জ্ঞানচক্ষু গল্পে তপনের ছোট মাসির চরিত্রটি আলোচনা করো। - school book solver

Tuesday, 17 February 2026

জ্ঞানচক্ষু গল্পে তপনের ছোট মাসির চরিত্রটি আলোচনা করো।

 



প্রশ্ন:  তপনের ছোটোমাসির চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তর:   ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পে আশাপূর্ণা দেবী সৃষ্ট চরিত্রগুলির মধ্যে ছোটো অথচ বেশ শক্তিশালী চরিত্র হল তপনের ছোটোমাসির চরিত্রটি। ছোটোমাসি বয়সে তপনের চেয়ে বছর আষ্টেকের বড়ো। 

বন্ধুত্বপূর্ণ:: স্বামী গর্বে গর্বিতা: প্রায় সমবয়সি ছোটোমাসি ছিল তপনের চিরকালের বন্ধু। মামার বাড়িতে এলে তপনের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গী ছিল সে। তাই তপন প্রথমবার গল্প লিখে ছোটোমাসিকেই সকলের আগে দেখায়।


স্বামী গর্বে গর্বিতা: সদ্যবিবাহিতা ছোটোমাসির স্বামী একজন অধ্যাপক। তিনি আবার বইও লেখেন। তাই বিয়ের পর থেকে ছোটোমাসির মধ্যে একটা মুরুব্বি মুরুব্বি ভাব এসেছে। তপনের লেখা গল্পটি পুরোটা না পড়েই সে তার মতামত জানায় এবং লেখাটা নিয়ে যায় তার স্বামীর কাছে। তার জোরাজুরিতেই তার স্বামী তপনের গল্পটা ছাপানোর ব্যবস্থা করতে রাজি হয়ে যান। তাই সেই গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছেপে বেরোলে মাসির মুখে আত্মপ্রসাদের আনন্দ দেখা যায়।

স্নেহময়ী: প্রায় সমবয়সি হলেও তপন ছিল তার বিশেষ স্নেহের পাত্র। তাই তার লেখা গল্প ছাপানোর ব্যাপারে মাসি এত উদ্যোগ নেয়। সে যখন মজা করে তপনের লেখাটা ‘টুকলিফাই' কিনা জানতে চায়, তখনও সেই বক্তব্যের মধ্যে অভিযোগ বা সন্দেহের বদলে স্নেহেরই সুর বাজে।

প্রশ্ন:   তপনের লেখা গল্প সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা কে, কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প অবলম্বনে লেখো।

অথবা, তপনের আত্মীয়স্বজন 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তার প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করেছেন বুঝিয়ে দাও ।

উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন। সে কল্পনাপ্রবণ, সাহিত্যানুরাগী। সে তার নতুন লেখক মেসোমশাইয়ের সান্নিধ্যে -এসে তার প্রতিভাকে বিকশিত করে কাঁচা হাতে লিখে ফেলে একটা আস্ত গল্প এবং প্রথম দেখাতে যায় তার ছোটোমাসিকে। তপনের থেকে আট বছরের বড়ো ছোটোমাসি গল্পে একটু চোখ বুলিয়েই পিঠ চাপড়ে বলে –“ওমা এ তো বেশ লিখেছিস রে?' যদিও তারপরে একটু সন্দেহের সুরে বলে ওঠে 'কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?' তবে ছোটোমাসিই তপনের লেখা গল্প তার লেখক স্বামীর কাছে নিয়ে গিয়ে দেখায়।


তপনের গল্প পড়ে ছোটোমেসোর

প্রতিক্রিয়া : তপনের ছোটোমেসোমশাই অধ্যাপক এবং লেখক হয়েও তপনের গল্প

প্রথম পড়ে তাচ্ছিল্য করেননি, বরং প্রশংসা করেছেন-তপন, তোমার গম তো দিব্যি হয়েছে' এবং সেই গল্প তিনি একটু ‘কারেকশান' করে তার পরিচিত 'সন্ধ্যাতারা'-র সম্পাদককে বলে ছাপার ব্যবস্থা করে দেন।


গল্পের পরবর্তীতে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কাছে তপনের নাম হয়ে

গেছে, 'কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী' আবার কেউ উঠতে বসতে তপনকে ঠাট্টা

করছে- 'তোর হবে। হ্যাঁ বাবা তোর হবে।' এরপর যখন তপনের সেই গল্প

‘সন্ধ্যাতারা” পত্রিকায় প্রকাশ পায় এবং সেই পত্রিকার সংখ্যা নিয়ে ছোটোমাসি

ও মেসোমশাই তাদের বাড়িতে আসে তখন বাড়িতে।একটা শোরগোল পড়ে যায়। সকলেই একবার করে চোখ

বোলায় এবং বলে— ‘বারে, চমৎকার লিখেছে তো!' মেসো তখন মৃদু হেসে বলে ‘একটু আধটু কারেকশান করতে হয়েছে।' তবে মাসি প্রতিবাদ করে বলেন – 'তা হোক, নতুন নতুন অমন হয়—' এরপর

ছড়িয়ে পড়ে কারেকশনের কথা। তপনের বাবা একটু অবজ্ঞার ছলেই বলেন—

'তাই। তা নইলে ফট করে একটা লিখল, আর ছাপা হলো। তপনের

মেজেকাকু বলেন- 'তা এরকম একটি লেখক মেসো থাকা মন্দ নয়। তারপর

তার মা তাকে গল্প পড়ে শোনাতে বলেন এবং মন্তব্য করে – 'বাবা, তোর পেটে

পেটে এত।' সকলেই যখন বলে তার নতুন মেসোর বদান্যতায় এবং কারেকশনের জন্য তার গল্প প্রকাশিত হয়েছে তখন তার গল্প প্রকাশের আর সে আনন্দ খুঁজে পায় না।