তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তা থেকে অপমানের। কে অপমানিত হয়েছিল ? কেন অপমানিত হয়েছিল ? জ্ঞানচক্ষু গল্প ‌। দশম শ্রেণি। - school book solver

Monday, 23 March 2026

তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তা থেকে অপমানের। কে অপমানিত হয়েছিল ? কেন অপমানিত হয়েছিল ? জ্ঞানচক্ষু গল্প ‌। দশম শ্রেণি।

 




প্রশ্ন:  'তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের।-কে অপমানিত হয়েছিল ? কেন অপমানিত হয়েছিল?

উত্তর:  আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নায়ক তপন অপমানিত হয়েছিল।

|| লেখক-মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোট্ট তপন একটি গল্প লিখে ফেলে। গল্প লেখার উত্তেজনায় সে গল্পটি ছোটোমাসিকে দেখায়। ফলে তা নতুন মেসোর হাতে পড়ে এবং তিনি তপনের লেখার প্রশংসা করেন; সেটি পত্রিকার ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পত্রিকায় গল্প ছাপা হওয়ার পর তপন দেখে সমস্ত গল্পটাই মেসো তাঁর পাকা হাতের কলমে আগাগোড়া নতুন করে লিখ দিয়েছেন। নিজের লেখা গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা পড়ার যন্ত্রণা তাকে বিদ্ধ করে। এভাবে আত্মমর্যাদা হারানোর ফলে তপন অপমানিত বোধ করেছিল।


প্রশ্ন;  ‘আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন— 'আজ' বলতে কোন্ দিনটির কথা বলা হয়েছে? সেটি কী কারণে বক্তার কাছে সবচেয় দুঃখের দিন?


উত্তর:  আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের নতুন মেসো তার ছোটোমাসিকে নিয়ে তাদের বাড়িতে হাতে করে ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার একটি সংখ্যা নিয়ে আসে, সেই দিনের কথা বলা হয়েছে।

> মাসির উৎসাহ আর প্ররোচনায় তপনের লেখক-মেসো সেই গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর সে দেখে পুরো গল্পটাই মেসো আগাগোড়া নতুন করে লিখে দিয়েছেন। এ গল্পে শুধু তার নামটুকুই আছে; অথচ সে কোথাও নেই। এই ঘটনা তপনের অন্তর্মনে আঘাত করে। লজ্জায়, অনুতাপে, আত্মসম্মান হীনতায় সে সকলের কাছ থেকে পালিয়ে ছাদের অন্ধকারে একলা দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেলে। নিজের কাছে নিজেই এভাবে ছোটো হয়ে যাওয়ায় তার মনে হয়, ‘আজ’ জীবনে সবচেয়ে দুঃখের দিন।





প্রশ্ন> ‘শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীর সংকল্প করে তপন,- দুঃখের মুহূর্তটি কী? তপন কী সংকল্প করেছিল ?

উত্তর;  ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নায়ক তপনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটি একপলকে দুঃখের মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। 

  > সে প্রকাশিত গল্পটি পড়তে গিয়ে টের পায়, লেখক-মেসো গল্পটিকে কারেকশনের নামে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন। এ গল্পকে আর যাই হোক তার নিজের লেখা বলা যায় না।

| এই ঘটনায় তপন সংকল্প করেছিল যে, যদি কোনোদিন নিজের কোনো লেখা ছাপাতে দেয়, তবে নিজে গিয়ে ছাপাতে দেবে। ছাপা হোক বা না-হোক অন্তত তাকে শুনতে হবে না যে, কেউ তার লেখা প্রভাব খাটিয়ে ছাপিয়ে দিয়েছে।