জ্ঞানচক্ষু গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা কর
জ্ঞানচক্ষু গল্পের নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই নামকরণ চরিতার্থ
সাহিত্যে নামকরণের করার জন্য লেখক কখনও চরিত্রকে, কখনও ঘটনাকে, পদ্ধতি কখনও-বা বিশেষ ব্যঞ্জনাকে আশ্রয় করেন। এখন'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণ কতটা সফল তা আমাদের বিচার্য বিষয়। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন কৌতূহলপ্রিয়। তাই লেখকদের সম্পর্কে তার একটা কৌতূহল ছিল। সে মনে করত লেখকরা বুঝি অন্য কোনো জগতের মানুষ। কিন্তু তার সদ্যবিবাহিত ছোটোমাসির স্বামী একজন লেখক এ কথা শুনে তপন বেশ অবাক হয়। আরও অবাক হয় যখন সে দেখে তার লেখক-মেসোর আচার- আচরণ, হাবভাব সবই তার বাবা, মামাদের মতো। এসব দেখে তার 'জ্ঞানচক্ষু' খুলে যায়। তপন বুঝতে নামকরণের সার্থকতা পারে লেখকরা আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব নয়।
সুতরাং, সেও গল্প লিখতে পারে। অনুপ্রাণিত তপন একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে। সেই গল্প নতুন মেসোর প্রশংসা ও আশ্বাস পেয়ে অবশেষে ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পায়। বাড়িময় আনন্দের জোয়ার সকলের অনুরোধে ছাপার অক্ষরে লেখা নিজের গল্প পড়তে গিয়ে তপন দেখে গল্পের একটি লাইনও তার নয়। মেসো কলম চালানোয় তার লেখা নিজস্বতা হারিয়েছে। আরও একবার তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। সে ভাবে পরবর্তী কালে তার লেখা কাউকে ছাপতে দিলে সে নিজের হাতেই দেবে।
বাস্তববোধ বা অন্তর্দৃষ্টির জাগরণকেই লেখিকা ব্যঞ্জনার্থে নামকরণ করেছেন—যা যথাযথ ও সার্থক।
