রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই। কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। জ্ঞানচক্ষু গল্প || দশম শ্রেণী
![]() |
প্ৰশ্ন: ‘রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
'
উত্তর: উদ্ধৃতিটি আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে গৃহীত। 'জহর'
অর্থাৎ মূল্যবান রত্ন, আর মূল্যবান রত্ন বিশেষজ্ঞকে জহুরি বলা হয়। এক্ষেত্রে
জহুরি বলতে নতুন মেসোকে বোঝানো হয়েছে। লেখক-মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন একটা আস্ত গল্প লিখে মাসিকে দেখায়। মাসি তা নিয়ে সারাবাড়িতে শোরগোল বাধিয়ে তার লেখক-স্বামীকে দেখাতে যায়। তপন ব্যাপারটায় আপত্তি তুললেও মনে মনে পুলকিত হয় এই ভেবে যে, তার লেখার মূল্য একমাত্র যদি কেউ বোঝে তবে ছোটোমেসোই বুঝবে, কেন-না জহুরির জহর চেনার মতো একজন লেখকই পারে কোনো লেখার মূল্যায়ন করতে।
প্রশ্ন: 'তখন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয়।'-মাসি কেন হইচই করেছিল?
উত্তর:- গরমের ছুটিতে মামার বাড়িতে এসে নতুন মেসোকে দেখে তপনের
মনে লেখক সম্পর্কে যেসব ধারণা ছিল তা ভেঙে যায়। জলজ্যান্ত লেখকের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তপন অনুপ্রাণিত হয়ে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে। আর তা মাসির হাতে পড়ায় মাসি হইচই শুরু করে দেয় এবং তা নিয়ে তার লেখক স্বামীর কাছে যায়। এতে লাজুক তপন অপ্রস্তুত হলেও মনে মনে পুলকিত হয়, কারণ তার লেখার প্রকৃত মূল্য কেউ বুঝলে তা নতুন মেসোই বুঝবে।
প্রশ্ন:- মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা।–কোন্ কাজকে মেসোর উপযুক্ত কাজ বলা হয়েছে?
উত্তর: লেখকরা যে সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে নতুন মেসোকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল। তপন নতুন মেসোকে অহরহ কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা আস্ত গল্প লিখে তার প্রিয় ছোটোমাসিকে দেখায়। গল্পটি নিয়ে ছোটোমাসি রীতিমতো হইচই ফেলে দেয়। শুধু তাই মেসোর উপযুক্ত কাজ নয়, মাসি গল্পটি তার লেখক স্বামীকেও দেখায়। গল্প দেখে তিনি সামান্য কারেকশন করে দিলে সেটা যে ছাপা যেতে পারে এ কথা বলেন। আর এ কথা শুনেই মাসি সেটা ছাপিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়, যেটা কিনা তপনের মেসো হিসেবে উপযুক্ত কাজ হবে।
