মাকু গল্প হাতে-কলমে প্রশ্নের উত্তর সপ্তম শ্রেণি বাংলা - school book solver

Tuesday, 5 May 2026

মাকু গল্প হাতে-কলমে প্রশ্নের উত্তর সপ্তম শ্রেণি বাংলা

 


মাকু গল্পের হাতে কলমে প্রশ্নের উত্তর সপ্তম শ্রেণী বাংলা


১ অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : (শব্দসংখ্যা ১০-২৫) [পূর্ণমান-২)


১. আম্মা কে ছিলেন?

উত্তর : বাপির ছোটোবেলার ধাইমা হল আম্মা। বাপি তাকে আইমা বলে ডাকত। সোনা, টিয়া ছোটোবেলা থেকে আইমা না বলতে পেরে আম্মা বলে।

২. সং কে? সে বনের মধ্যে কী করছিল?

উত্তর : রঙচঙে লাঠি হাতে আধখানা লাল আধখানা নীল পোশাক পরা মানুষ হল সং। সে বনের মধ্যে সরু নালামতো জায়গা বেয়ে জল খেতে যাচ্ছিল।

৩. ঘড়িওয়ালার দাদা কে?

উত্তর : কালিয়া বনের বটতলার হোটেলের মালিক হল ঘড়িওয়ালার দাদা।

৪. সোনা, টিয়া যাকে পেয়াদা ভেবেছিল সে আসলে কে?

উত্তর : সোনা, টিয়া যাকে পেয়াদা ভেবেছিল সে আসলে হোটেলের মালিক ।

৫. যে চাবি দিয়ে টিয়া মাকুকে চালু করেছিল সেটা আসলে কী ছিল?

উত্তর : যে চাবি দিয়ে টিয়া মাকুকে চালু করেছিল সেটা আসলে একটা কানখুশকি ছিল।

৬. সোনা, টিয়াকে জাদুকর কী দিয়েছিল?

উত্তরঃ মালিকের জন্মদিনে জাদুকর শূন্য থেকে খপখপ করে গোলগাল দুটি সাদা খরগোশের বাচ্চা সোনা, টিয়াকে উপহার হিসেবে দিল।

৭. পিসেমশাই কী চাকরি করতেন?

উত্তর : পিসেমশাই পুলিশে চাকরি করতেন।

৮. স্বর্গের সুরুয়া কেমনভাবে রান্না করা হত?

উত্তর ঃ হোটেলওয়ালা সুরুয়া রান্নার সময় নিজের দাড়ি গোঁফজোড়া খুলে টপ করে হাঁড়িতে ফেলে দিত, তারপর সুরুয়ার সঙ্গে টগবগ করে ফুটে স্বর্গের সুরুয়া রান্না করা হত।

 ২.সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

১. কালিয়া বন কোথায়, সেখানে কীভাবে যেতে হয় ?

উত্তর : বাড়ি থেকে গলিপথে বড়ো রাস্তা, তারপর গির্জা, তারপর গোরস্থান। গোরস্থানের পর শুন শুনির মাঠ। তারপরই দূরে ঘন নীল কালিয়া বন দেখা যায়। কালিয়া বনে যাওয়ার পথ বড্ড ফাঁকা। সরু গলি থেকে যতদূর দেখা যায় এ-মাথা থেকে ও-মাথা কেউ কোথাও নেই। সেই পথে দুপুরের রোদে পায়ের কাছে নিজেদের ছায়াগুলোকে জড়ো করে এনে গাছপালা ঝিমঝিম করে।

২. ঘড়িওয়ালার হ্যান্ডবিলে কী লেখা ছিল সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর ঃ মাকুকে খুঁজে বের করার জন্য ঘড়িওয়ালা বিজ্ঞাপন হিসেবে হ্যান্ডবিল লিখে প্রচার করেছিল। সেই হ্যান্ডবিলে লেখা ছিল-

     মাত্র পঁচিশ পয়সায় !

অদ্ভুত           অত্যাশ্চর্য!!

     মাকু দি গ্রেট 

অভাবনীয় দৃশ্য দেখে যান !


৩. মাকুর চাবি কতদিনের জন্য ঘড়িওয়ালা দিয়েছিল? তারপর কী হওয়ার কথা ?

উত্তর : মাকুর চাবি একবছরের জন্য ঘড়িওয়ালা দিয়েছিল। তার সাড়ে এগারো মাস কেটে গেছে আর পনেরো দিন বাকি আছে।

> চাবি শেষ হয়ে গেলে মাকু নেতিয়ে পড়বে। তখন চোর-ডাকাত এসে ওর কলকব্জা খুলে নিলে মাকুর সব শেষ।

৪. হোটেলওয়ালাকে কেমন দেখতে? সে সোনা, টিয়াকে কীভাবে সাহায্য করেছিল ?

উত্তর : হোটেলওয়ালার মুখভরা ঝুলো গোঁফ আর থুতনি ঢাকা, ছাই রঙের দাড়ি, দেখে মনে হয় যেন ধোপার বাড়ি থেকে ফিরেছে। হোটেলওয়ালা নিজের হাতে তৈরি করা স্বর্গের সুরুয়া আর শালপাতায় হাতরুটি পেট ভরে সোনা, টিয়াকে খাইয়ে গাছঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। হোটেলওয়ালা তাদের বলেছিল, গাছের ধারে ছোটো ঝরনায় স্নান করবে, কাপড় কাচবে, বাসন ধোবে, দিনে দিনে ব্যাবসা জমে উঠবে।

৫. সং কেন সপ্তাহে তিনবার পোস্ট অফিসে যেত?

উত্তর ঃ প্রতি সপ্তাহে সং লটারির টিকিট কাটে। সে জানে কোনোমতে একবার লটারির টিকিট মিলে গেলে অনেক টাকা একসঙ্গে পেয়ে সে বড়োলোক হয়ে যাবে। সেইজন্য টিকিট মিলল কিনা এই খবরটা আনতে প্রতি সপ্তাহে তিনবার গ্রামের পোস্টঅফিসে সং যায়।

৬. সং-এর লটারির টিকিটের আধখানা হোটেলওয়ালা কীভাবে হারিয়েছিল ?

উত্তর : সং লটারির টিকিটের আধখানা হোটলওয়ালাকে রাখতে দিয়েছিল। হোটেলওয়ালা টিকিকের আধখানা অংশ কানে গুঁজে রেখেছিল, কোথায় পড়ে গেছে। এখন খুঁজে পাচ্ছে না।

৭. বাঘ ধরার ফাঁদ কীরকম দেখতে?

উত্তর ঃ বনে যখন বসতি ছিল তখন গাঁয়ের লোকেরা বাঘ ধরার জন্য তৈরি করেছিল এই বহু পুরানো ফাঁদ। মাটিতে দু-মানুষ সমান গভীর গর্ত খুঁড়ে তার ওপর কাঠকুটো, লতা-পাতা দিয়ে ঢাকা, এর মধ্যে জন্তু জানোয়ারকে একবার ফেলে দিতে পারলে তার আর ওঠার উপায় থাকত না।

৮. হোটেলওয়ালা আসলে কে?

উত্তর : হোটেলওয়ালা আসলে সার্কাস দলের নিখোজ হয়ে যাওয়া নোটো মাস্টার।

৯. মাকুকে কে দম দিয়ে আবার চালু করল? কীভাবে?

উত্তর : মাকুকে টিয়া দম দিয়ে চালু করল। মাকুর কোট-শার্ট আঁট করে পরা ছিল। ঘড়িওয়ালা যত্ন করে গলার বোতাম খুলে জামাখানা ঢিলে করে দিল। আর মাকুর ঘাড়টাকে খালি করে ঘাড়ের নীচে যে ছোটো গোল একটা গোলাপি গর্ত ছিল তাতে টিয়া সঙ্গে আনা তার মায়ের রূপোর সিদুর কাঠিটা ঢুকিয়ে আস্তে আস্তে পাক দিয়ে দম দিল।

১০. এর লটারির টিকিটের আধখানা কীভাবে খুঁজে পাওয়া গেল?

উত্তর : সংবাবুর লটারির টিকিট মিলেছে, পোস্টঅফিসে গিয়ে দেখালেই পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এই সুসংবাদ শোনা মাত্র সং অজ্ঞান হয়ে গেল। আর মালিক বুক চাপড়ে কেঁদে উঠল, কারণ সে অর্ধেক টিকিট হারিয়ে ফেলেছে। সোনা, টিয়াকে খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা পায়নি। এখন সোনা সং-এর কাছে থেকে পাওয়া আধখানা গোলাপি রঙের টিকিটের অংশ দেখে চমকে উঠল। সোনা, টিয়ার কাছে পুটুলি কেড়ে গোলাপি চাবিকাঠি বের করে তার বাইরের গোলাপি মোড়ক খুলতেই তার মায়ের সিঁদুর পরার রুপোর কাঠি বেরিয়ে গেল। এবার ওই গোলাপি মোড়কটাই ছিল টিকিটের বাকি অংশ। সেটা সোনা সং-এর হাতে দিল।



৩.নিজের ভাষায় উত্তর দাও : (শব্দসংখ্যা ৭৫-২০০ ) [পূর্ণমান-৫]

১. মাকু কে? সে কেন ঘড়িওয়ালাকে খুঁজছিল ?

উত্তর ঃ মাকু হল টিন দিয়ে তৈরি ঘড়ির কল দিয়ে ঠাসা একটি পুতুল। মাকু কথা বলে, গান গায়, নাচ করে, অঙ্ক করে, হাতুড়ি পেটে, দড়ির জট খোলে, পেরেক ঠোকে, ইস্ত্রি চালায়, রান্না করে, কাপড় কাছে, সেলাই কল চালায়। মাকু অল্প অল্প হাসতে পারে, কিন্তু কাদতে সে মোটেই পারে না।

মাকু ঘড়িওয়ালাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। ঘড়িওয়ালাকে দেখতে পেলেই সে তার কাছে হাসার কল, কাঁদার কল বসিয়ে দেওয়ার জন্য বায়না করবে। তাহলে সে মস্ত মানুষ হয়ে যাবে, রাজার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে।

সার্কাসের জাদুকর বাঁশি বাজিয়ে জাদুর রাজকন্যাকে দেখাতেই মাকু বায়না করে ওই রাজকন্যাকে সে বিয়ে করবে। মাকু কলের তৈরি খেলনা, কাতুকুতু দিলে হাসে না, দুঃখ হলে কাঁদে না- সে ভেল্কির রাজকন্যা পরিদের রানিকে বিয়ে করতে চায়। মাকুকে তৈরি করে ঘড়িওয়ালার সব বিদ্যেবুদ্ধি শেষ। এখন মাকু হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ঘড়িওয়ালাকে দেখলেই সে তাকে দিয়ে হাসিকান্নার কল নিজের শরীরে লাগিয়ে নেবে। কিন্তু এখন হাসিকান্নার কল তৈরি করা ঘড়িওয়ালার কর্ম নয়।

২. নদীতে জানোয়ারদের খান করার যে দৃশ্য সোনা, টিয়া দেখেছিল তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর ঃ সোনা, টিয়া যত বনের গভীরে প্রবেশ করল ততই দেখল বন আরও ঘন হয়ে আসছে। একসময় তারা গাছের নীচে টলটল করে জল বয়ে যেতে দেখল। এতটুকু সরু নদী, পরিষ্কার তার জল, তলাকার নুড়ি পাথর চকচক করছে দেখা যাচ্ছে। সুন্দর ঝরঝর, ছলছল জলের শব্দ তাদের কানে এলো। তারা চেয়ে দেখল নদীর ওপরে সরু নালা মতো জায়গা বেয়ে জানোয়ারগুলো জল খেতে আসছে। প্রথমে দুটো ঘোড়া, তাদের তাড়িয়ে নিয়ে আসছে টুপি পরা দুটো বাঁদর, তাদের পিছনে গলায় ঘণ্টা বাঁধা একটা ছাগল, তার পিছনে পরপর মোটা মোটা কয়েকটা ভালুক, তার পিছনে গোটা ছয় কোঁকড়া লোম ছোটো কুকুর, সবার শেষে রঙচঙে লাঠি হাতে আধখানা লাল আধখানা নীল পোশাক পরা সত্যিকার সং।

৩. 'হোটেল বলে হোটেল' সে এক এলাহি ব্যাপার!—বনের মধ্যে এই হোটেল কে চালাত? তার কীর্তিকলাপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।

উত্তর ঃ বনের মধ্যে এই হোটেল চালাত হোটেলওয়ালা অর্থাৎ ঘড়িওয়ালার দাদা। বাকি ‘চার’ কালিয়া বনের বটতলায় একটি হোটেল ছিল। এই হোটেলের একজন মালিক ছিল। বনের বেশ খানিকটা অংশ জুড়ে হোটেল। গাছের গোড়ায় তিনটে পাথর বসিয়ে প্রকাণ্ড উনুন। তার গনগনে আগুন সারাদিন ধরে টগবগ করে কী যেন ফুটছে আর তার সুগন্ধে চারদিক মো-মো করছে। সেখানে সবসময় হোটেলওয়ালা রান্নাবান্নায় ব্যস্ত। তার হাতে স্বর্গের সুরুয়া আর হাতরুটি যে একবার খেয়েছে সে কোনোদিন ভুলতে পারবে না।

হোটেলওয়ালা লোকটা খুব ভালো। সোনা, টিয়ার কাছে পয়সা নেই শুনেও খুব যত্ন করে তাদের খাবার খাইয়েছে। হোটেলওয়ালা একাই হোটেলটা চালায়। সোনা, টিয়াকে পেয়ে সে খুব খুশি। তাদের একবেলার বাসন পরিষ্কারের কাজ দেয়, পরিবর্তে বিনা পয়সায় খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে।

অনেকসময় হোটেলওয়ালা বাঁশতলায় খরগোশের ফাঁদ পেতে খরগোশ ধরে। সেই খরগোশের কালিয়া রান্না করে, অদ্ভুত তার স্বাদ। কালো, কুৎসিত, দুষ্টু খরগোশের কালিয়ার স্বাদ নাকি দারুণ হয়।

৪. সার্কাসের লোকেরা বনের মধ্যে কেন ছিল? হোটেলওয়ালা সোনা, টিয়াকে কী ব্যাখ্যা দিয়েছিল?

উত্তর : কালিয়ার বন ঘন গাছপালায় ভরা নির্জন বন। এই বনের মধ্যে 'বটতলায় খাওয়া-দাওয়ার জন্য একটা হোটেলের ব্যবস্থা আছে। বারবার মকশো অর্থাৎ চর্চা বা অনুশীলন না করলে সার্কাস দেখানো যায় না। সার্কাস যেহেতু এদের জীবিকা সেইজন্য এই নির্জন এলাকায় এরা গা ঢাকা দিয়ে আছে। তবে গা ঢাকা দিয়ে থাকার একটা কারণ সার্কাসের অধিকারীমশাই নিখোঁজ হওয়ায় সার্কাসের দলবলের নামে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অধিকারীমশাই তাঁবু কিনে বড়ো ঝাড়বাতি কিনে, সকলের নতুন নতুন পোশাক তৈরি করে চারদিকে নতুন সার্কাস খেলার বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে দিত।

এ ছাড়া কোনো জিনিসপত্রের দাম না দিয়ে হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে কোথায় নিখোঁজ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পাওনাদার দোকানিরা থানায় জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। সেই কারণেই সার্কাসের দলবলসহ জাদুকর বনের মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে কালযাপন করছে। আর অধিকারীমশাই-এর সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

হোটেলওয়ালাকে সোনা-সার্কাসের লোকজন বনের মধ্যে আছে কেন এই প্রশ্ন করায় হোটেলওয়ালা ব্যাখ্যা করে বলে, নতুন সার্কাস শুরুর আগে নতুন তাঁবু, নতুন ঝাড়বাতি, সকলের নতুন পোশাক, খেলা দেখানোর জন্য চারদিকে বিজ্ঞাপন ইত্যাদি নানান কারণে অনেক জিনিস সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো জিনিসের দাম এখনও দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় দাম না দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে অধিকারী মশাই নিখোঁজ হয়েছে। দোকানদাররা থানায় খবর দিয়েছে, জিনিসপত্র আটকে রেখেছে। সার্কাস দলের অন্যান্য লোকজনের নামে থানা থেকে পরোয়ানা বের হয়েছে। দেখা পেলেই ধরে নিয়ে যাবে। সেইজন্য সার্কাসের লোকজন বনের মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে আছে।

৫. ঘড়িওয়ালা বনের মধ্যে লুকিয়ে বেড়াত কেন ?

উত্তর : কালিয়া বনে যাওয়ার সময় গোরস্থানের ফটকের সামনে ঝোলাঝালা কোর্ট পেন্টলুন পরা ঘড়িওয়ালার সঙ্গে সোনা-টিয়ার দেখা হয়। হোটেল ওয়ালার ছোটো ভাই ঘড়িওয়ালাকে বনের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে হয়। মাকু হল ঘড়িওয়ালার প্রাণ, সতেরো বছর ধরে নানান যন্ত্রপাতি, চাকা, স্প্রিং দিয়ে ঘড়িওয়ালা মাকুকে তৈরি করেছে।

মাকু হল কলের পুতুল। সে হাসতে পারে, কিন্তু কাঁদতে পারে না। তার শরীরের কাদার কল লাগিয়ে দেওয়ার জন্য।সে ঘড়িওয়ালার কাছে বায়না করে। ঘড়িওয়ালা কাঁদার কল তৈরি করে দিতে অপারগ। মাকু এখন পালিয়েছে। সে ঘড়িওয়ালাকে পেলে কাঁদার কলের জন্য বায়না করবে সেইজন্য ঘড়িওয়ালাও বনের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে থাকে।

৬. বনের মধ্যে সোনা-টিয়া কী কী জন্তু-জানোয়ার দেখেছিল নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর ঃ বনের মধ্যে গাছের নীচে সোনা, টিয়া দুজন ময়লা জামা পড়েই নাচ, গান অনুশীলন শুরু করলে গাছ থেকে সাদা ফুল টুপটাপ করে মাটিতে পড়ে। সোনা, টিয়া সেগুলো তুলে চুলের মধ্যে, কানের পিছনে গুঁজে রাখে। কোথা থেকে এক জোড়া সবুজ পায়রা গাছের ডালে বসে বাকুম্ বাকুম্ করে। পাতার আড়াল থেকে কাঠঠোকরা ঠুনুন ঠুনুনন করে তাল দেয়, ঝোপের একধারে বনময়ূর এসে সোনা, টিয়ার নাচের তালে তালে পেখম ধরে নাচ জমায়। টিয়া গান থামিয়ে ময়ুরকে নাচতে বারণ করে। কারণ পেখম তুলে ময়ূর নাচ করলে বৃষ্টি আসতে পারে, আর বৃষ্টি এলে রাতের বেলা ঘাসজমিতে খেলা বন্ধ হয়ে যাবে।

৭. হোটেলওয়ালার জন্মদিনের উৎসব কেমন হয়েছিল লেখো।

উত্তর ঃ ঘাসজমির মাঝখানে পুরোনো শিরীষ গাছ অনেক উঁচুতে ডালপালা মেলে তাঁবুর মতো তৈরি করেছে। তার নীচে সার্কাস খেলা দেখানো হল। হোটেলওয়ালার মালিকের জন্মদিনে মালিক স্বয়ং রিং মাস্টার হয়ে সার্কাসে খেলা নিখুঁতভাবে।পরিচালনা করল। সোনা, টিয়ার নাচ-গান, মাকুর খেলা, জাদুকরের খেলা, মগডাল থেকে পরিদের রানি নেমে আসার।জাদুগিরি আর সবশেষে ধুমধামের সঙ্গে মাকুর বিয়ে দেখে আনন্দে দর্শকদের চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। একসময় খেলা শেষ হল। কিন্তু দর্শকেরা বাড়ি যেতে চায় না। ঘড়িওয়ালা বড়ো আলোর নীচে দাঁড়িয়ে চোঙা মুখে ঘোষণা করে।দেয় যে, জন্মদিন উপলক্ষ্যে খেলা আজকের মতো শেষ। দর্শকদের সাধুবাদ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে দর্শকদের আকাশ ফাটানো সাধুবাদের সঙ্গে সঙ্গে চারদিকের গভীর জঙ্গল থেকে গমগম করে তার প্রতিধ্বনি শোনা গেল।

জাদুকর দড়ি টেনে বড়ো আলো নির্ভয়ে দিতে দর্শকরা বাড়ির পথ ধরতে বাধ্য হল। সার্কাস দলের সবাই খুব ক্লান্ত, কারো মুখে কোনো কথা নেই। টিমটিমে ল্যাম্পের আলোয় চারদিকে জিনিসপত্র, পয়সাকড়ি পড়ে রয়েছে। সং-এর দল।আবছায়ায় পয়সা, জিনিসপত্র সংগ্রহ করে জন্মদিনের রাতে মালিকের কাছে জমা করল।

৮. কেমন করে বোঝা গেল যে হোটেলওয়ালাই নোটো অধিকারী?

উত্তর ঃ কাদার কল পেয়ে মাকু এতটাই খুশি হয়েছে যে, আনন্দে সে হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলল। ফুর্তির চোটে মাকু মালিকের দাড়ি খামচে এক লাফে উঠে দাঁড়াতেই সঙ্গে সঙ্গে মালিকের দাড়ি গোঁফ হ্যাঁচকা টানে খুলে মাকুর হাতে উঠে এলো। একেবারে অবাক হয়ে উপস্থিত লোকজন মালিকের মুখের দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেল। সবাই মালিকের চাঁচাছোলা ন্যাড়া মুখে তাকিয়ে দেখল এ তো সেই পালিয়ে যাওয়া নোটো মাস্টার। হোটেলে মালিকের ছদ্মবেশে এতদিন সে নিজের ভোল বদলে সকলের মধ্যে ছদ্মবেশে ছিল। আজ হঠাৎ দাড়ি চাঁচাছোলা ন্যাড়া মুখ সকলের চোখে পড়তেই স্পষ্ট হয়ে গেল এই সেই নোটো অধিকারী।

কীভাবে তাদের বাড়ির লোকেদের সঙ্গে ঘরে দেখে ফিরে এসে সোনা, টিয়া বটতলায় মা-মা করে এদিক-ওদিক দৌড়োতে লাগল। লোকজনের ভিড়ের মধ্যে মামণি ও বাপির সঙ্গে সোনা, টিয়ার দেখা হল। মামণি গোলাপি শাড়ি পরা একজন সুন্দর মহিলা খুক্তি নামিয়ে দৌড়ে এসে দু-হাত বাড়িয়ে তাদের কোলে নিল। এক গোছা মাটির থালা মাটিতে নামিয়ে হাসিমুখে বাপি তাদের সামনে এসে দাঁড়াল। মামণি আর বাপিকে পেয়ে সোনা, টিয়া যখন আনন্দে আটখানা হয়ে গেছে তখন ঝুপ করে পানের চুপড়ি নামিয়ে ছুটে এলো আম্মা। সবাই সোনা, টিয়াকে আদর করতে ব্যস্ত। বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার জন্য কেউ তাদের বকাবকি করল না। ঠামু তাদের দু-বোনকে আদর করবে বলে ব্যস্ত হল। পুলিশ সাহেব পিসেমশাইও এত লোকজনের মধ্য উপস্থিত ছিলেন। সেইসঙ্গে পিসি এবং পিসির কোলে বোম্বাকে সোনা, টিয়া দেখতে পেল।

সোনা, টিয়া জানতে পারল প্রথম থেকেই পিসেমশাই মাকু সেজে তাদের সঙ্গে ছিলেন। বনের মধ্যে আস্তে আস্তে রাত্রি নেমে এলো। পুলিশ সাহেব পিসেমশাই-এর জিপে মামণি, পিসি, ঠামু, আম্মা, বোম্বা, বাপিকে নিয়ে সোনা, টিয়া নিজেদের ঘরে ফিরে এলো।

১০. মাকু কীভাবে কাঁদতে পারল ?

উত্তরঃ ঘড়িওয়ালা নিজের সমস্ত বিদ্যেবুদ্ধি দিয়ে মাকুকে তৈরি করে। কেবলমাত্র কাঁদার কলটি দিতে পারেনি। এখন সোনা মাকুকে কাঁদার কল দেবে কথা দিয়েছিল। সেইজন্য বক্তা সোনাকে বলে যে মাকুকে রোজ বিয়ে দেওয়া হবে কাজেই কাঁদার কল অবশ্যই লাগবে। সোনা ঘড়িওয়ালাকে বলে মাকুর চাঁদি খুলে দেওয়ার জন্য। ঘড়িওয়ালা প্রথমে মাকুর নাকের কল টিপে দিলে মাকু মস্ত একটা হাই তুলে ঘুমিয়ে পড়ে। এবার ঘড়িওয়ালা তার দু-কান ধরে কযে প্যাঁচ দিল। সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর লালচে কোঁকড়া চুলসুদ্ধ মাথার খুলিটা কট করে বাক্সের ঢাকনির মতো খুলে গেল। ভিতরের কলকব্জা দেখার জন্য সবাই ঘড়িওয়ালাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে পড়ে। সোনা এবার জল চাইলে হোটেলওয়ালা গ্লাসে করে জল দেয়। সোনা নিজের পুঁটলি খুলে ফুটো জ্যামের টিন, কেরোসিন তেল ঢালবার ফোঁদল আর বাপির কাজের ঘর থেকে নেওয়া রবারের নল বের করে।

এবার কলকব্জার ফাঁকে জ্যামের টিন বসিয়ে, তার তলায় ফোদল দিয়ে তার মুখে রবার নল লাগিয়ে নলের অন্য দিকটা মাকুর মুণ্ডুর ভিতরে দুটি চোখের মাঝখানে গুঁজে দেয়। এবার গ্লাসের জল টিনে ফেলে পট করে খুলির ঢাকনি বন্ধ করে মাকুর নাকের টিপকল টিপে দিতেই মাকুর ঘুম ভেঙে গেল এবং সে কেঁদে ভাসিয়ে দিল। তার দু-চোখ দিয়ে সমানে টপটপ করে জল পড়ে গালের লাল রং, শার্টের বুক, কোর্টের কলার ভিজে সপসপ করতে লাগল, যতক্ষণ ফোঁটা ফোঁটা করে জল বেরিয়ে টিন ফাঁকা না হয় ততক্ষণ কান্না থামে না। এত কাঁদতে পেরে মাকুও খুব খুশি হল।

১১. ‘মাকু পড়ে তোমার কেমন লাগল সংক্ষেপে লেখো। কোন্ চরিত্রকে সব থেকে ভালো লাগল সে কথাও লেখো।

উত্তর ঃ ‘মাকু” পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে। গল্পটি বারবার পড়েছি। বনের মধ্যে হোটেল, গাছঘর, ঘাসজমিতে বসে সার্কাস দেখা আর নদীতে এসে বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ারের জল পান করা এবং সেইসঙ্গে মাকুর কীর্তিকলাপ আমাকে মুগ্ধ করেছে। গল্প পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমি যেন নিজেই ঘাসজমিতে বসে সুরুয়া আর হাতরুটি খেয়ে সার্কাস দেখছি। লেখিকা লীলা মজুমদার সহজ ভাষায় বিভিন্ন চরিত্র উপস্থাপনা করে যেন জীবন্ত করে তুলেছেন। ‘মাকু’ গল্পটি বারবার পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে কালিয়া বনের ঘাসজমিতে ঘড়িওলা, সং, মাকু, খরগোশ, প্রজাপতি আর সোন, টিয়ার সঙ্গে যেন আমিও রয়েছি।

সোনা নামে ছোটো মেয়েটির চরিত্র আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। ছোটো বোনের হাত ধরে সাহসের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া, টিয়ার মাঝেমাঝেই চোখের জল মুছিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বনের মধ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এককথায় সোনার সাহসিকতা আমাকে আমার চলার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ জুগিয়েছে।

১২. মাকু বইয়ের নাম কি ‘সোনা টিয়ার অ্যাডভেঞ্চার' হলে বেশি ভালো হত? তোমার কী মনে হয় ? এ বিষয়ে তোমার মতামত লেখো

উত্তর : ‘সোনা টিয়ার অ্যাডভেঞ্জার' নামকরণ সত্যিই যথাযথ। তবে গল্পের মূল বিষয়বস্তুর ওপর নামকরণ নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে লেখিকা লীলা মজুমদার-এর 'মাকু' নামকরণ কোনো অংশে অসংগত বলা যায় না। আমার মতে দুটি নামকরণই যথার্থ।