১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লবে কিভাবে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের মধ্যে সংঘাত দেখা দিয়েছিল তা ব্যাখ্যা করো । নবম শ্রেণীর ইতিহাস ।তৃতীয় অধ্যায় - school book solver

Sunday, 19 April 2026

১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লবে কিভাবে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের মধ্যে সংঘাত দেখা দিয়েছিল তা ব্যাখ্যা করো । নবম শ্রেণীর ইতিহাস ।তৃতীয় অধ্যায়

 



প্রশ্ন :  ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লবে কীভাবে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের মধ্যে সংঘাত দেখা দিয়েছিল তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর সংকেত : ভূমিকা রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের সংঘাত : (১) বুরবোঁ রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, (২) পরস্পর- বিরোধী সংঘাত, (৩) অষ্টাদশ লুইয়ের মধ্যপন্থা, (৪) দশম চার্লস-এর পদক্ষেপ, (৫) উদার পন্থীদের সাফল্য, (৬) জুলাই

অর্ডিন্যান্স প্যারিস বিদ্রোহ - উপসংহার।


উত্তর > ভূমিকা : ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লব ছিল ফ্রান্সের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ভিয়েনা সম্মেলনের ন্যায্য অধিকার নীতি মেনে ফ্রান্সে বুরবোঁ রাজতন্ত্র ফিরে এসেছিল, কিন্তু পুরাতন ব্যবস্থার আর কিছুই ফিরে আসেনি। বুরবোঁ রাজা অষ্টাদশ লুই সিংহাসনে বসে ফরাসি বিপ্লবের কিছু গণতান্ত্রিক আদর্শকে স্বীকৃতি দান করেন। তবুও নানা কারণে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের সংঘাত তীব্র হয়ে উঠে।

- রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের সংঘাত : জুলাই বিপ্লবের উল্লেখযোগ্য কারণগুলি বিশ্লেষণ করলে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের মধ্যে সংঘাতের যে-দিকগুলি ফুটে ওঠে তা হল—

[১] বুরবোঁ রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা : বুরবোঁ বংশের রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের সিংহাসন লাভের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাসিত রাজতান্ত্রিকরা পুনরায় দেশে ফিরে আসে এবং স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে তাদের হূত সম্পত্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে। এই ঘটনা ফরাসি জনগণের মনে বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।

[২] পরস্পরবিরোধী সংঘাত : ফরাসি জনসাধারণ দেখে যে, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও আদর্শ রক্ষিত হচ্ছে না। ফলে দেশ আবার উগ্র রাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী এই দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লব ছিল এই দুই দলের পরস্পর বিরোধী আদর্শগত সংঘাতের চরম প্রকাশ।

[৩] অষ্টাদশ লুইয়ের মধ্যপন্থা : সিংহাসন লাভ করে সম্রাট অষ্টাদশ লুই প্রথমে কিছুটা উদারনীতির সঙ্গে একটা মধ্যপন্থা অনুসরণ করে চলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের পর অষ্টাদশ লুই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেন।

[৪] দশম চার্লস-এর পদক্ষেপ : ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট অষ্টাদশ লুইয়ের মৃত্যুর পর দশম চার্লস সিংহাসনে বসলে ফ্রান্সে চরম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে। দশম চার্লসের প্রথম দুই মন্ত্রীদ্বয় ভিলল এবং মার্টিনাক প্রতিক্রিয়াশীল নীতি অনুসরণ করেছিলেন।

[৫] উদারপন্থীদের সাফল্য : দশম চার্লস কর্তৃক প্রবর্তিত প্রতিক্রিয়াশীল আইনের ফলে উদারপন্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং আইনসভার নির্বাচনে তারা সাফল্য অর্জন করে। উদারপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধিতে ভয় পেয়ে পরবর্তী মন্ত্রী মার্টিনাককে সরিয়ে দশম চার্লস যাজক ও অভিজাত সম্প্রদায়ের সমর্থক প্রিন্স পলিগ‍ন‍্যাক নামে এক প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তিকে মন্ত্রীপদে নিযুক্ত করেন এবং

উদারনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত করে স্বৈরাচারী শাসন স্থাপনের ষড়যন্ত্র করতে থাকেন ৷

[৬] জুলাই অর্ডিন্যান্স : ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সংকট দূর করা এবং উদারপন্থীদের সমস্ত বিরোধিতা স্তব্ধ করা, জনসাধারণের স্বার্থ ও অধিকার খর্ব করার উদ্দেশ্যে পলিগন্যাক চারটি

অর্ডিন্যান্স বা জরুরি আইন জারি করেন (২৫ জুলাই, ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দ)। এই আদেশগুলি হল- (১) প্রতিনিধিসভা ভেঙে দেওয়া, (২) ভোটদাতাদের সংখ্যা হ্রাস করা, (৩) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা এবং (৪) জাতীয় সভার নতুন নির্বাচনের আদেশ দেওয়া।

প্যারিস বিদ্রোহ : জুলাই অর্ডিন্যান্স জারি হওয়ার পরের দিনই প্যারিসে বিদ্রোহ শুরু হয় (১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই)।

উদারপন্থী নেতা অ্যাডলফ থিয়ার্সের নেতৃত্বে তিনদিনের মধ্যেই বিদ্রোহীরা জয়যুক্ত হয় এবং দশম চার্লসকে সিংহাসনচ্যুত করে। প্রগতিশীল বলে পরিচিত অর্লিয়েন্সের ডিউক লুই ফিলিপ ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন।

উপসংহার : জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের পতন হয় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় প্রজাতন্ত্র। অচিরেই বিপ্লবের ঢেউ ফ্রান্সের সীমানা অতিক্রম করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয়তাবাদ ও উদারতন্ত্রের বিকাশ ঘটায় ।