তপনকে যেন আর কখনো শুনতে না হয়। এখানে কি না শোনার কথা বলা হয়েছে? জ্ঞানচক্ষু গল্প। দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন: ‘তপনকে যেন আর কখনো শুনতে না হয় - কী না-শোনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর-- ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নায়ক বালক তপন গল্প লেখায় যতই অপরিণত হোক-না-কেন, সে মনেপ্রাণে একজন লেখক। তার লেখা গল্পের ওপরে তার লেখক-মেসোর কারেকশনের নামে খোলনলচে বদলে দেওয়া তপনের কাছে অপমানজনক। এই ঘটনায় সে অভিমানে বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। আত্ম অসম্মানে আহত তপন সংকল্প নেয় যে, পরবর্তীকালে লেখা ছাপাতে দিলে সে নিজে দেবে। তবু এ কথা তাকে শুনতে হবে না যে, অন্য কেউ তা প্রভাব খাটিয়ে ছাপিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন: 'যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয় তো, তপন নিজে গিয়ে দেবে'—কোন্ লেখার কথা বলা হয়েছে? সে-লেখা তপন নিজে গিয়ে ছাপতে দেবে কেন ?
উত্তর: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে 'লেখা' বলতে তপনের
গল্পের কথা বলা হয়েছে।
> তপনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন দিনটি মুহুর্তের মধ্যে সবচেয়ে দুঃখের দিনে পর্যবসিত হয়। কারণ পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পটি তপন পড়তে গিয়ে টের পায়, কারেকশনের নামে লেখক-মেসো প্রায় সম্পূর্ণ গল্পটিত বদলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় সে আহত হয়। আর যাই হোক গল্পটিকে নিজের গল্প বলা যায় না। বিশেষত নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়া যে কতটা দুঃখ ও অসম্মানের তা তপন উপলব্ধি করে। তাই এমন দুঃখের দিনে সে সংকল্প করে লেখা ছাপা হোক কিংবা নাই হোক; ভবিষ্যতে লেখা ছাপতে দিলে নিজে গিয়ে দেবে।
প্রশ্ন: 'কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের। - নতুন মেসোর পরিচয় দাও। তাঁকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর:- জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের নতুন মেসো হল তার ছোটোমাসির স্বামী।
তিনি একজন লেখক, বই লেখেন। ইতিমধ্যে তাঁর অনেক বই ছাপাও হয়েছে।
সর্বোপরি তিনি একজন প্রফেসর।
| তপনের ছোটোমাসির বিয়ের পর নতুন মেসো যে লেখক, এ কথা শুনে তার কৌতূহলের অন্ত ছিল না। তার কাছে লেখক মানে ভিন গ্রহের কোনো
মানুষ, যারা সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। একজন লেখককে যে এত কাছ থেকে দেখা যায় কিংবা লেখকরা যে তপনের বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুদের মতো সাধারণ মানুষ হতে পারে, এ বিষয়েও তার যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। কিন্তু তার সেই ধারণাগুলো ভেঙে গেল, যখন দেখল তার ছোটোমেসোও তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খেতে বসে অর্ধেক খাবার তুলে দেন, সময়মতো স্নান করেন, ঘুমোন।
ছোটোমামাদের মতোই খবরের কাগজের খবরে তর্ক ও শেষপর্যন্ত দেশ সম্পর্কে একরাশ হতাশা ঝেড়ে ফেলে সিনেমা দেখতে বা বেড়াতে চলে যান।
এসব বিষয়ে অন্যদের সঙ্গে মেসোর মিল দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত হয়। সে বুঝতে পারে লেখকরা আকাশ থেকে পড়া জীব নয়, নিছকই মানুষ।
