমাতা গভীর প্রত্যাশা নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়েছিল।


প্রশ্ন: ‘অসুখী একজন' কবিতায় কথক অপেক্ষরতাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন ?

উত্তর > পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কথক দরজায় অপেক্ষরতা প্রিয়জনকে দাঁড় করিয়ে রেখে বৃহত্তর স্বার্থে দূর থেকে দূরে কোনো স্থানে চলে গেলেন।


প্রশ্ন: ‘অসুখী একজন' কবিতায় কে ফিরে আসার কথা জানত না ?

উত্তর >  পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় দরজায় অপেক্ষরতা কথকের প্রিয়তমা সেই নারীটি জানত না যে, তার মনের মানুষ আর কখনও ফিরে আসবে না।


প্রশ্ন: ‘হেঁটে গেল গির্জার এক নান’- 'নান' কাদের বলা হয় ?

উত্তর: গির্জায় বসবাসকারী খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীদের ‘নান বলা হয়।


প্রশ্ন: 'বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল' – বৃষ্টিতে কী ধুয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর >  পাবলো নেরুদা রচিত “অসুখী একজন' কবিতায় বৃষ্টিতে পায়ের দাগ ধুয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


প্রশ্ন > 'বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ - পঙক্তিটির অর্থ কী?

উত্তর >  নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় বৃষ্টিতে পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া বলতে স্ববাসভূমিতে কথকের স্মৃতি ক্রমশ কিেেক ও মলিন হয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন:;>  ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মানোর কথা বলেছেন?

উত্তর>  ‘অসুখী একজন’ কবিতায় পরিত্যক্ত রাস্তায় কবি ‘ঘাস' জন্মানোর কথা বলেছেন। সময়ের সঙ্গে স্মৃতির ফিকে হয়ে যাওয়া বোঝাতেই শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রশ্ন: >  ‘নেমে এল তার মাথার ওপর।–কার মাথার ওপর কী নেমে আসার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর > পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথকের জন্য

অপেক্ষা করতে থাকা তাঁর প্রিয়তমার মাথার ওপর পাথরের মতো ভারী

একটার-পর-একটা বছর নেমে এল।

প্রশ্ন: ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি ‘পাথরের মতো' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর >  পাবলো নেরুদা তাঁর ‘অসুখী একজন' কবিতায় কথকের জন্য তাঁর

প্রেমিকার অন্তহীন অপেক্ষা আর দুঃসহ বেদনাকে পাথরের গুরুভারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

প্রশ্ন >  ‘তারপর যুদ্ধ এল— যুদ্ধ কেমনভাবে এল?

অথবা, 'তারপর যুদ্ধ এল—যুদ্ধ এল কীসের মতো?

উত্তর  > নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতা অনুসারে ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো যুদ্ধ এসেছিল। অর্থাৎ এখানে যাবতীয় ধ্বংস ও বিনাশের প্রতীক হয়ে ওঠে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

 প্ৰশ্ন >  ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো। -“শিশু আর বাড়িরা খুন হয়েছিল কেন ?

উত্তর > ‘অসুখী একজন’কবিতায় কবিযুদ্ধে, শিশু ও বাড়িদের খুন হওয়ার কথা বলেছেন। শিশুরাও এই যুদ্ধের হাত থেকে রেহাই পায় না, ধূলিসাৎ হয় মানুষের আশ্রয়।


প্রশ্ন:  'সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না। - মেয়েটি কে?

উত্তর > প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন’ কবিতায় সেই মেয়েটি হল স্ববাসভূমিতে অপেক্ষরতা কথকের প্রিয়তমা।

প্রশ্ন: ‘সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না। কেন মেয়েটির মৃত্যু হল না?

উত্তর >  ‘অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধ, মৃত্যু ও হিংসা যেন মেয়েটিকে স্পর্শ করতে পারে না। কারণ ভালোবাসা অবিনাশী। তাই সে নিজস্ব ধারায় সময় থেকে সময়ান্তর অতিক্রম করেও অমলিন থাকে।

প্রশ্ন >  'সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন–কেন এমন হয়েছিল?

উত্তর 'অসুখী একজন' কবিতা অনুসারে আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ আসার ফলে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল।

 প্রশ্ন:  ‘অসুখী একজন' কবিতায় উল্লিখিত যুদ্ধে অপেক্ষরতা মেয়েটির কী হল?

উত্তর ‘অসুখী একজন' কবিতায় উল্লিখিত ভয়াবহ যুদ্ধের বিধ্বংসী মত্ততা অতিক্রম করে শুধু আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে রইল, সেই অপেক্ষরতা মেয়েটি।

প্রশ্ন:  ‘অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধে সমতলের কী অবস্থা হয়েছিল?

উত্তর>  ‘অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক ছায়া সমস্ত সমতলে আগুনের লেলিহান শিখার মতো ছড়িয়ে পড়ে সব কিছুকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করল।

প্রশ্ন >  ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি দেবতাদের চেহারার কী বর্ণনা দিয়েছেন?

উত্তর  > ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি ‘শান্ত হলুদ' দেবতাদের চেহারার ছবি এঁকেছেন। এখানে শান্ত হলুদ' শব্দবন্ধটি যেন নিষ্ক্রিয় প্রাচীনতার ইঙ্গিত বহন করে আনে।

প্রশ্ন; ‘অসুখী একজন' কবিতায় দেবতারা কোথা থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল?

উত্তর ‘অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধের অভিঘাতে হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা দেবতারা মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল।

প্রশ্ন:  'তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।'-'তারা' কারা?

উত্তর >  ‘অসুখী একজন' কবিতা থেকে গৃহীত ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না' পঙ্ক্তিতে 'তারা' বলতে শান্ত হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন:  'অসুখী একজন' কবিতায় কবির বাড়িটি কেমন ছিল?

উত্তর >  ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবির বাড়িটি ছিল মধুর স্মৃতি ও স্বপ্ন বিজড়িত। অর্থাৎ বাড়িটি সম্পর্কে এখানে শৈশব-কৈশোরের আকর্ষণজনিত আবেগ ও আবেশ প্রকাশিত হয়েছে।


প্রশ্ন ‘সেই মিষ্টি বাড়ি, সেই বারান্দা –সেই বারান্দাটির পরিচয় দাও।

উত্তর>  'অসুখী একজন' কবিতায় কবির মিষ্টি বাড়ির বারান্দাটিতে ছিল একটি ঝুলন্ত বিছানা; যেখানে তিনি একদা ঘুমিয়েছিলেন।

প্রশ্ন: 'অসুখী একজন' কবিতায় কবির স্বপ্নবিজড়িত বাড়ির পরিবেশটি কেমন ছিল ?

উত্তর >  'অসুখী একজন' কবিতায় কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিতে গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রাচীন জলতরঙ্গ যেন এক সাবেকি ইমারতের স্নিগ্ধ পূর্ণতাকে ফুটিয়ে তোলে।

প্রশ্ন: 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধে কবির বাড়ির অবস্থা কী হয়েছিল?

উত্তর>  ‘অসুখী একজন' কবিতায়, যুদ্ধে কবির স্বপ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত

বাড়িটি ভেঙে, গুঁড়িয়ে, আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল।



প্রশ্ন: ‘সব চূর্ণ হয়ে গেল’— কী কী চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল বলে কবি জানিয়েছেন?

উত্তর >  ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবির মিষ্টি বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি আর প্রাচীন জলতরঙ্গ— যুদ্ধে এইসব চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গিয়েছিল।

প্রশ্ন:  ‘যেখানে ছিল শহর- সেখানকার কী অবস্থা হল ?

অথবা, ‘যেখানে ছিল শহর — সেখানে আজ কী দৃশ্য?

উত্তর>  ‘অসুখী একজন' কবিতায় যেখানে শহর ছিল, সেখানে যুদ্ধের পর ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর পোড়া শুকনো রক্তের কালো দাগ ।

প্রশ্ন:  ‘সেখানে ছড়িয়ে রইল'—কী ছড়িয়ে ছিল?

উত্তর>  নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতানুসারে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে ছড়িয়ে ছিল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ

প্রশ্ন:.  'রক্তের একটা কালো দাগ। - কোথায় রক্তের একটা কালো দাগ দেখা গিয়েছিল?

উত্তর>  যুদ্ধের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত

পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথার সঙ্গে রক্তের কালো দাগ দেখা গিয়েছিল।

প্রশ্ন:  'আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।-'আর' শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী ?

উত্তর>  পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধ-দাঙ্গা-হিংসার

আগুন পেরিয়ে কথকের প্রিয়তমার ভালোবাসা ও চিরন্তন অপেক্ষাকে

বোঝাতেই শেষ পঙ্ক্তিতে 'আর' শব্দটির ব্যবহার হয়েছে।



প্রশ্ন: "আমি তাকে ছেড়ে দিলাম -- কবি কাকে ছেড়ে দিলেন।তাকে তিনি কীভাবে রেখে এসেছিলেন?


উত্তর > পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতা থেকে গৃহীত অংশে কবি তাঁর প্রিয় নারীকে অপেক্ষায় রেখে নিজ বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন।

|| স্বদেশ ছেড়ে দূর থেকে দূরতর কোনো স্থানে চলে যাওয়ার সময় কবি যেভাবে রেখে এসেছিলেন কবিতার কথক তথা কবি দরজায় তাঁর অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে যান তাঁর প্রিয়তমাকে। যদিও সে জানত না যে, কবি আর কখনও ফিরে আসবে না। এইভাবেই কবি এক চিরকালীন বিদায় মুহুর্তের ছবি এঁকেছেন।

প্রশ্ন: “বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ/ঘাস জন্মালো রাস্তায়— উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর/ উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতা থেকে গৃহীত ৷

কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষমাণা রেখে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বহুদূরে পাড়ি দেন। থমকে যায় মেয়েটির জীবন কিন্তু সময় থেমে থাকে না। তাই কথকের চলে যাওয়াতে জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় না। সপ্তাহ-বছর কেটে যায়। প্রাকৃতিক নিয়মেই কথকের চলার পথের পদচিহ্ন মুছে যায়। তাতে ঘাস জন্মায়। কিন্তু কবির চলে যাওয়ার মুহূর্তটি তাঁর প্রিয়তমার হৃদয়ে অন্তহীন অপেক্ষার মুহূর্ত হয়ে রয়ে যায়।


 প্রশ্ন:“সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না।– 'সে কে? ‘আমি আর কখনো ফিরে আসব না' বলার কারণ কী?


উত্তর> প্রশ্নে উদ্ধৃত ‘সে' বলতে পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতায় অপেক্ষরতা মেয়েটির কথা বলা হয়েছে।

| পাঠ্য কবিতাটি শুরু হয় এক বিদায়দৃশ্যকে অবলম্বন করে। বাড়ির

দরজায় প্রিয়তমাকে ফেলে রেখে কবি চলে যান বহুদুরের অজ্ঞাত কোনো স্থানে। এই যাত্রার কারণ কবিতায় উল্লিখিত হয় না। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে তিনি তাঁর ভালোবাসার নারী, প্রিয় ঘরবাড়ি এবং পছন্দের শহরটিকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে চিরবিচ্ছেদের এ ঘটনা কবিকে পীড়িত ও বিচলিত করে অথচ মেয়েটি তা বুঝতে পারে না। মেয়েটির জীবনে প্রিয়তমের জন্য অন্তহীন অপেক্ষার পালা এভাবেই নীরবে নেমে আসে।


প্রশ্ন : 'পাথরের মতো পর পর পাথরের মতো, বছরগুলো '- বছরগুলোকে পাথরের মতো বলা হয়েছে কেন ?


উত্তর:- জীবন ও জীবিকার জন্য বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া তার মানুষটি যে ফিরে আসবেন না এ কথা কবির প্রেমিকার অজানা ছিল। কিন্তু জীবন এতে থেমে থাকেনি। বৃষ্টিতে কবির পায়ের দাগ মুছে তাতে ঘাস জন্মায়। নিরন্তর দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা নারীর জীবনে তার প্রিয়তমের অনুপস্থিতির বছরগুলো যেন পাথরের বোঝা হয়ে তার মাথার ওপর নেমে আসে। এখানে 'পর পর' বলতে বিচ্ছেদ বেদনার গভীরতা বোঝানো হয়েছে।


 প্রশ্ন: 'তারপর যুদ্ধ এল- যুদ্ধ আসার ফলে কী পরিস্থিতিঘটেছিল ?

অথবা, 'তারপর যুদ্ধ এল'—যুদ্ধ শুরু হলে কী কী ঘটনা ঘটল ?


উত্তর>  পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর একদিন ভয়াবহ বীভৎসতা নিয়ে যুদ্ধ নেমে এল, মানুষ আশ্রয়হীন হল। নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও। দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে ছড়িয়ে পড়ল। ধংস হল দেবালয় আর তার ভিতরের দেবতারা। তাদের দেবত্ব নষ্ট হল। মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল। কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে। ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল। বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ। ধ্বংসের মধ্যে বেঁচে থাকল কবির প্রিয়তমা এবং সে কবির জন্য অপেক্ষরতা।


প্রশ্ন: যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়' বলা হয়েছে কেন ?

উত্তর>  উদ্ধৃত প্রসঙ্গটি কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন' কবিতা থেকে গৃহীত।

কবিতায় যুদ্ধকে কবি আগ্নেয় পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন আগ্নেয়পাহাড় চারপাশে ছড়িয়ে দেয় জ্বলন্ত লাভা। আর সেই আগুনে ছাই হয়। জীবনের যাবতীয় চিহ্ন। ঠিক তেমনই যুদ্ধের ফলে মানুষের মনে জমে থাকা হিংসা-দ্বেষ আর ঘৃণা লাভার মতো ছিটকে ওঠে। অপমৃত্যু ঘটে মানবতার। এই মৃত্যুময় ধ্বংসলীলার নারকীয় রূপটিকে ফুটিয়ে তুলতেই কবি ফুলকে রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়' বলেছেন।


প্রশ্ন:  ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো'—শিশু আর বাড়িরা কীভাবে খুন হল ?

উত্তর> পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন' কবিতায় প্রিয়তমাে দরজায় অপেক্ষায় রেখে দেশছাড়া হয়েছেন কথক। যুদ্ধে সমস্ত সমতলে আগুন লেগেছে, তখন সেই যুদ্ধে শিশু।

বাড়িদের খুন হওয়ার কথা বলেছেন কবি। যুদ্ধে বীভৎসতায় ধ্বংস হয়ে গেছে বাড়িঘর, মৃত্যু হয়েছে মানুষের স্বপ্নের। যুদ্ধে তাণ্ডবলীলায় শিশু এবং বাড়িরা খুন হয়েছে।

প্রশ্ন: 'শাস্ত হলুদ দেবতারা - দেবতাদের 'শান্ত হলুদ' বলা হয়েছে কেন? তাদের কী পরিণতি হয়েছিল?

উত্তর>  ‘অসুখী একজন' কবিতায় কবি চলে যাওয়ার পর একসময় যুদ্ধ বাধল। সেই যুদ্ধের বীভৎসতায় নগরসভ্যতা, কবির স্বপ্নের বাড়িঘর সব চূর্ণ হয়ে গেল, এমনকি ধ্বংস হল দেবতাদের মন্দিরও। হাজার হাজার বছরের যে-দেবতারা মানুষের মনে বিশ্বাস জাগিয়ে এসেছেন, যুদ্ধ তাদেরও আসনচ্যুত করল। প্রাচীন দেবতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও জীর্ণতাকে বোঝাতে হলুদ ও শান্ত বলা হয়েছে।

যুদ্ধের আগুনে নগর পুড়লে দেবালয়ও বাদ যায় না। মানুষের মনে দেবতারা যে-বিশ্বাসবোধের জন্ম দিয়েছিল, তা ধ্বংস হল।


 প্রশ্ন : 'শান্ত' হলুদ দেবতারা/যারা হাজার বছর ধরে ডুবেছিল ধ্যানে—কোন্ কবিতার অংশ? শান্ত হলুদ দেবতাদের হাজার বছর ধরে ডুবে থাকার অর্থটি বুঝিয়ে দাও।

উত্তর>  প্রশ্নে আলোচ্য অংশটি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতার অংশ।

॥ এখানে ঈশ্বর বা দেবতা এক জীর্ণ বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত।

তাদের নিষ্ক্রিয় প্রাচীনতা কবি ‘শান্ত হলুদ’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আর দেবতাদের হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকার মধ্যে তিনি দৈবীমহিমার ভূমিকাহীন অসারতার ভাবটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন। আসলে এই ক্রিয়াহীন, নিশ্চল ও ধ্যানস্থ অবস্থা আমাদের টের পাইয়ে দেয়; মানবজীবনের উত্থানপতনের সঙ্গে দেবত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।


প্রশ্ন: ‘উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে — মন্দির থেকে কী উলটে পড়ল? কী কারণে উলটে পড়েছিল?

উত্তর>  পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতা অনুসারে মন্দির থেকে শান্ত হলুদ দেবতারা উলটে পড়েছিল।

আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ সমতলে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই

যুদ্ধের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়েছিল মন্দির ও বিগ্রহ। কবির ভাষায় ‘শান্ত হলুদ' দেবতাদের দেবালয় টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়ে। অর্থাৎ যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্পর্শে মানুষের অন্তরমনের হাজার বছরের জীর্ণ বিশ্বাস টাল খায়। যুদ্ধ যেন দেবত্বের ধ্যানস্থ- নিষ্ক্রিয় অবস্থাকেও ভেঙে চুরমার করে।


 প্রশ্ন : 'তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।’-'তারা' কারা? স্বপ্ন দেখতে পারল না কেন?

উত্তর>  পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন’ কবিতায় ‘তারা’ বলতে শান্ত

হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে।

॥ এখানে কবি বিনাশ ও ধ্বংসের কলরোলে দৈবীমহিমার অসারতার

প্রতি কটাক্ষপাত করেছেন। মানবতার অপচয়-প্রাণহানি কিংবা চূড়ান্ত

বীভৎসতার সময় কোনো দৈবমাহাত্ম্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। মানুষের মতোই একইরকমভাবে যুদ্ধ-তাণ্ডবের ভয়াবহতায় তারাও নিরাশ্রয়, অস্তিত্বহীন এবং চূর্ণবিচূর্ণ হয়। তাই এককথায় দৈব ক্ষমতার ফানুস চুরমার হয়ে যাওয়ায় তাদের যেন মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর ক্ষমতা লোপ পায়। আলোচ্য অংশে কবির এই ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে।


প্রশ্ন:   'সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে/ কোন্ কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? এই পরিণতির কারণ কী?


উত্তর> পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় আগ্নেয়পাহাড়ের ন্যায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভয়ংকর লেলিহান আগুনে চূর্ণ হয়েছিল কথকের বাড়ি, একদা কোন কোন জিনিস যে বাড়ির বারান্দার ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমোতেন। ধ্বংস হয়ে গেছে কবির গোলাপি গাছ, চিমনি আর পুরোনো জলতরক্ষা।

|| সময় পেরিয়ে যখন যথার্থই মুক্তির আবাহন হয়, সমাজ পরিবর্তনের

প্রয়োজন আসে, তখন বিপ্লবের নামান্তর যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। প্রবল লড়াইয়ে যে-হত্যালীলা চালে, সেখানে রেহাই পায় না শিশুরাও। ধ্বংস হয় পরিণতির কারণ সাধের সুন্দর বাড়ি। যেখানে একদিন শহর ছিল, সেখানে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন হয়ে পড়ে থাকে শুধু কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা আর মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা। কথকের প্রিয় স্মৃতিময় জিনিস চূর্ণ হয়ে যায়, জ্বলে যায় ভয়ংকর যুদ্ধের কারণে।


 প্রশ্ন: "সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা" বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতাটিতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কবি প্রিয়তমা, ঘরবাড়ি, এমনকি তাঁর প্রিয় শহরও ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপরে একদিন আসে বীভৎস যুদ্ধ; যার করাল গ্রাসে কবির ঘরবাড়ি, দেবালায় সমস্ত কিছু চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে যায়। শহরটিও বাদ যায় না। এক সময়ের সুন্দর শহরে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের দাগ। আসলে শহরের বিধ্বংসী রূপটি তুলে ধরতেই উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে।


প্রশ্ন:  ‘যেখানে ছিল শহর, সেখানে কী হল ?

উত্তর> পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন' কবিতায় আলোচ্য উদ্ধৃতিটি

আছে। যুদ্ধের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায় কবির শহর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধের আঘাতে সমস্ত সমতল জুড়ে আগুন লাগে। দেবালয়ও তার হাত থেকে রক্ষা পায় না। মানুষের মধ্যেকার যে দেবত্বের মিথ ছিল ধ্বংস হয়ে যায়।সেইসঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয় কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্বপ্নের বাড়িটিও। কবির বারান্দায় যেখানে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমিয়েছিলেন, তার প্রিয় গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রিয় জলতরঙ্গ সবই ধ্বংস হয় যুদ্ধের আগুনে। গোট শহরটাই পুড়ে যায়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের বীভৎস মাথা ও রক্তের একটি কালো দাগ। কবির শহরের

প্রতিচ্ছবি, যুদ্ধের বীভৎসতা, মানুষের লোভ, হিংসা এবং বর্বরতাকে স্পষ্ট করে তোলে, যা পাঠককে স্তম্ভিত করে।


প্রশ্ন:  'আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় । - মেয়েটি কে? সে অপেক্ষা করে কেন ?


উত্তর>  পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় ‘সেই মেয়েটি হল কথকের প্রিয়তমা, যাকে অপেক্ষায় রেখে কথক কবি বহুদূরে চলে গিয়েছিলেন।

|| কবি যে আর ফিরে আসবেন না এ কথা তাঁর প্রিয়তমা জানত না। এ অপেক্ষার বোঝা গভীর থেকে গভীরতর হলেও সে ভেঙে পড়েনি ।এই মেয়েটিকে ধ্বংস যেন স্পর্শ করতে পারে না: মৃত্যু-যুদ্ধ-হিংসা, দাঙ্গার স্পর্শ পেরিয়েও তাই সে অমলিন থাকে। কারণ ভালোবাসার

কখনও মৃত্যু হয় না; সে সময় থেকে সময়ান্তরে অপেক্ষা করে বয়ে চলে নিজস্ব ধারায়। সমূহ ধ্বংস আর বর্বরতার মধ্যেও তাই অসুখী মেয়েটি তার ভালোবাসার আর্তি ও আকৃত্যিক অনির্বাণ দীপশিখার মতো  জ্বালিয়ে রাখে।


প্রশ্ন :‘আমি তাকে ছেড়ে দিলাম'— কোন্ কবিতার অংশ? 'আমি’ কে? তাঁর ছেড়ে আসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর>  চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত।

||পাঠ্য কবিতায় 'আমি' বলতে কবিকে বোঝানো হয়েছে। কবি এখানে কথকের ভূমিকায় স্মৃতিচারণার মাধ্যমে বর্তমানে এসে উপস্থিত হয়েছেন।

| কবির ব্যক্তিজীবনের ছায়া পড়েছে কবিতাটিতে। কখনও কর্মসূত্রে

কখনও-বা রাজনৈতিক কারণে তাঁকে জীবনে বহুবার স্বদেশভূমি ছেড়ে

আত্মগোপন করতে, কিংবা নির্বাসিত হতে হয়েছে। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা ও অনুভূতি পাঠ্য কবিতার কাব্যগুণে একটা সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। কবি জীবন ও জীবিকার তাগিদে স্বদেশভূমি ত্যাগ করে প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে বহুদূরে চলে যান। কবি যে ফিরে আসবেন না তা অপেক্ষতা প্রিয়তমার জানা ছিল না। কবি দেশত্যাগ

করা সত্ত্বেও প্রিয়তমার জীবন আপন গতিতেই চলে। এভাবেই সপ্তাহ থেকে বছর কেটে যায়। কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়, সেখানে ঘাস জন্মায়। বিচ্ছেদের বছরগুলো একটার-পর-একটা পাথরের মতো মাথায় নেমে আসে। এরপর যুদ্ধ শুরু হয়, ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, মৃত্যু হয়

শিশুদেরও। ক্রমে ধ্বংসের সেই আগুনে দেবালয়, কবির স্বপ্নের বাড়ি এবং শহর সব কিছু ছারখার হয়ে যায়। তবু এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকে মেয়েটির ভালোবাসা। তার অপেক্ষা, চিরন্তন ভালোবাসা অবিনাশী—যা ধ্বংসস্তূপে আলোর মতো মানবহৃদয়ের বিশুদ্ধতাকে জ্বালিয়ে রাখে।


প্রশ্ন:: বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ – কার পায়ের দাগ-বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল? পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া কীসের ইঙ্গিতবাহী?

উত্তর>  কবি পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতায় বৃষ্টির পথে

পড়ে থাকা কথকের পায়ের দাগ ধুয়ে গেল।

পথিকের চলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট পায়ের ছাপ কখনও চিরস্থায়ী হয় না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কথকের পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়ার অন্য তাৎপর্য বহন করেছে। কবিতার কথক অর্থাৎ কবি চরম অতৃপ্তি নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

বৃহত্তর সমাজ গড়ে তোলার দাবি কখনো-কখনো মানুষকে নিজ ঘর তথা স্বদেশ ছাড়তে বাধ্য করে, – অন্তত কবির ব্যক্তিগত জীবনের চরম আলোড়ন তাই প্রমাণ করে। বিধ্বংসী ও ভয়ানক বিপ্লবের পথ হয়ে দাঁড়ায় অন্বিষ্ট। স্বদেশের সঙ্গে বিচ্ছেদ যত গভীর হয়, বেদনার নিবিড়তা ততই প্রবল হয়। সময় অতিক্রান্ত হয়, আবছা হয় স্মৃতি; চেনা পৃথিবী, প্রিয়

মানুষেরা—সব কিছুকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয় চূড়ান্ত সংগ্রামের

সংকর। কিন্তু একইসঙ্গে মাতৃভূমির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা কারও কাম্য নয়; কবিও তা চাননি। তাঁর স্পর্শকাতর মন প্রদেশের বুকে তাঁর অস্তিত্বের চিহ্ন রেখে দিতে চেয়েছিল। টুকরো টুকরো প্রাত্যহিকতায় কবিও জানেন তাঁর স্মৃতি, অস্তিত্ব অনেকের মন থেকে একটু একটু করে মুছে যাবে। তাই 'পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া' এখানে অস্তিত্ব সংকটের ইঙ্গিতবাহী।


প্রশ্ন> 'তারপর যুদ্ধ এল'— 'তারপর' বলতে কোন সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? যুদ্ধের পরিণতি কী হয়েছিল?

অথবা, ‘তারপর যুদ্ধ এল—যুদ্ধের মর্মান্তিক পরিণতি কবিতার যেভাবে

চিত্রিত হয়েছে তা লেখো। 

 উত্তর >   কবি পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কবিতার কথক প্রিয়তমাকে নিজ বাসভূমিতে ফেলে রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। অথচ জীবন তার নিজস্ব ছন্দে চলতে থাকে। কিন্তু প্রিয় নারীটির অপেক্ষার যন্ত্রণা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।

বছরের-পর-বছর কাটে। এমন সময় আসে যুদ্ধ। ঘটনা পরম্পরার এই ক্রমটিকে ফুটিয়ে তুলতেই এখানে কবি ‘তারপর’শব্দটি ব্যবহারয় করেছেন।

| যুদ্ধের ভয়াবহ বীভৎসতায় মানুষ আশ্রয়হীন হল। নৃশংসতার হাত

থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও। দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে ছড়িয়ে পড়ল। ধ্বংস হল দেবালয় আর তার ভিতরের দেবতারা। তাদের দেবত্ব নষ্ট হল। মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল। কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে। ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল। বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো

লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ। শুধু সেই ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকল মেয়েটির অপেক্ষা ও অবিচল ভালোবাসা।


প্রশ্ন:  “শিশু আর বাড়িরা খুন হলো। -'শিশু' আর 'বাড়িরা' কীভাবে খুন হল? ‘খুন’ শব্দটি ব্যবহারের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর> আলোচ্য পঙ্ক্তিটি পাবলো নেরুদার লেখা 'অসুখী একজন'

কবিতাটি থেকে গৃহীত। ভয়াবহ এক যুদ্ধে কথকের শহরের শিশু আর গৃহস্থ মানুষেরা খুন হল। কবিতায় 'বাড়িরা' বলতে বাড়ির মানুষদের বোঝানো হয়েছে।

|| কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর বছর কেটে যায়। একসময় শুরু হয় ভয়ানক যুদ্ধ। যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় কথকের প্রিয় শহর। ভেঙে পড়ে মন্দির আর মন্দিরের ভিতরের দেবমূর্তি।

এমনকি সেই যুদ্ধের হিংস্রতা থেকে রক্ষা পায় না নিরপরাধ শিশুরাও। শহরের বাড়িগুলোও ধ্বংস হয় একে একে। এখানে কবি বাড়িরা' শব্দটি প্রয়োগের মাধ্যমে ঘরবাড়ির মতো জড়পদার্থেও প্রাণের সঞ্চার করেছেন। শিশুদের মতো বাড়িও যে মানুষের পরম আদরের, মমতার সেটা বোঝাতেই কবি ‘বাড়িরা' ব্যবহার করেছেন। যুদ্ধজনিত কারণে মৃত্যুকে সাধারণভাবে 'খুন' বলা হয় না।

কিন্তু এখানে কবি ইচ্ছাকৃতভাবেই 'খুন' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কিছু যুদ্ধবাজ মানুষ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে যুদ্ধ বাধায়। কিন্তু তার মাশুল গুনতে হয় দেশের অগণিত সাধারণ মানুষকে। সেই ভয়ানক ধ্বংসলীলায় মানুষ হারায় তার পরিবার, প্রিয়জন, এমনকি শেষ আশ্রয়টুকুও। যুদ্ধের এই ভয়ংকর পরিণতিকে ফুটিয়ে তুলতে কবি এই কবিতায় 'খুন' শব্দটি যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন।


 প্রশ্ন: 'সেই মেয়েটির মৃত্যু হল না – মেয়েটির পরিচয় দাও। তার মৃত্যু না-হওয়ার মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

অথবা, ‘সেই মেয়েটির মৃত্যু হল না।—কোন্ মেয়েটির কথা বলা হয়েছে?

তার মৃত্যু না-হওয়ার কারণ কী?

উত্তর>  প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় বর্ণিত মেয়েটি হল কথকের প্রিয়তমা।

| কবিতার কথক অর্থাৎ কবি চরম অতৃপ্তি নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁর প্রিয় নারী তাঁর অপেক্ষায় থাকে, কেন-না সে জানে না যে, তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না। কবিতার শেষ পর্যন্ত এই অপেক্ষাকেই আমরা দেখেছি। সময় অতিক্রান্ত হয়, আবছা হয় স্মৃতি,অপেক্ষার বছরগুলো ভারী হয়। কবি তাই বলেন—বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ ঘাস জন্মালো রাস্তায়।

আর কথকের প্রিয়তমা নারীর মাথার উপর দিয়ে বছরগুলো পেরিয়ে গেল।

আর একটার পর একটা, পাথরের মতো পর পর পাথরের মতো, বছরগুলো নেমে এল তার মাথার ওপর। অর্থাৎ পাথরের মতো ভারী, গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় সেই অপেক্ষায় থাকা নারীর দিন কাটে। এরপর আসে যুদ্ধ। সমতলে আগুন ধরায়। ধ্বংস হয় মানুষের স্বপ্নের আশ্রয়; রক্ষা পায় না শিশুরাও। দেবালয়, শহর— সব কিছু ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও অতৃপ্ত হৃদয়ে সেই মেয়েটি অপেক্ষার আলোকশিখা

দু-হাত দিয়ে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে কথকও অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে ফিরে আসতে চান তাঁর প্রতীক্ষমাণা ভালোবাসার কাছে। সব কিছু ধ্বংসের মাঝেও কবির হৃদয়ে অপেক্ষরতা নারীটির মৃত্যু নেই। চিরায়ত অতৃপ্ত মানবীটিই এই নারী। কবির অতৃপ্ত মন তার কাছে বারবার ফিরে যেতে চায়। তার মৃত্যু না-হওয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্টতই কবিতাটিতে কবি

যুদ্ধবিরোধী মনোভাব নিয়ে বিশ্ব শান্তির বার্তা প্রেরণ করেছেন পাঠকের কাছে।



 প্রশ্ন: ‘যেখানে ছিল শহর'— ‘যেখানে' শব্দটি প্রয়োগ করার কারণ কী ? শহরটির কী হয়েছিল ?


উত্তর:  উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতার অংশ। কথক বা কবির বাসভূমি যে শহরে, এক্ষেত্রে সেখানকার কথা বলা হয়েছে। এই শহরটি কবি বা কথকের কাছে স্মৃতিবিজড়িত, কারণ

এখানেই তিনি তাঁর প্রিয় নারীটিকে অপেক্ষায় রেখে বহুদূরে পাড়ি দিয়েছিলেন। কবির এই বাসভূমি, প্রিয় সুখের সান্নিধ্যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, স্নিগ্ধতায় ও লাবণ্যে পরিপূর্ণ ছিল। তখনও যুদ্ধের আঘাত এই শহরাকে স্পর্শ করতে পারেনি বোঝাতেই কবি ‘যেখানে শব্দটি প্রয়োগ করেছেন।


! যুদ্ধের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায় কবির শহর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায়।

যুদ্ধের আঘাতে সমস্ত সমতল জুড়ে আগুন লাগল। দেবালয়ও তার হাত থেকে রক্ষা পেল না। মানুষের মধ্যেকার যে-দেবত্বের বিশ্বাস ছিল তা ধ্বংস হয়ে গেল। সেইসঙ্গে নিশ্চিহ্ন হল কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্বপ্নের বাড়িটিও। কবির বারান্দায় যেখানে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমিয়েছিলেন, তাঁর প্রিয় গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রিয় জলতরঙ্গ সহ

ধ্বংস হল যুদ্ধের আগুনে। গোটা শহরটাই পুড়ে গেল। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের বীভৎস মাথা ও রক্তের একটা কালো দাগ। কবির প্রিয় শহরের প্রতিচ্ছবি, যুদ্ধের বীভৎসতা মানুষের লোভ, হিংসা এবং বর্বরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যা পাঠককে স্তম্ভিত করেছে।



প্রশ্ন:  ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়। মেয়েটির অপেক্ষার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

অথবা, ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।-অপেক্ষরতা সেই মেয়েটির মধ্য দিয়ে কবি স্বদেশপ্রেম তথা মানবপ্রেমের যে-শাশ্বত রূপ তুলে ধরেছেন, তা আলোচনা করো।

 উত্তর>  কবি পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় মানবমনের এক চিরন্তন সত্য প্রকাশ পেয়েছে। কবি যেন কোনো এক নারীকে তাঁরই অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে দূরে চলে যান। সেই অপেক্ষরতা যদিও জানত না যে, কবি আর কখনও ফিরবেন না ।

কবিতার শুরুর বিচ্ছেদদৃশ্যে লুকিয়ে থাকে দুজন নরনারীর চিরকালীন

প্রত্যাশা ও অপেক্ষার বীজ। যদিও জীবন তার নিজের গতিতে চলতে থাকে। টুকরো টুকরো প্রাত্যহিকতায় সপ্তাহ আর বছর কেটে যায়। বৃষ্টিতে কবির পদচিহ্ন ধুয়ে গিয়ে 'ঘাস জন্মালো রাস্তায়'। কবির অস্তিত্ব অনেকের মন থেকেই একটু একটু করে মুছে যেতে থাকে। কিন্তু পাথরের মতো ভারী, গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় সেই অপেক্ষারত নারীর দিন কাটে। এরপর আসে যুদ্ধ। সমতলে আগুন ধরে। ধ্বংস হয় মানুষের স্বপ্নের আশ্রয়। রক্ষা পায় না শিশুরাও। এতদিনকার রক্ষণশীলতার প্রতীক -মন্দির আর মন্দিরের দেবমূর্তিগুলো ধূলিসাৎ হয়। কবির মিষ্টি বাড়িটিও ধ্বংস হয়। যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হয় সমস্ত শহর। যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা ও রক্তের শুকনো কালো দাগ। শুধু এই যুদ্ধের বীভৎসতা ছুঁতে পারে না কবির সেই প্রিয় অপেক্ষরতার ভালোবাসাকে। ধ্বংস ও বিনাশের হাজার লেলিহান শিখা তাকে কোনোমতেই ধ্বংস করতে পারে না। সময়ান্তরে প্রবহমান মানবহৃদয়ের যন্ত্রণা, আকুতি ও আর্তিই সেই মেয়েটির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে অনুভূতির অবিনাশী প্রকাশ হিসেবে।


 প্রশ্ন:   “অসুখী একজন' কবিতায় কাকে অসুখী বলা হয়েছে? তার অসুখী হওয়ার নেপথ্যে কোন্ কারণ রয়েছে?

অথবা, ‘অসুখী একজন কবিতায় কে, কেন অসুখী তা বুঝিয়ে দাও ।


উত্তর>  পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন' কবিতায় প্রিয়তমের জন্য

অপেক্ষায় থাকা মেয়েটিকে অসুখী বলা হয়েছে। আবার ফিরে আসতে উৎসুক কবিহৃদয়ও এক্ষেত্রে একইভাবে অসুখী।

!! একদিন কবি স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁর এই বিচ্ছেদ চিরদিনের

জন্য। অথচ অপেক্ষমাণা প্রিয়তমার এ সত্য জানা নেই। যদিও জীবন নিজস্ব ছন্দে বয়ে চলে। দৈনন্দিনতার গতি কবির স্মৃতিকে ক্রমশ অসুখী হওয়ার কারণ ফিকে করে তোলে। বছর গড়ায়। কিন্তু ভালোবাসার মেয়েটির কাছে এই অন্তহীন অপেক্ষা গভীর ও ভারী পাথরের আঘাতের মতোই শ্বাসরুদ্ধকারী হয়ে ওঠে। এরপর বুদ্ধের বীভৎসতা সমস্ত সমতলকে গ্রাস করে। ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয় দেবতা ও দেবালয়। ধ্বংসের লেলিহান আগুনে ক্রমে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় কবির প্রিয় বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, করতলের মতো পাতা চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ – এই সব কিছু। মানুষ তার আশ্রয় হারায়। যুদ্ধের নৃশংসতায় শিশুরাও খুন হয়। শহরের

বদলে সেখানে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, সোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালো দাগ। শুধু আপেক্ষরতা সেই মেয়েটিকে কোনো বিনাশ স্পর্শ করতে পারে না। সমূহ ধ্বংস আর বর্বরতার মধ্যেও অসুখী মেয়েটি

তার ভালোবাসার আর্তি ও আকুতিকে অনির্বাণ দীপশিখার মতো জ্বালিয়ে

রাখে।

প্রশ্ন :  পাঠ্য কবিতাটি অতৃপ্ত মানবহৃদয়ের একান্ত আর্তির প্রকাশক ‘অসুখী একজন' কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।

অথবা, 'অসুখী একজন' কবিতায় বিশ্বশান্তির বার্তা নিহিত আলোচনা করো। 

অথবা, ‘অসুখী একজন' কবিতাটিকে যুদ্ধবিরোধী কবিতা বলা যায় কিনা—বিশ্লেষণ করো

উত্তর>  পাবলো নেরুদার কবিতা ‘অসুখী একজন’– এই ব্যঞ্জনাময় নামকরণ থেকেই বোঝা যায় যে, কবিতাটি অতৃপ্ত কোনো বাসনার প্রতিচ্ছবি।

অনেক সময় কবি-সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিচ্ছবি যা সর্বজনের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায় তা সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়। আমাদের পাঠ কবিতাটিতেও তা ঘটেছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

কবিতার কথক অর্থাৎ কবি চরম অতৃপ্তি নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁর প্রিয় নারী তাঁর অপেক্ষায় থাকে, কেন-না সে জানে না যে, তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না। কবিতার শেষ পর্যন্ত এই অপেক্ষাকেই আমরা দেখেছি। সময় অতিক্রান্ত হয়, আবছা হয় স্মৃতি, অপেক্ষার বছরগুলো ভারী হয়। প্রাণঘাতী যুদ্ধের বীভৎসতা তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে। দেবালয়, শহর সব কিছু ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও অতৃপ্ত হৃদয়ে সেই মেয়েটি অপেক্ষার আলোকশিখা দু-হাত দিয়ে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে কবিও অতৃপ্ত

বাসনা নিয়ে ফিরে আসতে চান তাঁর প্রতীক্ষমাণা ভালোবাসার কাছে। সব কিছু ধ্বংসের মাঝেও কবির হৃদয়ে অপেক্ষরতা নারীটির মৃত্যু নেই। চিরায়ত অতৃপ্ত মানবার্তিই এই নারী। কবির অতৃপ্ত মন তার কাছে বারবার ফিরে যেতে চায় বলেই তিনি বলে ওঠেন, ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।' স্পষ্টতই কবিতাটিতে কবি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব নিয়ে বিশ্বশান্তির বার্তা প্রেরণ করেছেন

পাঠকের কাছে।