জ্ঞানচক্ষু গল্পের বিষয় সংক্ষেপ। দশম শ্রেণী। জ্ঞানচক্ষু গল্প
![]() |
জ্ঞানচক্ষু গল্পের বিষয়সংক্ষেপ:
আশাপূর্ণা দেবী তাঁর ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পটিতে শিশুমনের অনুভূতির জগতের এক অদ্ভুত ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। তপন আর-পাঁচটা শিশুর মতোই গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে। নিজের মনে মনে সেই গল্পের লেখকদের সে ভিন গ্রহের কোনো আশ্চর্য মানুষ ভেবে একটা আলাদা জায়গায় স্থান দেয়। তার কাছে এটা অজানা ছিল যে, লেখকরাও আর-পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই। কিন্তু তার ছোটোমাসির বিয়ের পর তপন যখন জানতে পারে তার নতুন মেসোমশাই অধ্যাপক হওয়ার পাশাপাশি একজন সত্যিকারের লেখক, তখন তার স্বপ্নের লেখক ক্রমশ বাস্তবে নেমে আসে। জলজ্যান্ত লেখককে সামনাসামনি দেখে এই প্রথম তপন বুঝতে পারে লেখকরা আসলে তার বাবা, কাকা, মামাদের মতোই সাধারণ মানুষ, তার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। গরমের ছুটিতে তপন মামারবাড়িতে কয়েকদিন থেকে যায়। ওদিকে একই কারণে মেসোমশাইও শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তাই জলজ্যান্ত লেখককে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় তপনের, আর তা থেকেই তার মনে লেখক হওয়ারয ইচ্ছে জাগে। দুপুরে সকলের দিবানিদ্রার সুযোগে তিনতলার সিঁড়িতে সে তার হোমটাস্কের খাতায় আস্ত একটা গল্প লিখে ফেলে। তারপর নিজেই তা পড়ে শিহরিত হয়ে ওঠে। উপর থেকে নেমে তার কাছের মানুষ ছোটোমাসিকে তা দেখায়। ছোটোমাসি হইচই শুরু করে এবং ছোটো মেসোমশাইকে সেটা দেখায়। তখন মনে মনে মৃদু উত্তেজনা অনুভব করে। ছোটোমাসির অনুরোধে আর নতুন শ্বশুরবাড়ির সকলের মন রাখতে মেসোমশাই তপনের গল্পের প্রশংসা করেন এবং সামান্য কারেকশনে যে তা ছাপানো যেতে পারে সে-কথাও বলেন। মাসির পীড়াপীড়িতে তিনি ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় গল্পটি ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেবেন বলে কথা দেন ।
ইতিমধ্যে তপন মামার বাড়ি থেকে ফিরে আসে। বাড়ির সকলে তাকে কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী বলে ঠাট্টাতামাশা করে। একদিন সন্ধ্যায় মাসি-মেসো 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকাসহ হাজির। তা দেখে তপনের বুকের রক্ত ছলাত করে ওঠে। তার মনে হয় পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে! 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার সূচিপত্রে তার নাম দেখে সারাবাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। এত আনন্দের মাঝেও কোনো এক অজানা কারণে তপনের মনখারাপ করে। তার মা তাকে গল্পটা পড়তে বলেন। লজ্জা ভেঙে পড়তে যায় তপন। তারপর সে গড়গড়িয়ে পড়ে চলে নিজেরই লেখা অজানা সব লাইন। সবাই ধন্য ধন্য করে। কিন্তু তপনের চোখে জল আসে। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যে, কোনোদিন কাউকে লেখা ছাপাতে দেবে না। নিজের লেখা সে নিজের হাতেই দিয়ে আসবে পত্রিকার দফতরে। তার কাঁচা হাতের লেখা যদি সুপারিশের অভাবে ছাপা না-হয় তাতেও তার দুঃখ থাকবে না। আসলে ‘একটু-আধটু কারেকশন'-এর নাম করে ছোটোমেসো তার লেখা গল্পটা আগাগোড়াই বদলে দিয়েছেন। সে-লেখার কোথাও তপনের কোনো ভূমিকা নেই। তাই এ হল ছোট্ট
তপনের কাছে আত্মগ্লানির দিন, আত্মপ্রসাদের নয়। আজ তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেছে। অন্তদৃষ্টি দিয়ে সে বিচার করতে শুরু করেছে সত্য-মিথ্যার সবকিছু সে বুঝতে শিখেছে।
