এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের। কোন বিষয় সন্দেহ ছিল তপনের? জ্ঞানচক্ষু গল্প || দশম শ্রেণী
![]() |
প্রশ্ন;- “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।—তপন কে? কোন্ বিষয় সন্দেহ ছিল তপনের?
উত্তর : আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন। সে স্কুলে পড়ে। সাহিত্যের প্রতি তপনের ঝোঁক ছোটোবেলা থেকেই।
| তপন লেখকদেরকে এক অন্য জগতের বাসিন্দা বলে মনে করত। তাঁরাও যে আর-পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই রোজকার জীবনযাপন করেন, তা ছিল তপনের কল্পনার বাইরে। সে আগে কোনোদিন কোনো লেখককে কাছ থেকে দেখেনি। এমনকি লেখকদের যে দেখা পাওয়া যায় এ কথাও তার জানা ছিল না। তাই লেখকরা যে তার বাবা, কাকা, মামাদের মতোই সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে তার সন্দেহ ছিল।
প্রশ্ন:- 'একেবারে নিছক মানুষ। এ কথার প্রমাণ কী ছিল?
উত্তর: নতুন মেসোমশাইয়ের লেখক পরিচয়ে আপ্লুত তপন লক্ষ করে যে, লেখক হলেও তিনি সাধারণের মতোই দাড়ি কামান, খেতে বসে খেতে
পারবেন না বলে অর্ধেক তুলে দেন, স্নান করেন, ঘুমোন,খবরের কাগজের খবর নিয়ে গল্প ও তর্ক করেন, সিনেমা দেখেন ও বেড়াতে বেরোন একেবারে সাধারণ মানুষের এইসমস্ত আটপৌরে ব্যাপার মেসোমশাইয়ের মধ্যে দেখে তপন প্রশ্নোদৃত মন্তব্যটি করেছিল।
প্ৰশ্ন: 'নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।- ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে কী বোঝ? তপনের জ্ঞানচক্ষু কীভাবে খুলে গিয়েছিল?
অথবা, ‘নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের। কীভাবে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল ?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে জ্ঞানচক্ষু বলতে মানুষের অন্তর্দৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে, যার সাহায্যে মানুষ প্রকৃত সত্যকে যাচাই করে নিতে পারে।
|| একজন লেখক সম্পর্কে তপনের মনে যে-ধারণা ছিল তা নতুন মেসোর
সংস্পর্শে এসে ভেঙে যায়। লেখকরা যে তার বাবা, মামা ও কাকাদের মতোই সাধারণ জীবনযাপন করে সেটা সে প্রত্যক্ষ করে। তাদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খেতে বসে খাবার তুলে দেন, পলিটিকাল তর্কও করেন- এসব তপনের জ্ঞানচক্ষু দেখেই তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। সে ভাবে লেখকরা আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব নয়, তারাও মানুষ।
