বঙ্গভূমির প্রতি | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | সপ্তম শ্রেণি বাংলা | হাতে কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর
![]() |
বঙ্গভূমির প্রতি
মাইকেল মধুসূদন দত্ত সপ্তম শ্রেণীর বাংলা
বিষয়বস্তু
বিদেশে থাকার সময় কবির মনে দেশের প্রতি যে পরম শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়েছে, তার থেকেই কবিতাটির জন্ম হয়েছে। দীর্ঘকাল বাংলাভাষাকে অবহেলা করে কবির মনে তীব্র অনুশোচনা জন্মায়। সেই অনুশোচনা থেকেই কবি
এতকালের গ্লানি মুছে দিতে তৎপর হয়েছেন। তাঁর মনের মধ্যে যেসব যন্ত্রণা ছিল, তাকেই দেশমায়ের কাছে সমর্পণ করে কবি অমরতা প্রার্থনা করেছেন। তাঁর দোষকে গুণ হিসেবে বিবেচনা করেই জন্মদাতা বঙ্গভূমি যেন চিরকাল কবিকে মনে রাখেন, এটাই কবির প্রত্যাশা।
বিশেষ কথা আলোচ্য কবিতাটি একটি গীতিকবিতা সাধারণত যে কবিতায় কবির মনের আভ্যন্তরীণ আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ ঘটে, তাকেই গীতিকবিতা বলে। গীতিকবিতার মধ্যে কবির স্বতঃস্ফূর্ত হৃদয়াবেগ ও সংগীতময়তার প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। তাই সাধারণভাবে বলা যায়, যখন কোনও কবিতা
গীতিময় কাব্যরূপ লাভ করে, তাকে গীতিকবিতা বলা যায়। ইংরেজিতে একেই বলে Lyric । আলোচ্য ‘বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতাটিতে বঙ্গদেশ এবং বাংলাভাষার প্রতি কবির অকৃত্রিম আবেগ ও ভালোবাসার প্রকাশ লক্ষ করা যায়। একসময় কবি ইংরেজি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দেশের সাহিত্যসম্পদকে অবহেলা করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে বঙ্গ সাহিত্যভাণ্ডারে ফিরে আসেন । পরিণত বয়সে এসে কবি এর জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন। তাঁর সেই আক্ষেপের সুর-ও কবিতাটিতে ধ্বনিত হয়েছে। কবি এই কবিতায় জন্মভূমিকে ‘মা রূপে সম্বোধন করেছেন এবং নিজেকে তাঁর ‘দাস’ বলেছেন। ভূমি-মাতৃকার স্নেহ-আশীর্বাদ তাঁর কাছে চরম আকাঙ্ক্ষিত বস্তু। সুতরাং, সব মিলিয়ে পাঠ্য কবিতাটিতে একান্ত ভাবেই কবির মানসিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠেছে। এই কারণেই এটি একটি সার্থক গীতিকবিতা হয়ে উঠেছে।
লেখক পরিচিতি
বাংলাদেশের যশোহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি বর্তমান মধুসুদন দত্তের জন্ম হয়। তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত আইনজীবী রাজনারায়ণ দত্ত আর মাতা ছিলেন জাহ্নবী দেবী। মায়ের কাছে, গ্রামেই তাঁর শিক্ষারম্ভ হয়। সাত বছর বয়সে তিনি কলকাতায় আসেন। খিদিরপুর স্কুলে পড়ার পর ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে মধুসূদন হিন্দু কলেজে ভরতি হন। এই সময় তাঁর বহু কবিতা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হত। তিনি হিন্দু কলেজের উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক ছিলেন। বিলেতে গিয়ে ইংরেজি সাহিত্যের বড়ো কবি হওয়ার বাসনায় মধুসূদন ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টানধর্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর নতুন নামকরণ হয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এরপর তিনি বিশপস্ কলেজে ভরতি হন। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে তাঁর জীবন আবর্তিত হতে থাকে। তাঁর মধ্যেই চলতে থাকে
সাহিত্যসাধনা। ইংরেজি ভাষায় তিনি লেখেন "The Captive Ladie’ ও ‘Vision of the Past' নামক দুটি কাব্য। কিন্তু।ইংরেজি সাহিত্যজগতে প্রত্যাশামতো খ্যাতি না-পাওয়ায় জনৈক ইংরেজ শুভানুধ্যায়ীর উপদেশমতো তিনি বাংলা
ভাষায় লিখতে শুরু করেন। এরপর তিনি লিখলেন কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ—‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা’, ‘ব্রজাঙ্গনা,’ ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ প্রভৃতি কাব্য। তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি নাটক হল—‘শর্মিষ্ঠা’, ‘পদ্মাবতী’, ‘কৃম্নকুমারী’, ‘একেই কি বলে সভ্যতা’, ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রভৃতি। তিনি বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা ও অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলা কাব্যে, নাটকে, কবিতায় নতুন যুগ আসে, নতুন ধারা প্রবর্তিত হয়। এই মহান কবি ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন ইহলোক ত্যাগ করেন।
বঙ্গভূমি প্রতি কবিতার সংক্ষিপ্তসার
কবি মাতৃভূমিকে মিনতি জানাচ্ছেন—দেশমাতা যেন তাঁকে মনে রাখে। মনের কোনো ইচ্ছে পূরণ করতে যদি ভুল হয়, তাহলে তাঁকে যেন বিস্মৃত না হয়। বিদেশে দৈবের কারণে যদি তিনি মারা যান, তাহলেও তাঁর দুঃখ নেই। কবি জানেন—জন্ম নিলে মৃত্যু অনিবার্য, কেউ অমর নয়।
কারণ জল যেমন স্থির নয়, তেমনই জীবনও নিত্য নয়। তাই দেশমায়ের কাছে কবির নিবেদন—মা যদি তাঁকে মনে রাখেন, তাহলে তিনি যমকেও ভয় পাবেন না। কারণ, অমৃতে মাছি পড়লে সে বেরিয়ে যেতে পারে না। তাই মানুষের মধ্যে সেই ধন্য, যাকে মানুষ ভুলে যায় না- সবসময় মনে রাখে। কিন্তু কবির হয়তো সেই খ্যাতি বা গুণ নেই। তবু দেশমাতা যেন তাঁর দোষকেই গুণ হিসাবে বিবেচনা করে তাঁকে অমর হওয়ার বর দেন। কবি আশা করেন, সবার মনে তিনি যেন স্থান পান। দেশমায়ের স্মৃতিতে কবি যেন সবসময় পদ্মফুলের মতো শোভাবর্ধন করেন।
বঙ্গভূমি প্রতি কবিতার নামকরণ:
যে-কোনো সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেই নামকরণ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, নামকরণের মধ্য দিয়েই সাহিত্যের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে পাঠক ধারণা করতে পারে।
আলোচ্য 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার নামকরণটিও বিষয়বস্তু কেন্দ্রিক। একদা যে-বঙ্গভূমিকে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত অবহেলা করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে তিনি আক্ষেপ করেছেন। বঙ্গভূমির সাহিত্য সম্পদ এবং ঐশ্বর্যকে উপেক্ষা করে তিনি ইংরেজি ভাষার বিখ্যাত কবি হওয়ার বাসনায় বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর সেই আশা পূরণ হয়নি। পরবর্তীকালে, তিনি অনুভব করেছিলেন দেশমৃত্তিকার টান। দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর প্রবল আস্থা ফিরে এসেছিল। আলোচ্য কবিতাটিও এই
পরিপ্রেক্ষিতেই রচিত হয়েছে। এখানে তিনি বঙ্গভূমিকে "মা" এবং নিজেকে তাঁর সন্তান বলে মনে করে, বঙ্গভূমির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়েছেন। তার সঙ্গে এই আশাও পোষণ করেছেন যেন, দেশের জনগণ তাঁকে মনে রাখেন, তা হলে, মৃত্যু হলেও তাঁর কোনো আক্ষেপ থাকবে না। অর্থাৎ, সমগ্র কবিতায় বঙ্গমাতা এবং তাঁর চরণে
আত্মনিবেদন-ই মূল বক্তব্য হয়ে উঠেছে। তাই কবিতার নামকরণ-ও বঙ্গভূমির প্রতি সার্থক ও যথাযথ হয়েছে।
শব্দার্থ
পদে—পায়ে, চরণে ।
সাধিতে— ইচ্ছা পূরণ করতে।
সাদ—সাধ, বাসনা।
দাস—চাকর, ভৃত্য, অনুগত।
মিনতি—প্রার্থনা, নিবেদন, আবেদন, অনুনয়, বিনীতভাবে চাওয়া ।
পরমাদ (‘প্রমাদ' শব্দের কোমল রূপ)—ভুল, মধুহীন—মধু ছাড়া, (এখানে) কবি নিজের অস্তিত্বহীনতার কথা বলছেন ।
তব—তোমার।
কোকনদ- লাল পদ্ম।
মনঃকোকনদ—মনরূপ লাল পদ্মফুল।
প্রবাসে - বিদেশে, অন্য দেশে।
দৈবের বশে—অদৃষ্ট বা ভাগ্যের কারণে। জীব-তারা—জীবন রূপ নক্ষত্র বা প্রাণ।
খসে -খসে পড়ে, বিচ্যুত হয়।
দেহ-আকাশ-দেহ রূপ আকাশ।
খেদ-বিলাপ, দুঃখ।
জন্মিলে—জন্মগ্রহণ করলে।
চিরস্থির - অনড়।
অমর—অবিনশ্বর,
নীর—জল, পানি।
ডরি—ভয় পাই।
মক্ষিকা—মাছি।
অমৃত— যা খেলে মানুষ
জীবন-নদে— জীবন রূপ নদীতে।
শমনে—যমকে, মৃত্যুর দেবতাকে।
অমৃত-হ্রদে > সুধাপূর্ণ হ্রদে।
ধন্য—কৃতার্থ, প্রশংসনীয়, সৌভাগ্যবান।
মধুময় - মধুতে পূর্ণ, মধুমাখা।
তামরস- পদ্ম।
শারদে - শরৎকালে।
নরকুলে—মানব জাতিতে, মনুষ্যবংশে।
সদা -সব সময়, সতত।
সর্বজন - সবাই।
গুণ—ভালো বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণ।
অমরতা— খ্যাতি, চিরস্মরণীয় হওয়া।
বর - আশীর্বাদ।
সুবরদে - সু (শুভ) বর দেন যিনি, বরদাত্রী।
মানসে- মনে, চিত্তে।
হাতে কলমে অনুশীলন প্রশ্নের উত্তর
১.সঠিক উত্তরটি খুঁজে নিয়ে লেখো :
১.১ বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় যে শীর্ষ উল্লেখটি আছে, সেটি কবি বায়রন-এর রচনা। তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হল -------।
উত্তর > ‘বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় যে শীর্ষ উল্লেখটি আছে, সেটি কবি বায়রন-এর রচনা। তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হল— 'House of Idleness' |
১.২ লালবর্ণের পদ্ম ‘কোকনদ’। সেরকম নীল রঙের পদ্মকে --------- ও সাদা রঙের পদ্মকে --------বলা হয়।
উত্তর> লালবর্ণের পদ্ম ‘কোকনদ’। সেরকম নীল রঙের পদ্মকে ইন্দিবর (নীলোৎপল) ও সাদা রঙের পদ্মকে পুণ্ডরীক বলা হয়।
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
২.১ “এ মিনতি করি পদে”—কবি কার কাছে কী প্রার্থনা জানিয়েছেন ?
উত্তর > কবি মধুসূদন দত্ত ‘বঙ্গভূমি’ তথা দেশমাতার কাছে অমরত্বের প্রার্থনা জানিয়েছেন।
২.২ “সেই ধন্য নরকুলে”–কোন্ মানুষ নরকুলে ধন্য হন ?
উত্তর > সাধারণ মানুষ যে-মানুষকে কখনও ভোলে না, সেই ব্যক্তিই নরকুলে ধন্য হন।
৩.. গদ্যরূপ লেখো :
পরমাদ, যাচিব, কহ, যথা, জন্মিলে, দেহ, হেন,
সাধিতে।
উত্তর > পরমাদ—প্রমাদ,
যাচি—চাইব,
কহ - বলো,
যথা—যেমন,
জন্মিলে— জন্মগ্রহণ করলে,
দেহ—দাও,
হেন— এমন,
সাধিতে—সাধ করতে, ইচ্ছেমতো।
৪. শূন্যস্থানে উপযুক্ত বিশেষণ বসাও :
--------মন্দির,
--------তামরস।
---------হ্রদ,
উত্তর > শূন্য মন্দির,
পূর্ণ হ্রদ,
সুন্দর তামরস।
৫. স্থূলাক্ষর অংশগুলির কারক বিভক্তি নির্ণয় করো।
৫.১ রেখো, মা, দাসেরে মনে।
উত্তর : মা > সম্বোধন পদে শূন্য বিভক্তি।
৫.২ এ দেহ-আকাশ হতে।
উত্তর: > দেহ-আকাশ—অপাদান কারকে ‘হতে' অনুসর্গ ।
৫.৩ মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
উত্তর: মধুহীন—কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
৫.৪ মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্বজন ।
উত্তর: > মন্দিরে—অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
৫.৫ মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে।
উত্তর: অমৃত-হ্রদে—অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
৬. পদ পরিবর্তন করে বাক্য রচনা করো :
মধু, প্রকাশ, দেহ, অমর, দোষ, বসন্ত, দৈব।
উত্তর: মধু—(মধুময়)—জীবনকে মধুময় করে তোলো।
প্রকাশ—(প্রকাশিত)—শারদীয় দেশ পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে।
> দেহ—(দৈহিক)—বাবার দৈহিক অবস্থা ভালো নয়।
> অমর—(অমরত্ব)—দেবতারা অমরত্বের বর পেয়েছিল ।
দোষ—(দোষী)—দোষী ব্যক্তিকে আদালত শাস্তি দেবে ।
> বসন্ত—(বাসন্তী)—বাসন্তী পূর্ণিমায় প্রকৃতি চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
> দৈব—–(দেব)—রমেনের দেব-দ্বিজে ভক্তি আছে।
৭. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো :
প্রবাস, অমর, স্থির, জীবন, অমৃত।
উত্তর: প্রবাস—অপ্রবাস, স্বদেশ।
অমর—মরণশীল ।
স্থির-অস্থির, চলমান।
জীবন—মরণ।
অমৃত - গরল।
৮ ‘পরমাদ' শব্দটি কোন্ মূল শব্দ থেকে এসেছে ?
উত্তর > ‘পরমাদ' শব্দটি মূল ‘প্রমাদ' শব্দ থেকে এসেছে।
৯. কবির নিজেকে বঙ্গভূমির দাস বলার মধ্য দিয়ে তাঁর কোন্ মনোভাবের পরিচয় মেলে ?
উত্তর > নিজেকে ‘বঙ্গভূমির দাস' বলার মধ্য দিয়ে দেশমাতার প্রতি কবির পরম শ্রদ্ধার মনোভাব লক্ষ করা।
১০ “মধুহীন কোরো না গো”—'মধু' শব্দটি কোন্ দুটি অর্থে প্রযুক্ত হয়েছে ?
উত্তর: > 'মধু' শব্দটি দুটি অর্থে প্রযুক্ত হয়েছে। (১) মধু—অর্থ ফুলের আরক বা নির্যাস। ও (২) মধু কবি-অর্থে মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
১১. কবিতা থেকে পাঁচটি উপমা বা তুলনাবাচক শব্দ নিয়ে লেখো।
উত্তর > পাঁচটি উপমা বা তুলনাবাচক শব্দ হল-
(১) মনঃকোকনদ, (২) দেহ-আকাশ, (৩) জীবন-
(৪) অমৃত-হ্রদে, (৫) স্মৃতি-জলে।
১২. ‘মন্দির’ শব্দটির আদি ও প্রচলিত অর্থ দুটি লেখো।
উত্তর > মন্দির শব্দটির আদি অর্থ হল—'গৃহ' বা 'যে-কোন বাড়ি’। আর প্রচলিত অর্থ হল—‘দেবালয়'।
১৩. কবিতাটিতে কোন্ কোন্ ঋতুর উল্লেখ রয়েছে ?
উত্তর > ‘বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় কবি 'বসন্ত' ও শরৎ ঋতুর উল্লেখ করেছেন।
১৪. ‘মানস’ শব্দটি কবিতায় কোন্ কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ?
উত্তর-: ‘মানস’ শব্দটি কবিতায় মানস সরোবর ও মনের অবস্থা' এই দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
১৫. কবির দৃষ্টিতে নশ্বর মানুষ কীভাবে অমরতা লাভ করতে পারে তা লেখো ৷
উত্তর > কবির দৃষ্টিতে নশ্বর মানুষ তার গুণ, সৃষ্টিকর্ম ও কাজের মধ্য দিয়ে অমরতা লাভ করতে পারে।
অন্য প্রশ্নোত্তর
★ কবিতা থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।
প্রশ্ন: মধুময় (শতদল/তামরস/পদ্মজালি) কি বসন্ত কি শরদে!
উত্তর: তামরস।প্রশ্ন: মধুময় (শতদল/তামরস/পদ্মজালি) কি বসন্ত কি শরদে!
উত্তর: তামরস।
প্রশ্ন: (জন্মালে/জনমিলে/জন্মিলে মরিতে হবে।
উত্তর: জন্মিলে ।
প্রশ্ন: মনের মন্দিরে সদা, সেবে (সর্বজন/হরিজন/সর্বজন।
উত্তর: সর্বজন।
প্রশ্ন: সাধিতে মনের সাদ ঘটে যদি (বিস্বাদ/প্রমাণ/ পরমাদ)।
উত্তর- পরমাদ।
প্রশ্ন: ফুটি যেন (পদ্ম/স্মৃতি/সরঃ) জলে।
উত্তর- স্মৃতি ।
প্রশ্ন: প্রবাস', 'দৈব' শব্দের অর্থ কী ?
উত্তর- ‘প্রবাস’শব্দের অর্থ 'বিদেশ' আর 'দৈব' শব্দের অর্থ “অদৃষ্ট” বা ভাগ্য”।
প্রশ্ন: 'জীব-তারা” কোথা থেকে খসে পড়ে ?
উত্তর- দেহরূপ আকাশ থেকে ‘জীব-তারা খসে পড়ে ৷
প্রশ্ন: “নাহি খেদ তাহে”- কবির কীসে কোনো খেদ থাকবে না ?
উত্তর: দেহরূপ আকাশ থেকে ‘জীব-তারা খসে পড়লে অর্থাৎ, প্রাণত্যাগ করলেও কবির কোনো খেদ থাকবে না।
প্রশ্ন: “চিরস্থির কবে নীর, / হায় রে, জীবন-নদে ?”
—জীবন-নদ’ কী ? কবি জীবনকে নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন কেন ?
উত্তর - ‘জীবন-নদ’ হল জীবনরূপ নদী অর্থাৎ, জীবনকে কবি নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
* নদী সতত প্রবহমান। তার যেমন জোয়ার-ভাটা আছে, তেমনই উত্থান-পতন আছে। আবার নদী একসময় তার প্রবাহপথে মিলিয়েও যায়। একইভাবে জীবনও বয়ে চলে । অর্থাৎ, মানুষ শিশু থেকে ক্রমশ বড়ো হয় ।। তারও উত্থান-পতন ঘটে আবার একসময় মারাও যায় ৷
অর্থাৎ, সেও নদীর মতো মিলিয়ে যায়। নদীর মিলিয়ে যাওয়াকে মানুষের জীবনের পরিসমাপ্তির সঙ্গে তুলনা করতে গিয়েই কবি এই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
প্রশ্ন:কোনো অবস্থায়, কে স্থির থাকে না ?
উত্তর: কোনো অবস্থাতেই ‘নীর' অর্থাৎ, জল স্থির থাকে না ।
প্রশ্ন: কৰি কখন যমকেও ভয় করবেন না ?
উত্তর : যদি কবির জন্মস্থান 'বঙ্গভূমি' কবিকে মনে রাখে, তবে তিনি যমকেও ভয় করবেন না।
প্রশ্ন: জন্মের অনিবার্য পরিণতি কী ?
উত্তর: জন্মের অনিবার্য পরিণতি হল মৃত্যু।
প্রশ্ন: কোথায় মক্ষিকা পড়লেও গলে না ?
উত্তর: 'অমৃত-হ্রদে 'মক্ষিকা পড়লেও গলে না।
প্রশ্ন: নরকুলে কে ধন্য হয় ?
উত্তর: দেশের মানুষ যাকে কখনো ভোলে না, সে-ই নরকুলে 'ধন্য' হয়।
প্রশ্ন: কবি জন্মভূমিকে কী বলে সম্বোধন করেছেন ?
উত্তর: কবি জন্মভূমিকে “মা”, শ্যামা জন্মদে', 'সুবরদে' বলে সম্বোধন করেছেন।
প্রশ্ন: বসন্ত ও শরৎকালে কী ফোটে ?
উত্তর: বসন্ত ও শরৎকালে মধুময় তামরস অর্থাৎ, পদ্মফুল ফোটে।
প্রশ্ন: 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় কোন বিদেশি কবির নাম উল্লেখ আছে ?
উত্তর: 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় যে-বিদেশি কবির নাম উল্লেখ আছে, তিনি হলেন— ইংরেজ কবি লর্ড বায়রন।
প্রশ্ন: বঙ্গভূমির মানুষরা কোন্ ভাষায় কথা বলে ?
উত্তর: বঙ্গভূমির মানুষরা বাংলা ভাষায় কথা বলে।
প্রশ্ন: বঙ্গভূমিকে আর কোন নামে ডাকা যায় ?
উত্তর: বঙ্গভূমিকে বাংলাভূমি, বাংলাদেশ, বাংলা প্রভৃতি নামে ডাকা যায়।
প্রশ্ন: “এ দেহ-আকাশ হতে, / নাহি খেদ তাহে” কবির কীসে কোনো ‘খেদ’ নেই ? ‘দেহ-আকাশ' কথার তাৎপর্য লেখো।
উত্তর- কবির ‘দেহ-আকাশ’ থেকে ‘জীবন-তারা' খসে গেলেও অর্থাৎ কবির মৃত্যু হলেও, কবির কোনো খেদ নেই।
‘দেহ-আকাশ' কথার অর্থ হল—দেহরূপ আকাশ অর্থাৎ শরীর। আকাশে যেমন তারার সমাবেশ থাকে, তেমনই দেহে রয়েছে প্রাণের উপস্থিতি। আকাশ থেকে তারা খসে পড়ে শূন্যে মিলিয়ে যায়। কবি দেহকে তাই আকাশের সঙ্গে তুলনা করে সেখানে প্রাণের অবস্থানকে নির্দেশ করেছেন।
প্রশ্ন: “- “নাহি, মা, ডরি শমনে”—কবি কাকে 'মা' বলেছেন ? কবি কখন শমনকে ভয় পাবেন না ?
উত্তর- কবি তাঁর 'জন্মভূমি' অর্থাৎ বঙ্গভূমিকে 'মা' বলে সম্বোধন করেছেন।
* কবি মাতৃভূমির কাছে অমরতা প্রার্থনা করেছেন। কবি চান, দেশের মানুষ যেন তাঁকে মনে রাখে। আবার তাঁর সংশয় তিনি এমন কোনো মহৎ কাজ করেননি, যাতে মানুষ তাঁকে মনে রাখবে। তাই কবি প্রার্থনা করেছেন— যদি তাঁর দোষকে গুণ ধরে নিয়ে বঙ্গভূমি মা তাঁকে স্মরণে রাখে, তাহলে তিনি শমনকেও ভয় পাবেন না।
