নদীর বিদ্রোহ গল্পে নদীর চন্দের চরিত্রটি আলোচনা কর - school book solver

Sunday, 1 November 2026

নদীর বিদ্রোহ গল্পে নদীর চন্দের চরিত্রটি আলোচনা কর

 


 

প্রশ্ন : নদের চাঁদের চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পটি নদীপ্রেমিক নদের চাঁদের তীব্র আবেগ ও আকুলতাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে।
গল্পের নিয়ন্ত্রক বা কেন্দ্রীয় চরিত্র যে সে, এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
নদের চাঁদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতাবোধ অনুভব করা। তাইতো প্রকৃতিসৃষ্ট নদীর সঙ্গে গড়ে ওঠে তার আত্মীয়তা। এই আত্মীয়তা যেমন ছিল নিজের দেশের ক্ষীণস্রোতা নির্জীব নদীটির প্রতি, তেমনি ছিল কর্মস্থলের কাছের নদীটির প্রতিও।
বয়স ত্রিশ হলেও নদীকে নিয়ে নদেরচাঁদের ছেলেমানুষি ভাব ছিল। দেশের নদীটির ক্ষীণ স্রোতধারা অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়ার ছেলেমানুষি স্বভাব উপক্রম হলে সে কেঁদে ফেলেছিল। আবার কর্মস্থলের নদীটিকে না-দেখে সে কষ্ট অনুভব করছিল।

নদের চাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসা, বর্ষায় স্ত্রীর বিরহে কাতর হয়ে ওঠা- এগুলি আবেগপ্রবণতার লক্ষণ। আবার বিরহে কাতর হয়ে স্ত্রীকে লেখা চিঠি খেলার ছলে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দেয় নদেরচাঁদ। এ থেকে বোঝা যায়, তার মধ্যে কাজ করে চলে এক অস্থিরতা। তাই অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে পাঁচদিন নদীর কাছে যেতে না-পেরে ছটফট করে সে। নদীই যেন নিঃসঙ্গ নদেরচাদের প্রেয়সীতে রূপান্তরিত হয়।
নদেরচাঁদ নদীর ভাষা বুঝত। নদীর ভয়ংকরী রূপ দেখে সে বুঝতে পেরেছিল, সভ্যতার নামে প্রকৃতিকে পদানত করলে শেষপর্যন্ত তা ধ্বংসই ডেকে আনবে। তার এই উপলব্ধি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সংবেদনশীলতারই পরিচয়। তাই সে যে ব্রিজ নিয়ে গর্ব করেছিল, তার প্রয়োজনীয়তা বিষয়েই সংশয় প্রকাশ করে।
নদেরচাঁদ যতই আবেগপ্রবণ হোক, নদীর প্রতি তার যতই টান থাকুক, তা কিন্তু কখনোই তার কর্তব্যপালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। স্টেশনমাস্টার হিসেবে সে তার দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করে।
সব মিলিয়ে নদেরচাঁদ একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে। গল্পের শেষে তার নিয়তি-নির্দিষ্ট মৃত্যু যেন মানুষের নিজের তৈরি যন্ত্রসভ্যতার হাতে অসহায় ও করুণ পরিণতির এক আশ্চর্য ভাষ্য হয়ে ওঠে।